০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

স্বামী ননদের হাতে গৃহবধূ খুন

সুখে থাকার জন্য ১৩ বছর বয়সেই বাবা-মা বিয়ে দেয় সুজাতার। ১৫ বছরের সংসারে তিন সন্তান তাঁর। বিয়ের পর থেকেই কারণে অকারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের শিকার হতেন সুজাতা রানী। অবশেষে সেসব থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে হত্যার পর সুজাতার লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পুলিশ স্বামী স্বপন চন্দ্র ও ননদ দুলমালাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার পারবর্তীপুর উপজেলার তাজনগর বেহেরাপাড়া গ্রামের ভবেশ চন্দ্রের মেয়ে সুজাতা রানী(২৮) সঙ্গে ১৫ বছর আগে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামের শিবা চন্দ্রের ছেলে স্বপন চন্দ্রের বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে জন্ম রয়েছে। স্বপন চন্দ পেশায় ভ্যান চালক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কারণে অকারণে প্রায় সুজাতাকে মারধর করতেন স্বপন ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় স্বপনকে ভ্যান নিয়ে ভাড়া খাটতে যেতে বললে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এরই একপর্যায়ে সুজাতা রানীকে তাঁর স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরি ও ননদ মারপিট করে। এতে সুজাতা মরে যায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সুজাতার লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয় সুজাতা আত্মহত্যা করেছে।
ওই দিন বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুজাতার ভাই সুশান্ত বাদি হয়ে চারজনকে আসামী করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্বপন চন্দ্র ও তাঁর বোন দুলমালা রানীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান।

মেয়ের লাশ দেখতে এসে সুজাতার মা বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, মেয়েটাক মোর শেষ করি দেইল। ডাংগে মারি ফেলাইল। বেটিটা মোক কছলো ওক কারণে অকারণে মারে। ওজন্যে গোষা হয়া মোর বাড়ি গেছলো। তকনে যদি আর ছাওয়াটাক পাঠে না দেও তেই ওর জীবন বাঁচে। যাদুটাক মারি ফেলাইল মুই এর বিচার চাও।

তারাগঞ্জ থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, লাশে শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যার মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী স্বপনসহ দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু

স্বামী ননদের হাতে গৃহবধূ খুন

প্রকাশিত : ০৭:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২

সুখে থাকার জন্য ১৩ বছর বয়সেই বাবা-মা বিয়ে দেয় সুজাতার। ১৫ বছরের সংসারে তিন সন্তান তাঁর। বিয়ের পর থেকেই কারণে অকারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরের শিকার হতেন সুজাতা রানী। অবশেষে সেসব থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে হত্যার পর সুজাতার লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পুলিশ স্বামী স্বপন চন্দ্র ও ননদ দুলমালাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার পারবর্তীপুর উপজেলার তাজনগর বেহেরাপাড়া গ্রামের ভবেশ চন্দ্রের মেয়ে সুজাতা রানী(২৮) সঙ্গে ১৫ বছর আগে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামের শিবা চন্দ্রের ছেলে স্বপন চন্দ্রের বিয়ে হয়। তাদের সংসার জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে জন্ম রয়েছে। স্বপন চন্দ পেশায় ভ্যান চালক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কারণে অকারণে প্রায় সুজাতাকে মারধর করতেন স্বপন ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় স্বপনকে ভ্যান নিয়ে ভাড়া খাটতে যেতে বললে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এরই একপর্যায়ে সুজাতা রানীকে তাঁর স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরি ও ননদ মারপিট করে। এতে সুজাতা মরে যায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সুজাতার লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয় সুজাতা আত্মহত্যা করেছে।
ওই দিন বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুজাতার ভাই সুশান্ত বাদি হয়ে চারজনকে আসামী করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্বপন চন্দ্র ও তাঁর বোন দুলমালা রানীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠান।

মেয়ের লাশ দেখতে এসে সুজাতার মা বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, মেয়েটাক মোর শেষ করি দেইল। ডাংগে মারি ফেলাইল। বেটিটা মোক কছলো ওক কারণে অকারণে মারে। ওজন্যে গোষা হয়া মোর বাড়ি গেছলো। তকনে যদি আর ছাওয়াটাক পাঠে না দেও তেই ওর জীবন বাঁচে। যাদুটাক মারি ফেলাইল মুই এর বিচার চাও।

তারাগঞ্জ থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, লাশে শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যার মামলা হয়েছে। নিহতের স্বামী স্বপনসহ দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর