গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার সময় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ষোলদাগ গ্রামে ষোলদাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জাকিরুলের কলা বাগান থেকে বিভৎসভাবে আগুনে পোড়া এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা যায় মরদেহটি একজন নারীর এবং বয়স আনুমানিক ২৭ বছর। প্রথমে মরদেহটির নাম বা পরিচয় না পাওয়া গেলেও চঞ্চল্যকর ঘটনাটি মূহুর্তের মধ্যে ভেড়ামারাসহ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভীড় জমায় এবং সাথে সাথে শুরু হয় খোঁজ খবর। খোঁজ খবরের এক পর্যায়ে চঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন হতে শুরু করে ।
সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত মরদেহটি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া এলাকার জ্যোতি তেল পাম্প এলাকার সিরাজুল বিশ্বাস ও সালেহা বেগমের মেয়ে সজনী’র। গত ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে ভেড়ামারার ষোলদাগ এলাকার সলিম মন্ডলের ছেলে লালনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সজনীর। সে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জননী। সে কয়েক দিন আগে ছেলে ও মেয়েকে স্বামীর বাড়ীতে রেখে একাই বাবার বাড়ীতে চলে আসে। লালন দিন মজুর হিসাবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।
গত ১৫ ফেব্র“য়ারি স্বামী লালন এসে জোর করে সজনীকে তার বাবার বাড়ী থেকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেই সময় সজনী তার পরিবারের লোকজনকে পাঠাতে নিষেধ করলেও তাকে তার স্বামীর সাথে পাঠানো হয়। শশুর বাড়ী যাওয়ার সময় সজনী তাকে নির্যাতনের বিষয়টি তার ফুফু বেগমকে জানান। তবে কি কারণে নির্যাতন করতো তা জানায়নি ।
নিহতের স্বজনরা জানান, জামাইডার মনে হয় অন্য জায়গায় সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের চৌদ্দ পনের বছরে তাদের মধ্যে কোন সমস্যা না থাকলেও গত সাত আট মাস জামাই মেয়েটাকে খুবই হাল অবস্থা করে। বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে যাওয়ার পর কোন এনজিও থেকে সজনীর নামে লোন তুলেছে বলে জানা গেছে ।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালন তার শ^শুরের কাছে ফোন করে কুশলাদি বিনিময়ও করেন বলেন জানান সজনির ফুপু বেগম। কিন্তু ঐ দিন রাত আনুমানিক ১০টা সময় জামাই লালন তার শ^শুরকে ফোন করে জানায় সজনীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। লোন উঠানো ৫০ হাজার টাকার মধ্য থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে সজনী অন্য কারো সাথে ভেগে গেছে বলে শশুরের কাছে অভিযোগ করেন লালন।
সজনীর ফুফু বেগম আরো জানান, ঘটনা শোনার পর পরই আমারা মেয়েকে আত্বীয় স্বজনের বাড়ীতে খোঁজাখুজি শুরু করি। কিন্তু কিছুক্ষন পর লালন (জামাই) আবার ফোন করে বলেন, আপনাদের মেয়ে বাসায় আছে আপনারা চলে আসেন। সেই মোতাবেক নিহত সজনীর ফুফু, মা পরিবারের অন্য সদস্যরা লালনের বাড়ীতে গেলে লালন তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলে, তোরা কোন জায়গায় আমার বৌকে রেখে এসেছিস, কার সাথে বার করে দিছিস, তাড়াতাড়ি মেয়ে দে । তখন সজনীর বাড়ীর লোকজন লালনকে বলেন, তুমি জোর করে মেয়ে নিয়ে না আসলে এই ঘটনা ঘটত না। সেই সময় লালন নিহত সজনীর বাড়ির লোকজনকে মারধর করেন বলেও সজনীর ফুফু জানান। তিনি আরো জানান, তাদের উপরে সেই সময় লালন দফায় দফায় মারধর করে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















