০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

১২ বছর-চার কিঃমিঃ সড়কে চরম দুর্ভোগ

ইস, রে- মানুষ কিভাবে চলাচল করছে এসড়ক দিয়ে-? এই মেঘনার পাড়ের বেরিবাঁধ সড়কের গ্রামের মানুষের এতো দুর্ভোগ তো সহ্য করার মত না। আগামি আইনশৃংখলা ও সমন্বয় সভায় এ ঝুকিপুর্ণ বেহাল সড়কটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ।

মেঘনা নদী সংলগ্ন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়ক বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়াও হাইমচর, চরভৈরবিসহ ৬টি ইউনিয়নবাসী ১২ বছর ধরে বড় বড় খানাখন্দে ভরা। ইউপি নির্বাচনের সময় এলেই সাংসদসহ চেয়ারম্যানরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন- এই দূর্ভোগের শেষ কোথায় ?

সরজমিন জানা যায়, রায়পুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার. দুরে মেঘনার সংলগ্ন গুরুত্বপুর্ণ বেরিবাঁধ সড়ক। এসড়ক দিয়ে চাঁদপুরের হাইমচর ও চরভৈরবিসহ রায়পুরের উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল, উত্তর চরবংশি ও দক্ষিন চরবংশি ইউনিয়ন তথা-পশ্চিমের গ্রামগুলোতে সহজ যাতায়াতের জন্য সহজ মাধ্যম এ সড়ক। গত ১২ বছর ধরে সংস্কার না করা ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিলো।

জানা যায়, মেঘনা নদী সংলগ্নে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমির উৎপাদিত সবজিসহ কৃষি পন্য এই সড়ক দিয়ে সহজে শহরে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এছাড়া মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এ বেরিবাঁধ সড়কটি।

অটোরিক্সা চালক হাবিবুর রহমান জানান, রায়পুর শহরের মানুষসহ মেঘনার ৬টি ইউনিয়নবাসী বড় বড় গর্তে বেহাল বেরিবাঁধ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রয়োজনের তাগিদে বেরিবাঁধ সড়কের পরিবর্তে অনেক কষ্ট করে পাশের কাঁচা মাটি দিয়ে চরম ঝুকি নিয়েই চলাচল করছি।

উপকূলী এলাকার হায়দরগঞ্জ উপশহরের বন্ধন একাডেমির অধ্যক্ষ আল আমিন জানান, কম সময়ে সহজে চলাচলের জন্যে এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। অথচ এ রাস্তাটির এখন যে অবস্থা তাতে যানবাহন তো দুরের কথা ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজনে ওই রাস্তায় গেলে সেদিন ওষুধ খেতে হয় আমাদের।

উত্তর চরআবাবিল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্লাহ বিএসসি বলেন, গত ১২ বছর ধরে বেহাল সড়কটি চলচলে মানুসের চলাচলে শেষ নাই। সংস্কারের জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রনালয়ে এরাস্তার নামই নাই। পরে উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটি সভায় রেজুলেশান করে মন্ত্রনালয়ে পাঠাই। এবার তোমাদের লেখালেখিতে যদি রাস্তাটি সংস্কার হয় তবেই ৬টি ইউনিয়নের মানুষ স্বস্তি পাবে বলে আমি আশাবাদি।।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ জানান, মেঘনা নদী সংলগ্নে সড়কটির এ অবস্থায় ৬টি ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তা নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে না আসলে বুঝতামনা। এই ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ্য হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়বে এই সড়কটির কারণে। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থানেয়া হচ্ছে।

এলজিইডির রায়পুর কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়কটি উপজেলার উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বাংলাবাজার রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চাঁদপুরের চরভৈরবি লঞ্চঘাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তা। জেলা, উপজেলা ও মন্ত্রনালয়ে এসড়কের নামই নাই। বিষয়টি মাসিক আইনশৃংখলা সভায় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থাপন করলে পরে রায়পুরের সাংসদ নয়ন স্যার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের তদবিরে অবশেষে সব ঠিক করে ফাইল পাঠানো হয়েছে। গেজেট আসলে তখন সংস্কার করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১২ বছর-চার কিঃমিঃ সড়কে চরম দুর্ভোগ

প্রকাশিত : ০৭:১১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ইস, রে- মানুষ কিভাবে চলাচল করছে এসড়ক দিয়ে-? এই মেঘনার পাড়ের বেরিবাঁধ সড়কের গ্রামের মানুষের এতো দুর্ভোগ তো সহ্য করার মত না। আগামি আইনশৃংখলা ও সমন্বয় সভায় এ ঝুকিপুর্ণ বেহাল সড়কটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ।

মেঘনা নদী সংলগ্ন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়ক বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়াও হাইমচর, চরভৈরবিসহ ৬টি ইউনিয়নবাসী ১২ বছর ধরে বড় বড় খানাখন্দে ভরা। ইউপি নির্বাচনের সময় এলেই সাংসদসহ চেয়ারম্যানরা সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন- এই দূর্ভোগের শেষ কোথায় ?

সরজমিন জানা যায়, রায়পুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার. দুরে মেঘনার সংলগ্ন গুরুত্বপুর্ণ বেরিবাঁধ সড়ক। এসড়ক দিয়ে চাঁদপুরের হাইমচর ও চরভৈরবিসহ রায়পুরের উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল, উত্তর চরবংশি ও দক্ষিন চরবংশি ইউনিয়ন তথা-পশ্চিমের গ্রামগুলোতে সহজ যাতায়াতের জন্য সহজ মাধ্যম এ সড়ক। গত ১২ বছর ধরে সংস্কার না করা ও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এই সড়ক নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিলো।

জানা যায়, মেঘনা নদী সংলগ্নে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমির উৎপাদিত সবজিসহ কৃষি পন্য এই সড়ক দিয়ে সহজে শহরে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এছাড়া মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এ বেরিবাঁধ সড়কটি।

অটোরিক্সা চালক হাবিবুর রহমান জানান, রায়পুর শহরের মানুষসহ মেঘনার ৬টি ইউনিয়নবাসী বড় বড় গর্তে বেহাল বেরিবাঁধ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রয়োজনের তাগিদে বেরিবাঁধ সড়কের পরিবর্তে অনেক কষ্ট করে পাশের কাঁচা মাটি দিয়ে চরম ঝুকি নিয়েই চলাচল করছি।

উপকূলী এলাকার হায়দরগঞ্জ উপশহরের বন্ধন একাডেমির অধ্যক্ষ আল আমিন জানান, কম সময়ে সহজে চলাচলের জন্যে এ রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। অথচ এ রাস্তাটির এখন যে অবস্থা তাতে যানবাহন তো দুরের কথা ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজনে ওই রাস্তায় গেলে সেদিন ওষুধ খেতে হয় আমাদের।

উত্তর চরআবাবিল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্লাহ বিএসসি বলেন, গত ১২ বছর ধরে বেহাল সড়কটি চলচলে মানুসের চলাচলে শেষ নাই। সংস্কারের জন্য অনেক চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রনালয়ে এরাস্তার নামই নাই। পরে উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটি সভায় রেজুলেশান করে মন্ত্রনালয়ে পাঠাই। এবার তোমাদের লেখালেখিতে যদি রাস্তাটি সংস্কার হয় তবেই ৬টি ইউনিয়নের মানুষ স্বস্তি পাবে বলে আমি আশাবাদি।।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ জানান, মেঘনা নদী সংলগ্নে সড়কটির এ অবস্থায় ৬টি ইউনিয়নের মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তা নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে না আসলে বুঝতামনা। এই ইউনিয়নের কেউ অসুস্থ্য হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়বে এই সড়কটির কারণে। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থানেয়া হচ্ছে।

এলজিইডির রায়পুর কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বেরিবাঁধ সড়কটি উপজেলার উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বাংলাবাজার রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চাঁদপুরের চরভৈরবি লঞ্চঘাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তা। জেলা, উপজেলা ও মন্ত্রনালয়ে এসড়কের নামই নাই। বিষয়টি মাসিক আইনশৃংখলা সভায় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থাপন করলে পরে রায়পুরের সাংসদ নয়ন স্যার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের তদবিরে অবশেষে সব ঠিক করে ফাইল পাঠানো হয়েছে। গেজেট আসলে তখন সংস্কার করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর