বিস্ফোরক দ্রব্য (এ্যামোনিয়াম) সংকটে পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়েছে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন।
শনিরার সকাল থেকে পাথর উৎপাদনের কাজ বন্ধ রেখে খনি শ্রমিকদের সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছে খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম (জিটিসি)।
এদিকে খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মে.টন পাথর উত্তোলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খনিটি।
খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জিটিস বলছেন চুক্তি অনুযায়ী পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য (এ্যামোনিয়াম) খনি কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করার দায়িত্ব থাকলেও, সময় মতো তা সরবরাহ না করায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে তাদেরকে।
মধ্যপাড়া মাইনিং কোম্পানী লিঃ (এমজিএমসিএল) বলছেন কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ও সা¤প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারনে সময় মতো বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানী করা সম্ভব হয়নি, তবে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে খনিতে বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছেন খনি কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেলারুশ ভিক্তিক জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোডিয়াম জিটিসি”র সাথে আগামী ছয় বছরের জন্য পুনঃচুক্তি করেন মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ (মধ্যপাড়া পাথর খনি) কর্তৃপক্ষ। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মে.টন পাথর উত্তোলন করছিল খনিটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। কিন্তু পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দ্রব্য না থাকায়,শনিবার সকাল থেকে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা-ব্যবস্থাপক (মাইনিং) আবু তালহা ফরাজি বলেন কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ও সা¤প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারনে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত এ্যামোনিয়াম (বিস্ফোরক দ্রব্য) সময় মতো সরবরাহ করা সম্ভাব হয়নি, তবে তিনি আশাঁবাদ ব্যক্ত করে বলেন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানীর কাজ শেষ হয়েছে। পথিমধ্যে রয়েছে, আগামী দু”সপ্তাহের মধ্যে খনিতে সরবরাহ করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য মধ্যপাড়া পাথর খনিটি ২০০৭ সালে বানিজ্যিক ভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করলেও, তৎকালিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান নামনাম কোং প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টন পাথর উত্তোলন করায়, খনিটি লাভের বদলে লোকসানের দিকে যায়। এরপর ২০১৩ সালে বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাষ্ট কনসোডিয়াম জিটিসি’র সাথে উৎপাদন চুক্তি করে। জিটিসি ২০১৪ সালের ফেব্রæয়ারী মাস থেকে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মে.টন পাথর উত্তোলন করায়, খনিটি লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের দিকে যায়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২১ সালে আবারো জিটিসির সাথে ছয় বছরের জন্য পাথর উত্তোলনের চুক্তি করে খনি কর্তৃপক্ষ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















