কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্রাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী রক্ষা রাঁধের একটি অংশ ফের ধসে পড়েছে। গত ৭ দিন ধরে রাঁধের পূর্ব অংশের প্রায় ৬৫ মিটার ধসে পড়ে। এই নিয়ে তিন দফা বাঁধের ধস হলো। শুষ্ক মৌসুমে এই বাঁধ ধসের ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুমারখালী উপজেলার কসবা এলাকার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী রক্ষা রাঁধের শেষের একটি অংশ ধসে গেছে। সম্প্রতি সময়ে বাঁধ নির্মান হলেও শুরুতেই ব্যাপক নিয়মের অভিযোগ ওঠে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে । গত বর্ষা শুরুতেই রাঁধের একটি অংশ প্রথমে ধসে যায়। তারপর ওই স্থান সংস্কার করা হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পওর) সুত্র জানায়, ২০১৩ সালে পদ্মায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়ার পর কুমারখালীর কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় অংশ ভাংনের মুখে পড়ে। এ কারনেই কুঠিবাড়ীসহ এলাকার জনপদ রক্ষায় ১৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সুলতানপুর থেকে শুরু করে শ্রীকোল পর্য়ন্ত ২ হাজার ৭২০ মিটার বাঁধ নির্মান করা হয়। এতে ব্যয় হয় ১৪৫ কোটি টাকা। তবে সে সময় বাঁধের নকসা কোমরকান্দি পশ্চিমপাড়া থেকে পূর্বপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩০ মিটার এলাকা বাদ দেয়া হয়। ২০১৫ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৮ সালে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধ নির্মানের সময় যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। নকশা অনুযায়ী বাঁধ নির্মান না করায় বারবার ওই বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, যেখানে বাঁধ ভেঙে গেছে সেখানে ফসলি জমি ও বাড়ীঘর রয়েছে। যে ভাবে বাঁধ ভেঙে গেছে তাতে বর্ষায় ব্যাপক ক্ষতি হবার আশংকা করছি। একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর মানুষ অনেকটা নিশ্চিত ছিল। তবে পরপর কয়েকবার বাঁধ ভাঙনের কারণে এখন আর কেউ ভরসা পাচ্ছে না। বাঁধের একটি অংশ এখনও ফাঁকা রয়েছে। সেখানে কোন কাজ করা হয়নি। কোমরকান্দি গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা বলেন, এমন বাঁধ কোন দিন দেখিনাই। দুই পাশে বাঁধ হয়েছে আর মাঝখানে ফাঁকা। এখন বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাচ্ছে। সামনের বর্ষায় এবার পুরোটাই ভেঙে যেতে পারে।
সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন তারেক জানান, এবার দিয়ে বাঁধে তিনবার ভাঙন দেখা দিল। শিলাইদহ অংশে বেশ কিছুটা বাঁধ নির্মাণ কাজ হয়নি। এখানকার বাসিন্দারা বিপদের মধ্যে আছে। বর্ষার পানি বাড়লে মাঝখান দিয়ে পানি প্রবেশ করে দুই পাশের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই বিষয়টি আমলে নেয়া উচিত।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল টেলিফোনে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি প্রেরন করেছেন, তবে দৃশ্যমান কোন কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনও শুরু করেনি।
জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উচ্চ পর্যায় জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানে হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















