০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পদ্মার চরে ব্যস্ত সময় পার করছে বাদাম চাষীরা

পদ্মা নদীর তীর জুড়ে এখন বাদাম লাগানোর ব্যস্ততা। এ বছর নদী তীরবর্তী এলাকা রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর, হাবাসপুর, শাহামীরপুর, চর-আফড়া এবং চর-রামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার চরে হচ্ছে বাদামের আবাদ। এখানকার মাটি বাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় দিতে হয় না কোনো অতিরিক্ত সার কীটনাশক। আর বাদামের মান ভালো হওয়ায় প্রতিবছর বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কৃষক খোলিল মন্ডল বলেন, আমি ছোট্ট থেকেই এই বাদাম চাষের সাথে জড়িত। গতবছর আমার বাদামের জমি ছিল ১০ বিঘা। ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পেরেছিলাম আর দুই বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পারিনি অতি খরার কারণে পুড়ে গিয়েছিল। গতবার আমার আট বিঘা জমিতে লাভ হয়েছিল ১০,০০০ টাকা। কৃষক সালাম খান বলেন, বাদাম চাষে তেমন কোন খরচ নেই। চরের মাটি উর্বরের কারণে আমরা শুধু বাদামের বীজ লাগিয়ে চলে যাই, স্যার, কীটনাশক কিছুই দিতে হয়না। উঠানোর সময় এসে উঠিয়ে নিয়ে যায় তাও ১বিঘায় ৮মন করে বাদাম পাই। তবে যদি অতিরিক্ত খরার সময় পানি দেই তাহলে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মন করে বাদাম উৎপন্ন করা যায়। কৃষক কুদ্দুস মোল্লা বলেন, গতবার আমাদের বাদাম ছিল ১৫ বিঘা। আমাদের বাদাম অনেক সুন্দর হয়েছিল। গতবার একটা বাদামও নষ্ট না হয়ার কারণে এবার ভাবছি আরেকটু বেশি বাদাম লাগাবো। আল্লাহ যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেয় তাহলে এবারও বাদাম ভাল পাবো বলে আশা করছি। পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন, আমাদের পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এবং বাহাদুরপুর পদ্মার পারে যে চর জেগে উঠেছে সেই চরে পূর্ব থেকেই বাদাম চাষ হয়ে আসে। তবে এ বছর বাদাম চাষের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি এ বছর প্রায় ৭০০ একর জমিতে বাদাম চাষ হবে। আমাদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে বাদাম বিতরণ করেছে এবং কৃষকরা নিজেদের মতো বাদামের বীজ সংগ্রহ করে বাদাম চাষাবাদ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের যে অগ্রগতি তাতে ৩৫০ হেক্টরের উপরে বাদাম লাগানো শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি যে প্রায় ৭০০ হেক্টরের উপরে বাদাম চাষাবাদ করতে পারবো এবং আমরা এ বছর বিনা চিনা বাদাম-৪, বিনা চিনা বাদাম-৮ দুটি উন্নত মানের বাদামের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছি। আশাবাদ ব্যক্ত করছি যে এই বাদাম দুটি আমাদের এই পাংশায় ছড়িয়ে পড়বে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পদ্মার চরে ব্যস্ত সময় পার করছে বাদাম চাষীরা

প্রকাশিত : ০৮:৩০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

পদ্মা নদীর তীর জুড়ে এখন বাদাম লাগানোর ব্যস্ততা। এ বছর নদী তীরবর্তী এলাকা রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর, হাবাসপুর, শাহামীরপুর, চর-আফড়া এবং চর-রামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার চরে হচ্ছে বাদামের আবাদ। এখানকার মাটি বাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় দিতে হয় না কোনো অতিরিক্ত সার কীটনাশক। আর বাদামের মান ভালো হওয়ায় প্রতিবছর বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কৃষক খোলিল মন্ডল বলেন, আমি ছোট্ট থেকেই এই বাদাম চাষের সাথে জড়িত। গতবছর আমার বাদামের জমি ছিল ১০ বিঘা। ১০ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পেরেছিলাম আর দুই বিঘার জমির বাদাম উঠাতে পারিনি অতি খরার কারণে পুড়ে গিয়েছিল। গতবার আমার আট বিঘা জমিতে লাভ হয়েছিল ১০,০০০ টাকা। কৃষক সালাম খান বলেন, বাদাম চাষে তেমন কোন খরচ নেই। চরের মাটি উর্বরের কারণে আমরা শুধু বাদামের বীজ লাগিয়ে চলে যাই, স্যার, কীটনাশক কিছুই দিতে হয়না। উঠানোর সময় এসে উঠিয়ে নিয়ে যায় তাও ১বিঘায় ৮মন করে বাদাম পাই। তবে যদি অতিরিক্ত খরার সময় পানি দেই তাহলে বিঘায় ১০ থেকে ১২ মন করে বাদাম উৎপন্ন করা যায়। কৃষক কুদ্দুস মোল্লা বলেন, গতবার আমাদের বাদাম ছিল ১৫ বিঘা। আমাদের বাদাম অনেক সুন্দর হয়েছিল। গতবার একটা বাদামও নষ্ট না হয়ার কারণে এবার ভাবছি আরেকটু বেশি বাদাম লাগাবো। আল্লাহ যদি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেয় তাহলে এবারও বাদাম ভাল পাবো বলে আশা করছি। পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন, আমাদের পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এবং বাহাদুরপুর পদ্মার পারে যে চর জেগে উঠেছে সেই চরে পূর্ব থেকেই বাদাম চাষ হয়ে আসে। তবে এ বছর বাদাম চাষের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করছি এ বছর প্রায় ৭০০ একর জমিতে বাদাম চাষ হবে। আমাদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের মাঝে বাদাম বিতরণ করেছে এবং কৃষকরা নিজেদের মতো বাদামের বীজ সংগ্রহ করে বাদাম চাষাবাদ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের যে অগ্রগতি তাতে ৩৫০ হেক্টরের উপরে বাদাম লাগানো শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি যে প্রায় ৭০০ হেক্টরের উপরে বাদাম চাষাবাদ করতে পারবো এবং আমরা এ বছর বিনা চিনা বাদাম-৪, বিনা চিনা বাদাম-৮ দুটি উন্নত মানের বাদামের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছি। আশাবাদ ব্যক্ত করছি যে এই বাদাম দুটি আমাদের এই পাংশায় ছড়িয়ে পড়বে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর