০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লাতেই নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা

সদ্যোবিদায়ি কে এম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতো কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে গঠিত নতুন ইসির প্রথম পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। নুরুল হুদার ইসি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও প্রথম পরীক্ষায় তাঁরা সফল্য দেখিয়েছিলেন।

পাঁচ বছর আগের ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। এবার বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে এই নির্বাচন সুষ্ঠু করার আগে একে অংশগ্রহণমূলক করাও নতুন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, গত সোমবার প্রথম দিনেই নতুন কমিশনকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় বেশি নেই বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ গতকাল বলেন, ‘আমরা নতুন ইসির অপেক্ষায় ছিলাম। দু-এক দিনের মধ্যে কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানিয়ে ইসিকে আমরা চিঠি দেব। ’

আগামী ১৬ মে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে কুমিল্লা সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় শুরু হয়ে গেছে গত মাসের মাঝামাঝি।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, গতবার ভোটগ্রহণের ৩৮ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। এবারও প্রায় একই সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু এবার এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। রমজানের পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন করতে হলে রমজান শুরুর আগেই চলতি মাসের শেষ ভাগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রচার চলবে রমজান মাসে।

কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানে কিছুটা বাধাও আছে। গত নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। সেই রিট নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার গতকাল বলেন, ‘আমার জানা মতে, ইসি সচিবালয়ের আইন শাখা ওই রিট পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। আমরা নির্বাচন করতে প্রস্তুত। ভোটার তালিকাও হালনাগাদ হয়ে গেছে। ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। ’

কুমিল্লায় নির্বাচনী হাওয়া : তফসিল ঘোষণা করা না হলেও কুমিল্লা নগরীতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিএনপির প্রার্থীরা নীরব থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের অন্তত ছয়জন বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়েছেন কেউ কেউ।

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটির প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে একবার এবং ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনয়নে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল হক ওরফে সাক্কু।

২০০৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। ২০১২ সালের নির্বাচনে সাক্কুর কাছে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা প্রয়াত আফজল খান পরাজিত হন। ২০১৭ সালে তাঁর মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাও হারেন সাক্কুর কাছে। সীমা বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

আসন্ন নির্বাচনে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান, আফজল খানের ছেলে কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান।

মেয়র সাক্কু বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমি বিএনপি করলেও দুইবারের মেয়র, আমার কিছু সমর্থক আছে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও তফসিল ঘোষণার পর জনগণ চাইলে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। ’

আরফানুল হক বলেন, দল ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর সব কিছু নির্ভর করছে। নূর-উর রহমান মাহমুদ বলেন, ‘আশা করি, দল আমাকে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেবে। ’ আনিসুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আমি মাঠে ছিলাম। দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে আশা করছি। ’ মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘গত দুটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমার পরিবারকে মূল্যায়ন করেছেন। এবারও আশাবাদী, আমার পরিবারের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে নেত্রী মনোনয়ন দেবেন। ’

কাউসার জামান বলেন, ‘দল নির্বাচনে গেলে অবশ্যই নির্বাচন করব। আমার মাঠ গোছানো রয়েছে। ’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন বলেন, ‘আমাদের দল এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো আগ্রহ নেই। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুমিল্লাতেই নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম পরীক্ষা

প্রকাশিত : ০৩:২২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২

সদ্যোবিদায়ি কে এম নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতো কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে গঠিত নতুন ইসির প্রথম পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। নুরুল হুদার ইসি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও প্রথম পরীক্ষায় তাঁরা সফল্য দেখিয়েছিলেন।

পাঁচ বছর আগের ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল। এবার বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সে ক্ষেত্রে এই নির্বাচন সুষ্ঠু করার আগে একে অংশগ্রহণমূলক করাও নতুন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, গত সোমবার প্রথম দিনেই নতুন কমিশনকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় বেশি নেই বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ গতকাল বলেন, ‘আমরা নতুন ইসির অপেক্ষায় ছিলাম। দু-এক দিনের মধ্যে কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানিয়ে ইসিকে আমরা চিঠি দেব। ’

আগামী ১৬ মে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে কুমিল্লা সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় শুরু হয়ে গেছে গত মাসের মাঝামাঝি।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, গতবার ভোটগ্রহণের ৩৮ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হয়। এবারও প্রায় একই সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু এবার এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। রমজানের পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন করতে হলে রমজান শুরুর আগেই চলতি মাসের শেষ ভাগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রচার চলবে রমজান মাসে।

কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানে কিছুটা বাধাও আছে। গত নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। সেই রিট নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার গতকাল বলেন, ‘আমার জানা মতে, ইসি সচিবালয়ের আইন শাখা ওই রিট পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। আমরা নির্বাচন করতে প্রস্তুত। ভোটার তালিকাও হালনাগাদ হয়ে গেছে। ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। ’

কুমিল্লায় নির্বাচনী হাওয়া : তফসিল ঘোষণা করা না হলেও কুমিল্লা নগরীতে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিএনপির প্রার্থীরা নীরব থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের অন্তত ছয়জন বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়েছেন কেউ কেউ।

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটির প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে একবার এবং ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনয়নে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মনিরুল হক ওরফে সাক্কু।

২০০৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। ২০১২ সালের নির্বাচনে সাক্কুর কাছে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা প্রয়াত আফজল খান পরাজিত হন। ২০১৭ সালে তাঁর মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা সীমাও হারেন সাক্কুর কাছে। সীমা বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

আসন্ন নির্বাচনে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান, আফজল খানের ছেলে কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাসুদ পারভেজ খান ইমরান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান।

মেয়র সাক্কু বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আমি বিএনপি করলেও দুইবারের মেয়র, আমার কিছু সমর্থক আছে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও তফসিল ঘোষণার পর জনগণ চাইলে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। ’

আরফানুল হক বলেন, দল ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর সব কিছু নির্ভর করছে। নূর-উর রহমান মাহমুদ বলেন, ‘আশা করি, দল আমাকে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেবে। ’ আনিসুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আমি মাঠে ছিলাম। দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে আশা করছি। ’ মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘গত দুটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমার পরিবারকে মূল্যায়ন করেছেন। এবারও আশাবাদী, আমার পরিবারের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে নেত্রী মনোনয়ন দেবেন। ’

কাউসার জামান বলেন, ‘দল নির্বাচনে গেলে অবশ্যই নির্বাচন করব। আমার মাঠ গোছানো রয়েছে। ’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন বলেন, ‘আমাদের দল এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো আগ্রহ নেই। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর