১১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে নতুন পোশাক বিতরণ

সুমাইয়া আক্তার। বয়স ৯ ছুঁইছুই। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। সুমাইয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাইমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও বাউসা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আফসার মিয়ার মেয়ে। দুই ঈদ ছাড়া তার ভাগ্যে কখনও জুটেনি নতুন পোশাক। এমনকি পরিবারের দারিদ্রতার তার জন্মদিনে পড়েনি নতুন পোশাক। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও শিশু দিবসে নতুন পোশাক পেয়ে সুমাইয়া খুবই খুশি। সুমাইয়া আক্তার বলেন, যমুনার ভাঙনে আমরা বাড়ি ঘর হারিয়েছি অনেক আগেই। সরকারের সহায়তা এই বাউসা মৌজায় একটি ঘর পেয়েছি। ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে কোন দিন নতুন জামা পাইনি। নিজের জন্মদিনে না পেলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে নতুন পোশাক পেয়ে আমি খুবই খুশি। আমার মতো এলাকার অনেককেই নতুন পোশাক দিয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত ও তার মেয়ে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করি। শুধু সুমাইয়া নয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেড় শতাধিক শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ১২ টি উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের সদস্যদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে বাউসা আশ্রয়ন প্রকল্পে আয়োজিত নতুন পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন, ইউপি সদস্য সহিদ সরকার প্রমুখ।

নতুন পোশাক পাওয়া স্বপন দাস বলেন, পূজার আগেই নতুন পোশাক পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। আমার বাবা ছাড়া এর আগে কখনও কেউ নতুন পোশাক দেইনি। পোশাক পেয়ে আমার খুবই ভাল লাগছে।

অপরজন শ্রাবন্তী সরকার বলেন, পূজা ও স্কুল নতুন ড্রেস ছাড়া কখনও নতুন ড্রেস পড়িনি। এখন থেকে আমি নতুন পোশাক পড়তে পারবো। নতুন পোশাক পড়ার আনন্দই আলাদা। তাদের মতো ওই প্রকল্পের বাসিন্দা ইস্মুতারা আক্তার ও বৃষ্টি আক্তার এবং রফিক মিয়াও নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুন বলেন, বিভিন্ন বয়সের প্রায় দেড় শতাধিক শিশুকে নতুন জামা দেয়া হয়েছে। নতুন জামা দিতে পেরে একদিকে আমরা খুশি, অপরদিকে শিশুরা খুশি। আমরা বিভিন্ন সময় এখানে বসবাসরত মানুষদের সহযোগিতা করে থাকি। আমাদের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্ম বার্ষিকীতে দরিদ্র শিশু কিশোররাও যাতে আনন্দ উল্লাস করতে পারে সেই লক্ষ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। শিশুদের পোশাক বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ টি উপজেলায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে করে সমাজের অন্যদের মতো আশ্রয়ন প্রকল্পের শিশু কিশোরা তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ ২৮ মে

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে নতুন পোশাক বিতরণ

প্রকাশিত : ০৮:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২

সুমাইয়া আক্তার। বয়স ৯ ছুঁইছুই। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। সুমাইয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাইমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও বাউসা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা আফসার মিয়ার মেয়ে। দুই ঈদ ছাড়া তার ভাগ্যে কখনও জুটেনি নতুন পোশাক। এমনকি পরিবারের দারিদ্রতার তার জন্মদিনে পড়েনি নতুন পোশাক। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও শিশু দিবসে নতুন পোশাক পেয়ে সুমাইয়া খুবই খুশি। সুমাইয়া আক্তার বলেন, যমুনার ভাঙনে আমরা বাড়ি ঘর হারিয়েছি অনেক আগেই। সরকারের সহায়তা এই বাউসা মৌজায় একটি ঘর পেয়েছি। ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে কোন দিন নতুন জামা পাইনি। নিজের জন্মদিনে না পেলেও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে নতুন পোশাক পেয়ে আমি খুবই খুশি। আমার মতো এলাকার অনেককেই নতুন পোশাক দিয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত ও তার মেয়ে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করি। শুধু সুমাইয়া নয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেড় শতাধিক শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ১২ টি উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের সদস্যদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকেলে বাউসা আশ্রয়ন প্রকল্পে আয়োজিত নতুন পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. খায়রুল ইসলাম, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন, ইউপি সদস্য সহিদ সরকার প্রমুখ।

নতুন পোশাক পাওয়া স্বপন দাস বলেন, পূজার আগেই নতুন পোশাক পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। আমার বাবা ছাড়া এর আগে কখনও কেউ নতুন পোশাক দেইনি। পোশাক পেয়ে আমার খুবই ভাল লাগছে।

অপরজন শ্রাবন্তী সরকার বলেন, পূজা ও স্কুল নতুন ড্রেস ছাড়া কখনও নতুন ড্রেস পড়িনি। এখন থেকে আমি নতুন পোশাক পড়তে পারবো। নতুন পোশাক পড়ার আনন্দই আলাদা। তাদের মতো ওই প্রকল্পের বাসিন্দা ইস্মুতারা আক্তার ও বৃষ্টি আক্তার এবং রফিক মিয়াও নতুন পোশাক পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুন বলেন, বিভিন্ন বয়সের প্রায় দেড় শতাধিক শিশুকে নতুন জামা দেয়া হয়েছে। নতুন জামা দিতে পেরে একদিকে আমরা খুশি, অপরদিকে শিশুরা খুশি। আমরা বিভিন্ন সময় এখানে বসবাসরত মানুষদের সহযোগিতা করে থাকি। আমাদের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্ম বার্ষিকীতে দরিদ্র শিশু কিশোররাও যাতে আনন্দ উল্লাস করতে পারে সেই লক্ষ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। শিশুদের পোশাক বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ টি উপজেলায় ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে করে সমাজের অন্যদের মতো আশ্রয়ন প্রকল্পের শিশু কিশোরা তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর