নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদ নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পূব ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে অনশন শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশবিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেছে। আজ চতুর্থ দিনের মত আন্দোলন কর্মস‚চি অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
অনশনকারীরা বলেন, আজ ঘটনার চতুর্থ দিন। এখনো প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় নি এটি অত্যন্ত দুঃখজনক কথা। এজন্যই আমাদের দাবি আদায়ে আমরা অনশন কর্মস‚চি শুরু করলাম।
এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ড. তপন কুমার সরকার বলেন, আমরা আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। আশা করি আজকেই রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেয়া হবে। আমরা চেষ্টা করেছি একটি যথার্থ প্রতিবেদন তৈরি করতে।
তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য ও প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি পক্ষপাতহীন তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। আজ জমা দেব।
এসময় অনশনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিভাগের শিক্ষকরা। বিভাগের শিক্ষকরা অনশনকারীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের এই সুশৃঙখল ও যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে আমরা একাত্মতা পোষণ করে এসেছি। আমরা দেখেছি তদন্ত কমিটি অত্যন্ত পরিশ্রম করে প্রতিবেদন তৈরি করছেন। সুতরাং প্রশাসন আমাদের দাবি প‚রণ করবে বলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারি। তাই তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা আজকের মত অনশন কর্মস‚চি স্থগিত করো। আগামী রবিবারের মধ্যে যদি সুষ্ঠু বিচার না আসে তাহলে আমরাও তোমাদের সাথে এসে দাড়াবো।
তদন্ত কমিটি, শিক্ষক সমিতি এবং বিভাগের শিক্ষকদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন ভাঙেন এবং রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৮ ফেব্রয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিহাদকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবের গ্রুপের রাজনীতি না করায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তোলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওয়ালিদ নিহাদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩২৪ নম্বর কক্ষে ১৫ জন মিলে ঘটায় এ ঘটনা।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















