উপমহাদেশের কিংবদন্তি বাউল শিরোমনি ফকির লালন শাহের মাজারে আগামী কাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘দোল পূর্ণিমা’ তিনদিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। উৎসবটি উপলক্ষে বাউল লালন ফকির নিজেই তাঁর জীবদ্দশায় প্রত্যেক পূর্ণ-চন্দ্র তিথিতে এই উৎসব করতেন। এই উৎসবে দুর দূরান্ত থেকে তাঁর শিষ্যরা অংশ নিতেন। সেই থেকেই লালনভক্ত ও অনুসারীরা এই উৎসবকে ‘লালন স্মরণোৎসব’ও বলে থাকেন। দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে গেল দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও উৎসবকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালনের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে এখন উৎসবমুখর সাজ সাজ রব। আখড়াবাড়ির বাইরে বসছে গ্রামীণ মেলাও। সেখানে নানান পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানীরা। এ বছর বেচা কেনাও ভালো হবে বলে আশা তাদের।
দেশ-বিদেশের বাউল অনুসারী, লালনভক্ত ও সুধীজনসহ অসংখ্য মানুষের আগমন ঘটেছে এরই মধ্যে। তাদের পদচারণয় মুখর এখন আখড়াবাড়ি চত্বর। লালনভক্ত ও অনুসারীরা আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা পরিবেশন করছেন লালন গীতি। পাশাপাশি লালন মঞ্চে থাকবে সারারাত লালন গানের আয়োজনও।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ও লালন একাডেমীর আয়োজনে এরই মধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে । মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন। উৎসব চলবে বৃহস্পতিবার পর্যস্ত।
লালন মাজারের খাদেম ফকির মোহাম্মদ আলী সাঁই বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে গেল দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও লালন স্মরণোৎসব শুরু হয়েছে। লালন অনুসারী ও ভক্তরা সাঁইজির ধাঁমে আসতে শুরু করেছেন। উৎসবের তিনদিন আখড়াবাড়ি পরিণত হবে গুরুশিষ্যর মিলন মেলায়।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খায়রুল আলম জানান, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। উৎসব অঙ্গন ছাড়াও শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আঁখড়াবাড়ির বিভিন্ন জায়গায় থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য মেলার মাঠ সংলগ্ন নদীতে স্পিডবোটে পাহারার ব্যবস্থাও থাকছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















