০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

ঝিনাইদহে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঝিনাইদহে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে গম, ভূট্টা, মসুর, খেসারী, ধান, রবিশস্য, আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ ও ড্রাগন চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামের মাঠের ড্রাগন চাষী ও পাশ্ববর্তী কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, গত এক বছর আগে ৫৯ শতাংশ জমিতে তিনি ড্রাগন ফল চাষ করেন। এ বছর মার্চ মাসের থেকে ফল ধরতে শুরু করবে কিন্তু হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি শিলাবৃষ্টি সব তছনছ করেছে। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মত ড্রাগন চাষে খরচ করেন। এবছর প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির আশাবাদি ছিলেন তিনি।

ওই মাঠে একই সমস্যা আকাশ নামের আরও এক চাষীর। তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষ করেছেন। তাদের দেখা দেখি ওই এলাকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে এ চাষ শুরু করে। বর্তমানে তারা সকলে চিন্তিত।

আনোয়ার হোসেন ও আকাশ আরও বলেন, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি না পাওয়ায় তারা এ চাষে মনোযোগি হয়। তারা সরকারসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সহযোগিতার দাবি করেন।

জানা যায়, গত রোববার বিকাল ৩ টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে শিলাবৃষ্টিতে সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে থাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও মাটির সাথে মিশে গেছে গম, মসুর, ভূট্টাসহ অন্যান্য ফসল। ফসলের ক্ষতি ছাড়াও লিচু ও আমের মুকুল ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে শাকসবজিরও। ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রাগন গাছে স্প্রের মাধ্যমে গাছ সতেজ করাসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তা নিরূপন করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হবে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু

ঝিনাইদহে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত : ০৯:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২

ঝিনাইদহে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে গম, ভূট্টা, মসুর, খেসারী, ধান, রবিশস্য, আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ ও ড্রাগন চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের বানিয়াকান্দর গ্রামের মাঠের ড্রাগন চাষী ও পাশ্ববর্তী কৃষ্ণপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, গত এক বছর আগে ৫৯ শতাংশ জমিতে তিনি ড্রাগন ফল চাষ করেন। এ বছর মার্চ মাসের থেকে ফল ধরতে শুরু করবে কিন্তু হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি শিলাবৃষ্টি সব তছনছ করেছে। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মত ড্রাগন চাষে খরচ করেন। এবছর প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রির আশাবাদি ছিলেন তিনি।

ওই মাঠে একই সমস্যা আকাশ নামের আরও এক চাষীর। তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষ করেছেন। তাদের দেখা দেখি ওই এলাকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে এ চাষ শুরু করে। বর্তমানে তারা সকলে চিন্তিত।

আনোয়ার হোসেন ও আকাশ আরও বলেন, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি না পাওয়ায় তারা এ চাষে মনোযোগি হয়। তারা সরকারসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সহযোগিতার দাবি করেন।

জানা যায়, গত রোববার বিকাল ৩ টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ার সাথে শিলাবৃষ্টিতে সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে থাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও মাটির সাথে মিশে গেছে গম, মসুর, ভূট্টাসহ অন্যান্য ফসল। ফসলের ক্ষতি ছাড়াও লিচু ও আমের মুকুল ঝরে গেছে। ক্ষতি হয়েছে শাকসবজিরও। ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রাগন গাছে স্প্রের মাধ্যমে গাছ সতেজ করাসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ধানের তেমন ক্ষতি না হলেও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তা নিরূপন করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হবে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর