০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নদী যখন ব্যক্তির নামে

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী জুলহাস মিয়া জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি নদীটি বাড়ির পাশ দিয়ে গেছে। কিন্তু কোনদিন এই নদীর উপকার পায়নি। মাছ দরতে গেলে জাল ছিড়ে দেওয়া হয়, বড়সি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ছোট থাকতে এই এলাকায় অনেক খালবিল ছিল। তাই সেসব খালবিল থেকে মাছ দরে দিনানিপাত করেছি। গত কয়েক দশকে খালবিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীটি ছিল ভরসা। কিন্তু নদীটি ব্যক্তি মালিকানায় থাকার কারনে বাড়ির পাশের নদী থেকে কোন সুযোগ নিতে পারিনা। তিনি বলেন, আমার বাব দাদাদের কাছ থেকেও শুনেছি নদীটির মালিক রাজা সাহেব। এখনো উনাদের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে। নদী থেকে শুধু উনার নমিনেটেড মানুষজন মাছ দরে থাকেন।

সুটকি নদীতে মাছ দরছিলেন চারজন। এরমদ্যে দুইজনকে জিগেস করলে তারা বলেন, আমরা মাছ দরে মালিককে দিয়ে দেই। আমরা রোজ কামলা হিসেবে এখানে কাজ করছি। আমাদের মতো এই নদীতে আরো দুই দল আছে। যারা আমাদের মতো দৈনিক রোজ পায়।

আরেক জেলে ৬৫ বছর বয়সী রফিক মিয়া বলেন, আমরা জন্মলগ্ন থেকে শুনছি এই নদীর মালিক আহমদ রাজা সাহেব। আগে এটি ছিল তাদের পুর্বপুরুষের মালিকানা সম্পত্তি। এখন তিনি বিভিন্ন মানুষকে লিজ দিয়ে থাকেন। নিজেও শ্রমিক দিয়ে মাছ সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, নদীটি লোহারতল এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে তা প্রতাবপুর এলাকায় রতœা নদীর সাথে মিলেছে। তিনি জানান, বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে এই নদীর ধারা বয়ে গেছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে। প্রবাহিত এই নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ কিলোমিটার। স্বাধীনতার পরে বানিয়াচংয়ের ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ কোম্পানীর নামে ভোগ দখল করা হচ্ছে।

নদীটির নাম সুটকি নদী। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায় নাম নেই এই নদী কিংবা এই দখলদারের ।

অন্যদিকে একটি অস্থিত্বহীন ইয়াহিয়া ফিশ ইন্ডাষ্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ঐতিহ্যবাহি শুটকী নদীর ২৪২ একর ২০ শতক ভ‚মি নামজারি পুর্নবহাল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদেশটি গত ১৪ ডিসেম্বর দেয়া হলেও গত ১৪ ফেব্রæয়ারি তা পুর্নাঙ্গভাবে প্রকাশ পায়। অন্যথায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান ৬ কর্মকর্তাকে ৩ মাসের দেওয়ানী কয়েদে (সিভিল জেল) আটক রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ মিথিলা ইসলাম এ আদেশ দেন বলে জানান বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফফাত আরা জামান উর্মি।

উর্মি বলেন, রায়ে বলা হয়- আদেশের ৩ মাসের মধ্যে বিবাদীরা মামলার বাদির নামে নামজারি করে দিতে হবে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন, হবিগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব বিষ্ণুপদ সাহা, বানিয়াচং উপজেলার সাবেক এল্যিান্ড কামরুল আলম, হবিগঞ্জের সাবেক আরডিসি মোঃ কামরুল ইসলাম সরকার, এছাড়া হবিগঞ্জের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব,আরডিসি, বানিয়াচংয়ের এসিল্যান্ডকে আদেশের আওতায় আনা হয়েছে।

বিভিন্ন কাগজপত্র ও মামলার কাগজপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে সিলেট সাব জজ আদালতে ইয়াহিয়া ফিশ ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষে দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজা একটি সত্ব মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি শুটকী নদীকে বিল দেখিয়ে নদীর ভ‚মি তার ইন্ডাষ্ট্রির নামে ঘোষনা, দখল এবং ভোগ দখল করার দাবি করেন। একই সাথে তার শান্তিপূর্ন ভোগ দখলে যাতে সরকার পক্ষ বাধা না দেয় এ মর্মে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন। ১৯৭৩ সালে ৩০ মে সিলেট সাবজজ আদালত বাদির পক্ষে আদেশ দেন। একই বছর সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে মিস কেস দায়ের করে। ওই বছরে ৩১ ডিসেম্বর সরকার পক্ষের করা মিস কেস খারিজ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭৪ সালে বাদিপক্ষ সিলেট সাবজজ-১ আদালতে ‘রেকর্ড অব রাইট’ দাবিতে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই বছরের ২৪ এপ্রিল বাদির পক্ষে নামজারি করার আদেশ দেয়। ওই আদেশ বলে বাদি পক্ষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিলেট বরাবরে একটি নামজারি মোকদ্দমা দায়ের করে। সিলেট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বানিয়াচং উপজেলা এসিল্যান্ডকে নামজারি করার আদেশ দেন।ওই আদেশের প্রেক্ষিতে বাদির পক্ষে নামজারি করা হয়।

বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফফাত আরা জামান উর্মি বলেন, পরবর্তীতে বিষয়টি হবিগঞ্জের তৎকালিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ সাহার দৃষ্টিগোচর হলে ১৯৯২ সালের ১০ মার্চ ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডস্ট্রিজের পরিচালক দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজাকে কারণ দর্শানের নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয় ইয়াহিয়া রাজার দাবি করা ভূমি শুটকী নদীর অংশ, যা বেআইনীভাবে কোম্পানীর নামে নামজারি করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকার পক্ষে একটি রিভিউ মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় ইয়াহিয়া রাজার নামজারি আদেশ বাতিল করে রেকর্ড সরকারের নামে পুর্নবহাল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ৯৬ সালে ইয়াহিয়া রাজা হবিগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব জারি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পর ওই মামলার রায় হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাদি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ১৯৭২ তে মামলা দায়ের করে ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়। এবং এই ভুমি বা ওয়াটার রিজারভারের সত্ব মালিকানা ডিক্লিয়ার হয়। এমনকি এই ডিক্রি অনুযায়ী বাদি পক্ষের নামে সরকার নামজারি করে দেয়। ১৯৯৫/৯৬ সালের দিকে আদালতের পারমানেন্ট ইনজাংকশন ভায়োলেট করে যে নামজারি করা হয়েছিল সেটা কেনসেল করার জন্য ও নামজারি কেটে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে বাদি হবিগঞ্জ সাবজজ ২য় আদালতে ভায়োলেশন মামলা/মিসকেইস দায়ের করে। এই মিসকেইসে উভয় পক্ষের সাক্ষ্যপ্রমানের পর আদালত সরকারি অফিসিয়ালদের ডাইরেকশন দিয়েছে এই আদেশ প্রাপ্তির তিনমাসের মধ্যে কর্তনকৃত নামজারি বহাল করা হোক অন্যথায় আদালতের আদেশ অমান্য করার কারণে প্রত্যেক তিনমাস করে দেওয়ানী কারাগারে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বাদিপক্ষের দাবিমতে এটি বাদিপক্ষের দখলেই আছে। বাদিপক্ষের দাবিমতে এটি তাদের পুর্বপুরুষের সম্পত্তি। বাদিপক্ষ এটি নদী স্বীকার করে না। বাদিপক্ষের মতে এটা একটা ওয়াটার রির্জারভার। বাদিপক্ষের দখলীয় বোরো ফসলে পানি দেওয়া হতো।

এ ব্যাপারে সরকারী কৌশুলী মো. আফিল উদ্দিন বলেন, সিলেট সাব জজ কোর্টের স্বত্ব ৯৫/৭২ মামলার রায় কার্যকরের জন্য হবিগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ (২) আদালতে স্বত্বজারি ১/১৯৯৬ দায়ের করা হয়। মূল মামলায় এস এ দাগ খতিয়ান উল্লেখ না থাকলেও জারি মোকদ্দমায় দাগ খতিয়ান উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকার পক্ষে এ মামলায় আপত্তিসহ এস এ পরছা দাখিল ও সাক্ষী দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর বিধান অনুসারে নদী জলাশয় সরকারী সম্পত্তি। তিনি জানান এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ইতিহাসবিদ ও বানিয়াচং এলাকার সন্তান গবেষক শেখ ফজলে এলাহী বলেন, রাজা গনেশ যখন লাউরেরগড়ের শাসক ছিলেন ঠিক তখনই লাউড়েরগড় দখল করে নেয় খাসিয়ারা। ঠিক তখনই তারা বানিয়াচংয়ে আসেন ও সাগরদিগির পশ্চিমপাড়ে এলাকায় রাজদানী স্থাপন করেন। ওই সময়ে সেখানে সম্রাজ্য গড়েছিলেন তাদের উত্তরসূরী রাজা গোবিন্দসিংহ। পরবর্তীতে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন হাবিব খাঁ। পরে সেটা ভুমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। এখনো ধ্বংসাবশেষ আছে। পরে অনেক যুদ্ধ হয় শেষে এটা তাদের বংশধর আজবান রাজা এটা পুনোরুদ্দার করেন এবং নতুন করে রাজদানী স্থাপন করা হয় ২নং হাবেলীতে।

তার উত্তরসূরি দেওয়ান আলী রাজার বংশধরা এখন রাজবাড়িতে বসবাস করেন। তাদের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাষ্ট্রি। তারা সুটকী নদীর মালিকানা দাবি করছেন। কোম্পানীটির বর্তমান মহাব্যবস্থাপক হচ্ছেন আহমেদ জুলকার নাঈন। তিনি ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাস্ট্রিকে একটি কোম্পানী দাবি করলেও বাস্তবে সাইনবোর্ড ছাড়া কোন কার্যক্রম বা যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। জুলকার নাঈনের দাবি শুটকী নদী নয়, এটা দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজার পুর্ব পুরুষরা বোরো ফসলের জন্য ওয়াটার রিজার্ভার হিসেবে গড়ে তুলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদী কোন মানুষের হয় না। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সকল নদীর অভিভাবক হচ্ছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কাজেই কেউ মালিকানা দাবি করলে সেটা বিধিসম্মত নয়। নদী জনগণের সম্পত্তি, নদীকে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করা অন্যায়।

খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার হিসেবে তিনি বলেন, শতাব্দী ধরে একটি নদী মালিকানা দাবি করে ব্যবহার করা হচ্ছে এমনকি ১৯৭২ সালের দিকে নিজের নামে সুটকি নদীকে নামজারিও করা হয়েছে, এটা অবশ্যই বিস্ময়। অন্যদিকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে হবিগঞ্জ জেলার ৬০০ নদী দখলদারের নাম প্রকাশ করলেও এই নদীর নাম বা দখলদারের নাম পাওয়া যায়নি। দেশের নদ-নদী রক্ষা, রাষ্ট্রের সম্পদ,জনগণের সম্পদ রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র এর দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এর উদাসীনতা কিংবা অন্য যে কোন কারনেই হোক শুটকি নদীটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা মনে করি দ্রæততার সঙ্গে এই নদীটির রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার জানান, হাওড় জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে শুটকী নদীর একটি অংশে খনন করা হয়েছে। এটি একটি নদী। নদী দখলের তালিকায় এই নদীর নাম নেই কারণ কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয় না। এটা জেলা প্রশাসন বলতে পারবে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজেন ব্যানার্জী বলেন, এস এ রেকর্ড অনুযায়ী এ নদী টি আছে সরকারি মালিকানাধীন। দেওয়ান আলী রাজার পক্ষ থেকে সত্ব মামলা করলেন যার নাম্বার হলো ৯৫/১৯৭২। সেখানে ২৩ নং মোকাবিলা বিবাদী করা হয় সরকার কে। আর ১ থেকে ২২ নং বিবাদী করা হয় উনাদের নিজেদের লোক কে। মামলা করে একতরফা রায় করা হয় তাদের পক্ষে। যেহেতু ১৯৬০ সালের পরে উনারা মামলা করেছেন তখন এস এ রেকর্ড অনুযায়ী মামলা করতে পারতেন কিন্তু উনারা দাগ খতিয়ান উল্লেখ না করে তৈজী মামলা করলেন চালাকি করে। তারপর এই ডিক্রি কে কার্যকর করার জন্য একটি জারি মামলা করা হয়। এবং এতে ১ নং বিবাদী এ ডি সি রিভিনিউ ২ নং বিবাদী এসিল্যান্ড বানিয়াচং ও ৩ নং বিবাদী আর ডি সি কে করা হয়। জারি মামলার আদেশ হয় ২০২১ সালে। এবং এই জারি মামলাতে তারা দাগ খতিয়ান উল্লেখ করেন। সেখানে বলা-হয়েছে তাদের কে ৩ মাসের ভেতরে নামজারী করে দেয়ার জন্য। অন্যথায় সিভিল জেল হবে ৩ মাসের। সরকার পক্ষ আপিল দায়ের করেছে সিলেট কোর্টে মামলা নং ১৯/২০২২। এবং সরকার পক্ষ থেকে জারি মামলার জন্য রিভিশন দায়ের করা হবে আজ। বর্তমান বি এস রেকর্ডে সরকারের দাগ সমুহ ১ নং খতিয়ানে উল্লেখ আছে। সরকার পক্ষ থেকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারি কৌশলীর অবহেলার কারনে এটা হয়েছে বলে একটি রির্পোট আছে।

নদী দখলের তালিকায় এই নদীর নাম নেই কারণ কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয় না। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলতে পারবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৮ মে

নদী যখন ব্যক্তির নামে

প্রকাশিত : ০৫:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী জুলহাস মিয়া জানান, জন্মের পর থেকেই দেখছি নদীটি বাড়ির পাশ দিয়ে গেছে। কিন্তু কোনদিন এই নদীর উপকার পায়নি। মাছ দরতে গেলে জাল ছিড়ে দেওয়া হয়, বড়সি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ছোট থাকতে এই এলাকায় অনেক খালবিল ছিল। তাই সেসব খালবিল থেকে মাছ দরে দিনানিপাত করেছি। গত কয়েক দশকে খালবিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীটি ছিল ভরসা। কিন্তু নদীটি ব্যক্তি মালিকানায় থাকার কারনে বাড়ির পাশের নদী থেকে কোন সুযোগ নিতে পারিনা। তিনি বলেন, আমার বাব দাদাদের কাছ থেকেও শুনেছি নদীটির মালিক রাজা সাহেব। এখনো উনাদের পরিবারের মালিকানায় রয়েছে। নদী থেকে শুধু উনার নমিনেটেড মানুষজন মাছ দরে থাকেন।

সুটকি নদীতে মাছ দরছিলেন চারজন। এরমদ্যে দুইজনকে জিগেস করলে তারা বলেন, আমরা মাছ দরে মালিককে দিয়ে দেই। আমরা রোজ কামলা হিসেবে এখানে কাজ করছি। আমাদের মতো এই নদীতে আরো দুই দল আছে। যারা আমাদের মতো দৈনিক রোজ পায়।

আরেক জেলে ৬৫ বছর বয়সী রফিক মিয়া বলেন, আমরা জন্মলগ্ন থেকে শুনছি এই নদীর মালিক আহমদ রাজা সাহেব। আগে এটি ছিল তাদের পুর্বপুরুষের মালিকানা সম্পত্তি। এখন তিনি বিভিন্ন মানুষকে লিজ দিয়ে থাকেন। নিজেও শ্রমিক দিয়ে মাছ সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, নদীটি লোহারতল এলাকার কুশিয়ারা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে তা প্রতাবপুর এলাকায় রতœা নদীর সাথে মিলেছে। তিনি জানান, বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিনে এই নদীর ধারা বয়ে গেছে পূর্ব থেকে পশ্চিমে। প্রবাহিত এই নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ কিলোমিটার। স্বাধীনতার পরে বানিয়াচংয়ের ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ কোম্পানীর নামে ভোগ দখল করা হচ্ছে।

নদীটির নাম সুটকি নদী। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায় নাম নেই এই নদী কিংবা এই দখলদারের ।

অন্যদিকে একটি অস্থিত্বহীন ইয়াহিয়া ফিশ ইন্ডাষ্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ঐতিহ্যবাহি শুটকী নদীর ২৪২ একর ২০ শতক ভ‚মি নামজারি পুর্নবহাল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদেশটি গত ১৪ ডিসেম্বর দেয়া হলেও গত ১৪ ফেব্রæয়ারি তা পুর্নাঙ্গভাবে প্রকাশ পায়। অন্যথায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান ৬ কর্মকর্তাকে ৩ মাসের দেওয়ানী কয়েদে (সিভিল জেল) আটক রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ মিথিলা ইসলাম এ আদেশ দেন বলে জানান বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফফাত আরা জামান উর্মি।

উর্মি বলেন, রায়ে বলা হয়- আদেশের ৩ মাসের মধ্যে বিবাদীরা মামলার বাদির নামে নামজারি করে দিতে হবে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে, তারা হলেন, হবিগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব বিষ্ণুপদ সাহা, বানিয়াচং উপজেলার সাবেক এল্যিান্ড কামরুল আলম, হবিগঞ্জের সাবেক আরডিসি মোঃ কামরুল ইসলাম সরকার, এছাড়া হবিগঞ্জের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব,আরডিসি, বানিয়াচংয়ের এসিল্যান্ডকে আদেশের আওতায় আনা হয়েছে।

বিভিন্ন কাগজপত্র ও মামলার কাগজপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে সিলেট সাব জজ আদালতে ইয়াহিয়া ফিশ ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষে দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজা একটি সত্ব মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি শুটকী নদীকে বিল দেখিয়ে নদীর ভ‚মি তার ইন্ডাষ্ট্রির নামে ঘোষনা, দখল এবং ভোগ দখল করার দাবি করেন। একই সাথে তার শান্তিপূর্ন ভোগ দখলে যাতে সরকার পক্ষ বাধা না দেয় এ মর্মে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন। ১৯৭৩ সালে ৩০ মে সিলেট সাবজজ আদালত বাদির পক্ষে আদেশ দেন। একই বছর সরকার ওই আদেশের বিরুদ্ধে মিস কেস দায়ের করে। ওই বছরে ৩১ ডিসেম্বর সরকার পক্ষের করা মিস কেস খারিজ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭৪ সালে বাদিপক্ষ সিলেট সাবজজ-১ আদালতে ‘রেকর্ড অব রাইট’ দাবিতে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই বছরের ২৪ এপ্রিল বাদির পক্ষে নামজারি করার আদেশ দেয়। ওই আদেশ বলে বাদি পক্ষ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিলেট বরাবরে একটি নামজারি মোকদ্দমা দায়ের করে। সিলেট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বানিয়াচং উপজেলা এসিল্যান্ডকে নামজারি করার আদেশ দেন।ওই আদেশের প্রেক্ষিতে বাদির পক্ষে নামজারি করা হয়।

বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইফফাত আরা জামান উর্মি বলেন, পরবর্তীতে বিষয়টি হবিগঞ্জের তৎকালিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ সাহার দৃষ্টিগোচর হলে ১৯৯২ সালের ১০ মার্চ ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডস্ট্রিজের পরিচালক দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজাকে কারণ দর্শানের নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয় ইয়াহিয়া রাজার দাবি করা ভূমি শুটকী নদীর অংশ, যা বেআইনীভাবে কোম্পানীর নামে নামজারি করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকার পক্ষে একটি রিভিউ মামলা করা হয়। উক্ত মামলায় ইয়াহিয়া রাজার নামজারি আদেশ বাতিল করে রেকর্ড সরকারের নামে পুর্নবহাল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ৯৬ সালে ইয়াহিয়া রাজা হবিগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব জারি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পর ওই মামলার রায় হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাদি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ১৯৭২ তে মামলা দায়ের করে ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়। এবং এই ভুমি বা ওয়াটার রিজারভারের সত্ব মালিকানা ডিক্লিয়ার হয়। এমনকি এই ডিক্রি অনুযায়ী বাদি পক্ষের নামে সরকার নামজারি করে দেয়। ১৯৯৫/৯৬ সালের দিকে আদালতের পারমানেন্ট ইনজাংকশন ভায়োলেট করে যে নামজারি করা হয়েছিল সেটা কেনসেল করার জন্য ও নামজারি কেটে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে বাদি হবিগঞ্জ সাবজজ ২য় আদালতে ভায়োলেশন মামলা/মিসকেইস দায়ের করে। এই মিসকেইসে উভয় পক্ষের সাক্ষ্যপ্রমানের পর আদালত সরকারি অফিসিয়ালদের ডাইরেকশন দিয়েছে এই আদেশ প্রাপ্তির তিনমাসের মধ্যে কর্তনকৃত নামজারি বহাল করা হোক অন্যথায় আদালতের আদেশ অমান্য করার কারণে প্রত্যেক তিনমাস করে দেওয়ানী কারাগারে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বাদিপক্ষের দাবিমতে এটি বাদিপক্ষের দখলেই আছে। বাদিপক্ষের দাবিমতে এটি তাদের পুর্বপুরুষের সম্পত্তি। বাদিপক্ষ এটি নদী স্বীকার করে না। বাদিপক্ষের মতে এটা একটা ওয়াটার রির্জারভার। বাদিপক্ষের দখলীয় বোরো ফসলে পানি দেওয়া হতো।

এ ব্যাপারে সরকারী কৌশুলী মো. আফিল উদ্দিন বলেন, সিলেট সাব জজ কোর্টের স্বত্ব ৯৫/৭২ মামলার রায় কার্যকরের জন্য হবিগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ (২) আদালতে স্বত্বজারি ১/১৯৯৬ দায়ের করা হয়। মূল মামলায় এস এ দাগ খতিয়ান উল্লেখ না থাকলেও জারি মোকদ্দমায় দাগ খতিয়ান উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকার পক্ষে এ মামলায় আপত্তিসহ এস এ পরছা দাখিল ও সাক্ষী দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর বিধান অনুসারে নদী জলাশয় সরকারী সম্পত্তি। তিনি জানান এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ইতিহাসবিদ ও বানিয়াচং এলাকার সন্তান গবেষক শেখ ফজলে এলাহী বলেন, রাজা গনেশ যখন লাউরেরগড়ের শাসক ছিলেন ঠিক তখনই লাউড়েরগড় দখল করে নেয় খাসিয়ারা। ঠিক তখনই তারা বানিয়াচংয়ে আসেন ও সাগরদিগির পশ্চিমপাড়ে এলাকায় রাজদানী স্থাপন করেন। ওই সময়ে সেখানে সম্রাজ্য গড়েছিলেন তাদের উত্তরসূরী রাজা গোবিন্দসিংহ। পরবর্তীতে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন হাবিব খাঁ। পরে সেটা ভুমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায়। এখনো ধ্বংসাবশেষ আছে। পরে অনেক যুদ্ধ হয় শেষে এটা তাদের বংশধর আজবান রাজা এটা পুনোরুদ্দার করেন এবং নতুন করে রাজদানী স্থাপন করা হয় ২নং হাবেলীতে।

তার উত্তরসূরি দেওয়ান আলী রাজার বংশধরা এখন রাজবাড়িতে বসবাস করেন। তাদের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাষ্ট্রি। তারা সুটকী নদীর মালিকানা দাবি করছেন। কোম্পানীটির বর্তমান মহাব্যবস্থাপক হচ্ছেন আহমেদ জুলকার নাঈন। তিনি ইয়াহিয়া ফিস ইন্ডাস্ট্রিকে একটি কোম্পানী দাবি করলেও বাস্তবে সাইনবোর্ড ছাড়া কোন কার্যক্রম বা যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। জুলকার নাঈনের দাবি শুটকী নদী নয়, এটা দেওয়ান ইয়াহিয়া রাজার পুর্ব পুরুষরা বোরো ফসলের জন্য ওয়াটার রিজার্ভার হিসেবে গড়ে তুলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদী কোন মানুষের হয় না। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সকল নদীর অভিভাবক হচ্ছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কাজেই কেউ মালিকানা দাবি করলে সেটা বিধিসম্মত নয়। নদী জনগণের সম্পত্তি, নদীকে ব্যক্তি মালিকানা দাবি করা অন্যায়।

খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার হিসেবে তিনি বলেন, শতাব্দী ধরে একটি নদী মালিকানা দাবি করে ব্যবহার করা হচ্ছে এমনকি ১৯৭২ সালের দিকে নিজের নামে সুটকি নদীকে নামজারিও করা হয়েছে, এটা অবশ্যই বিস্ময়। অন্যদিকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে হবিগঞ্জ জেলার ৬০০ নদী দখলদারের নাম প্রকাশ করলেও এই নদীর নাম বা দখলদারের নাম পাওয়া যায়নি। দেশের নদ-নদী রক্ষা, রাষ্ট্রের সম্পদ,জনগণের সম্পদ রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র এর দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এর উদাসীনতা কিংবা অন্য যে কোন কারনেই হোক শুটকি নদীটি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমরা মনে করি দ্রæততার সঙ্গে এই নদীটির রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ তালুকদার জানান, হাওড় জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে শুটকী নদীর একটি অংশে খনন করা হয়েছে। এটি একটি নদী। নদী দখলের তালিকায় এই নদীর নাম নেই কারণ কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয় না। এটা জেলা প্রশাসন বলতে পারবে।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজেন ব্যানার্জী বলেন, এস এ রেকর্ড অনুযায়ী এ নদী টি আছে সরকারি মালিকানাধীন। দেওয়ান আলী রাজার পক্ষ থেকে সত্ব মামলা করলেন যার নাম্বার হলো ৯৫/১৯৭২। সেখানে ২৩ নং মোকাবিলা বিবাদী করা হয় সরকার কে। আর ১ থেকে ২২ নং বিবাদী করা হয় উনাদের নিজেদের লোক কে। মামলা করে একতরফা রায় করা হয় তাদের পক্ষে। যেহেতু ১৯৬০ সালের পরে উনারা মামলা করেছেন তখন এস এ রেকর্ড অনুযায়ী মামলা করতে পারতেন কিন্তু উনারা দাগ খতিয়ান উল্লেখ না করে তৈজী মামলা করলেন চালাকি করে। তারপর এই ডিক্রি কে কার্যকর করার জন্য একটি জারি মামলা করা হয়। এবং এতে ১ নং বিবাদী এ ডি সি রিভিনিউ ২ নং বিবাদী এসিল্যান্ড বানিয়াচং ও ৩ নং বিবাদী আর ডি সি কে করা হয়। জারি মামলার আদেশ হয় ২০২১ সালে। এবং এই জারি মামলাতে তারা দাগ খতিয়ান উল্লেখ করেন। সেখানে বলা-হয়েছে তাদের কে ৩ মাসের ভেতরে নামজারী করে দেয়ার জন্য। অন্যথায় সিভিল জেল হবে ৩ মাসের। সরকার পক্ষ আপিল দায়ের করেছে সিলেট কোর্টে মামলা নং ১৯/২০২২। এবং সরকার পক্ষ থেকে জারি মামলার জন্য রিভিশন দায়ের করা হবে আজ। বর্তমান বি এস রেকর্ডে সরকারের দাগ সমুহ ১ নং খতিয়ানে উল্লেখ আছে। সরকার পক্ষ থেকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারি কৌশলীর অবহেলার কারনে এটা হয়েছে বলে একটি রির্পোট আছে।

নদী দখলের তালিকায় এই নদীর নাম নেই কারণ কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি আমাদের বিষয় না। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলতে পারবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর