মাকে ওয়াজে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে, নিয়ে যায় গহীন জঙ্গলে, মাকে মাটিতে চিৎ করে শুইয়ে বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা টান দিয়ে ধরলে সোহেল ছুরি দিয়ে জবাই করেন। পরে মায়ের মৃত্যু নিশ্চিত হলে সোহেলকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, এমনি লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননা দিচ্ছিলো আপন মাকে হত্যাকারী শেফালী। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীর ভিটিপাড়া গ্রামে গভীর জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়ে শেফালী ও তার সহকর্মী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। শুক্রবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আমজাদ শেখ এ তথ্য জানান। শেফালী ও সোহেল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার মিনারা বেগম (৫৭) শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। মাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার একমাত্র মেয়ে শেফালী (৩৫) গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের মো. ফরিদের স্ত্রী। সহকর্মী সোহেল রানা (২৫) শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার খড়িয়াকাজিরচর গ্রামের মেরাজ উদ্দিনের ছেলে। শ্রীপুরের বিজিবেড গার্মেন্টসে শেফালী ও সোহেল চাকরি করতেন। জানা যায়, মিনারা বেগমের বিয়ের পর জন্ম হয় শেফালীর। স্বামী আবু তাহের পরিবারিক কলহের জেরে শেফালীর জন্মের কয়েকবছর পর স্ত্রী-সন্তানকে রেখে অন্যত্র চলে যান। মিনারা অন্যের বাড়িতে কাজ করে শেফালীকে বড় করেন। প্রায় ২০ বছর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে মো. ফরিদের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেন। বিয়ের পর শেফালী-ফরিদ দম্পতির ঘরে তিন ছেলের জন্ম হয়। শেফালী স্থানীয় বিজিমেড নামে একটি কারখানায় চাকরি করতেন ও স্বামী অটোরিকশা চালাতেন। সামান্য বিষয় নিয়ে শেফালী ও ফরিদের সংসারে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। এ নিয়ে শেফালী তার মা মিনারার বাড়িতে থাকতেন। মিনারার সম্পদের মধ্যে বাবার রেখে যাওয়া ৯ শতাংশ জমি সম্বল ছিল। মিনারার কোনো ওয়ারিশ না থাকায়, জীবিত থাকা অবস্থায় জমিটি যাতে বিক্রি করতে না পারেন, তাই আট বছর আগে জমিটি শেফালীকে উইল করে দেন। সবশেষ এই জমিটির জন্যই মেয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হলো মিনারা বেগমকে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















