০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে জলে ভাসা জমিতে ধান চাষ শুরু করেছেন কৃষাণ- কৃষাণীরা

ভাগ্যের উপর নির্ভর করে কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে রবি মৌসুমে ধান চাষ শুরু করেছেন কৃষাণ -কৃষাণীরা। শুরু করেছেন বিলাইছড়ি’র রাইংখ্যং এলাকার চাষীরাও। লেক বা হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে জেগে উঠেছে চরগুলো।জেগে উঠেছে বিলাইছড়ি উপজেলার রাইংখ্যং খালের পাড়ে জেগে উঠা জলেভাসা জমিগুলো।

ফলে চাষাবাদের আবারও উপযোগী হয়ে উঠেছে উপজেলার আনাসে – কানাসে প্রায় এলাকা। চাষ করছেন নিজ লিজভুক্ত জমিতে। আবার কেউ কেউ চাষ করছেন বর্গা হিসেবে।

বিশেষ করে জেগে উঠেছে কুতুবদিয়া, বাজার ঘাট, ধূপ্যাচর,দীঘল ছড়ি,আমতলা,নাড়াইছড়ি, বেগেনা ছড়ি, বাঙ্গালকাটা, ভালাছড়ি, হাজাছড়া, মাইতকাবাছড়া, সাক্রাছড়ি, তিনকুনিয়া, আলেখ্যং এলাকা সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। ফলে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক বা চাষীরা।

এ বিষয়ে বেশ কয়েক জন কৃষক বা চাষীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবছরে যথাসময়ে হ্রদের পানি শুকানোর ফলে জমিতে পাম্প মেশিন ব্যবহার করে বেশ আশা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা তাদের নিজ সামর্থ্য অনুসারে।

অন্যদিকে, আরো অনেক চাষীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,এ বছর ঢল না হওয়ার কারণে জমিগুলোতে পলি না পড়ায় প্রযুক্তি ছাড়া চাষাবাদ করলে কোনো ভাবে ঘরে ফসল আসবে না। এজন্য প্রয়োজন হাল চাষ করার মত মেশিন, পাম্প মেশিন সহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি। অন্যজনের থেকেও সময় মত মেশিন পাওয়া যায় না অপেক্ষা করতে হয় বলেও জানান।

তারা আরও জানান, যে মেশিন গুলো আছে সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া এগুলো বেশির ভাগ ব্যক্তিগত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিভূতি-ভূষণ চাকমা’র সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলায় মোট ৮০০ পরিবারের মাঝে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ সহ অন্যান্য বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সাধারণত শীতকালীন সময়টাকে রবি মৌসুম সময়কাল হিসেবে ধরা হয়। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত অর্থাৎ মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত রবি মৌসুম বলে। এ সময়ে যে শস্য বা ফসলের চাষাবাদ হয় এদের রবি শস্য বা রবি ফসল বলে।

চাষাবাদ কৃত শস্যের বীজ বা চারা রোপন করে পরবর্তী সময়ে গীষ্মকালে ধান সহ সবধরনের ফসল ঘরে তোলা হয়।অন্যদিকে চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে।

তাই এইসব এলাকায় গীষ্মকালে প্রচন্ড গরম ও অনাবৃষ্টির ফলে ঠিকমত সেচের ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনিতেই মরে যায় চাষযোগ্য কৃষি জমি বা শস্য । অন্যদিকে, সাগরে নিম্নচাপ হলে অতিবৃষ্টির হলে ঢলে ভেসে যায় জমির ধানসহ সব ধরনের শস্য। এজন্য ভাগ্যে উপর নির্ভর করতে এখানকার বেশীর ভাগ চাষীদের।

তাই এইসব এলাকায় চাষ করতে হলে একদিকে জমির উপর দিয়ে অনেকের এক কিলোমিটার মত পাইপ ক্রয় করা, অন্যদিকে জ্বালানি তৈলের দাম বৃদ্ধি, পাম্প মেশিন ও হালচাষের মেশিন ক্রয় করার মত কয়জনেরই সামর্থ্য রয়েছে।

ফলে জমিগুলো বেশ উপযোগী করতে এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও শক্ত ড্রেন,নালা ও সেচ ব্যবস্থাসহ সরকারের সবধরনের সহযোগিতা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কাপ্তাই হ্রদে জলে ভাসা জমিতে ধান চাষ শুরু করেছেন কৃষাণ- কৃষাণীরা

প্রকাশিত : ০৪:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ভাগ্যের উপর নির্ভর করে কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসা জমিতে রবি মৌসুমে ধান চাষ শুরু করেছেন কৃষাণ -কৃষাণীরা। শুরু করেছেন বিলাইছড়ি’র রাইংখ্যং এলাকার চাষীরাও। লেক বা হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে জেগে উঠেছে চরগুলো।জেগে উঠেছে বিলাইছড়ি উপজেলার রাইংখ্যং খালের পাড়ে জেগে উঠা জলেভাসা জমিগুলো।

ফলে চাষাবাদের আবারও উপযোগী হয়ে উঠেছে উপজেলার আনাসে – কানাসে প্রায় এলাকা। চাষ করছেন নিজ লিজভুক্ত জমিতে। আবার কেউ কেউ চাষ করছেন বর্গা হিসেবে।

বিশেষ করে জেগে উঠেছে কুতুবদিয়া, বাজার ঘাট, ধূপ্যাচর,দীঘল ছড়ি,আমতলা,নাড়াইছড়ি, বেগেনা ছড়ি, বাঙ্গালকাটা, ভালাছড়ি, হাজাছড়া, মাইতকাবাছড়া, সাক্রাছড়ি, তিনকুনিয়া, আলেখ্যং এলাকা সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। ফলে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক বা চাষীরা।

এ বিষয়ে বেশ কয়েক জন কৃষক বা চাষীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবছরে যথাসময়ে হ্রদের পানি শুকানোর ফলে জমিতে পাম্প মেশিন ব্যবহার করে বেশ আশা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা তাদের নিজ সামর্থ্য অনুসারে।

অন্যদিকে, আরো অনেক চাষীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,এ বছর ঢল না হওয়ার কারণে জমিগুলোতে পলি না পড়ায় প্রযুক্তি ছাড়া চাষাবাদ করলে কোনো ভাবে ঘরে ফসল আসবে না। এজন্য প্রয়োজন হাল চাষ করার মত মেশিন, পাম্প মেশিন সহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি। অন্যজনের থেকেও সময় মত মেশিন পাওয়া যায় না অপেক্ষা করতে হয় বলেও জানান।

তারা আরও জানান, যে মেশিন গুলো আছে সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া এগুলো বেশির ভাগ ব্যক্তিগত।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিভূতি-ভূষণ চাকমা’র সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, উপজেলায় মোট ৮০০ পরিবারের মাঝে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ সহ অন্যান্য বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সাধারণত শীতকালীন সময়টাকে রবি মৌসুম সময়কাল হিসেবে ধরা হয়। আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত অর্থাৎ মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত রবি মৌসুম বলে। এ সময়ে যে শস্য বা ফসলের চাষাবাদ হয় এদের রবি শস্য বা রবি ফসল বলে।

চাষাবাদ কৃত শস্যের বীজ বা চারা রোপন করে পরবর্তী সময়ে গীষ্মকালে ধান সহ সবধরনের ফসল ঘরে তোলা হয়।অন্যদিকে চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে।

তাই এইসব এলাকায় গীষ্মকালে প্রচন্ড গরম ও অনাবৃষ্টির ফলে ঠিকমত সেচের ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনিতেই মরে যায় চাষযোগ্য কৃষি জমি বা শস্য । অন্যদিকে, সাগরে নিম্নচাপ হলে অতিবৃষ্টির হলে ঢলে ভেসে যায় জমির ধানসহ সব ধরনের শস্য। এজন্য ভাগ্যে উপর নির্ভর করতে এখানকার বেশীর ভাগ চাষীদের।

তাই এইসব এলাকায় চাষ করতে হলে একদিকে জমির উপর দিয়ে অনেকের এক কিলোমিটার মত পাইপ ক্রয় করা, অন্যদিকে জ্বালানি তৈলের দাম বৃদ্ধি, পাম্প মেশিন ও হালচাষের মেশিন ক্রয় করার মত কয়জনেরই সামর্থ্য রয়েছে।

ফলে জমিগুলো বেশ উপযোগী করতে এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও শক্ত ড্রেন,নালা ও সেচ ব্যবস্থাসহ সরকারের সবধরনের সহযোগিতা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর