গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাঘারপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. ইকবাল হোসেন বাচ্চু (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ির উপর হামলা চালিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই ব্যবসায়িকে মারধর করে তাকে রেল লাইনে ফেলে চলে যায় মো. মোশারফ হোসেন শুক্কুর (৪৫) ও তার লোকজন।
শনিবার (১৯ ফেব্রয়ারি) দুপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ৫নং বেডে শুয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান। এর আগে ঘটনার পরই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান মারধরের শিকার ওই ব্যবসায়ি।
অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন শুক্কুর কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বাঘারপাড়া গ্রামের মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। অন্যদিকে, ইকবাল হোসেন বাচ্চু একই ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে তোয়ালের ব্যবসা করেন।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন শুক্কুরের সাথে ইকবাল হোসেন বাচ্চু ও তার পরিবারের বিভিন্ন বিষয়য়াদি নিয়ে শত্রæতা চলছিল। এ কারণে শুক্কুর তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আপোষ মিমাংসায় ব্যর্থ হন বাচ্চু। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ফেব্রয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার প¦ার্শবর্তী ঘোড়াশাল বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরার পথে কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের বাঘারপাড়া নামকস্থানে শুক্কুরসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাচ্চুর পথ রোধ করেন। এ সময় তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনকে গালাগাল করে বাচ্চুর উপর হামলা চালায়। এতে বাচ্চুর হাতে, পায়ে ও মুখে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বাচ্চুকে মারধর করে রেল লাইনে ফেলে চলে যায়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন শুক্কুর বলেন, তাকে আমি মারধর করিনি, তার কাছ থেকে টাকাও ছিনিয়ে নেইনি। তবে পূর্বের একটি বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আমার তর্কাতর্কি হয়েছে। এছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মিমাংশার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) এইচ.এম ইমন জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ইকবাল হোসেন বাচ্চু। তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত শেষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















