ঢাকা বিকাল ৩:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে কালের সাক্ষী ৪শ‘বছরের প্রাচীন বটগাছ

৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বট গাছটি। শুধু বট গাছ বললে ভুল হবে বট আর পাকুড় মিলে বৃক্ষের দৃষ্টিনন্দন যুগলবন্দী এক রহস্য বৃক্ষ। করতোয়া খালের পাড়ে, রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির বিশাল শাখা-প্রশাখা। শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। প্রায় ৪‘শ বছরের বট গাছটি আজও রয়েছে তাজা তরুণ আর চিরসবুজ। যেন বার্ধক্যের ছাপ একটুও পড়েনি। আর সে কারণেই এ বট গাছকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য। করতোয়া খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বট গাছটি ঘিরে নানা রহস্যেঘেরা । এ গাছের ডালপালা যেমন চারদিকে বিছিয়ে গেছে তেমনি গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথাও বছরের পর বছর ধরে ডালপালা গজিয়েছে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের এক একর ২০ শতক জমি জুড়ে বিস্তৃত, কালের সাক্ষী হয়ে ৪‘শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বটগাছ। গাছের শাখা, প্রশাখা ডালপালা মাটির সঙ্গে তৈরি করেছে এক আঙ্গিক সর্ম্পক। শীতল ছায়া আর পাখির কলকাকলি।সেইসঙ্গে সবুজ শ্যামল এই বটগাছের নিচে যে কেউ এসে বসলে মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থী আর বৃক্ষপ্রেমিকরা এই আর্কষণ করে এই অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক নজর দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে দর্শনার্থীরা।

এ গাছ সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম ধারণাও জন্মেছে। অনেক ঘটনা আছে। সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের জাব্বার আলী (৭০) বলেন, দাদার কাছে শুনেছি এ গাছের ডালপালা কাটা যেত না। এমনকি ভয়ে কেউ পাতাও ধরত না। যারা ডাল ভাঙত তাদের অনেকের মুখ দিয়ে রক্ত বের হতো এবং ডাইরিয়া,কলেরা,হয়ে আনেকই মারা যেত এবং বটগাছের পাতা বা ডাল জ্বালানি হিসেবে কেউ যদি ব্যবহার করে তাহলে তাদের গায়ে জ্বর আসে। তাই এখনো কেউ গাছের ডালপালা ভাঙে না

বগুড়া থেকে বটগাছটি দেখতে এসেছেন নিজাম উদ্দিন তিনি বলেন, অনেক কথা শুনেছি বটগাছটি নিয়ে। আজ এখানে এসে যা দেখলাম তা শোনার চেয়ে অনেক বেশি। বটগাছটিকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে পদক্ষেপ নিলে পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে।

সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের বরাত আলী সরকার (৭৭) বলেন, আমার দাদা ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি বলেছেন, গাছটি জন্মমের পর থেকে এভাবেই তারা দেখেছেন,্ঔ সময় নানা কারণে ভয়ের কারণ ছিল এ গাছটায়। এমন কি বটতলায় অনেক সাধু-সন্ন্যাসী ধ্যানে মগ্ন হতেন। এখন সাধু-সন্ন্যাসীদের দেখা না মিললেও হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষই গাছটি দেখতে আসেন। অনেকে মানত পূরণ করার জন্য আসেন। প্রতি বছরের জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার বটগাছের নিচে মেলা বসে। মেলায় হিন্দু ও মুসলমানসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় । মেলাতে বিভিন্ন রকম খাবার ও খেলার আয়োজন করা হয়, ঘোড় দৌউর,লাঠিবাড়ি,নাগরদোলা ও ছুড়িখেলাসহ বিভিন্ন খেলায় মেতে ওঠে এলাকার মানুষ।করোনার কারণে দুই বছর মেলা হয়নি। আশা করছি, আগামী জ্যৈষ্ঠ মাসে মেলা হবে।

চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান খাঁন বলেন,গাছটি অনেক পুরাতন । গাছের সঠিক বয়স বলতে পারবো না। তবে বাবা দাদাদের মুখে অনেক গল্প শুনেছি। আনু মানিক গাছটির বয়স ৪‘শ বছর,বয়সের সাথে গাছের ঢাল পালা চার পাশ ছেয়ে গেছে। তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাছটি দেখতে লোক জন আসে। এই বটগাছ আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

সময়ের বিবর্তনে বটগাছের ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়ে গেলেও রায়গঞ্জের সরাইদহের চরপাড়া গ্রামের ভিন্ন চিত্র, তাই পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে বটগাছটির সৌন্দর্য বর্ধনে সংরক্ষণের দাবি সংশিষ্টদের।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ