কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে প্রায় ১৩০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মানের কাজ। জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা গত ১০ দিন ধরে এই কাজ করছেন। সরকারিভাবে ব্রীজ নির্মাণের ব্যবস্থা না করায় চরম দুর্ভোগের শিকার নদীর দু’পারের কিশামত শিমুলবাড়ী ও খাড়য়াসহ পাচঁ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে পারাপরে চরম দুর্ভোগের শিকার হন স্থানীয়রা। তখন কেউ পারাপারে ব্যবহার করেন ডিঙি নৌকা আবার কেউ পারাপার হন কলাগাছের ভেলায়। এতে করে প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটে। শিক্ষার্থীরাও পড়ে ভয়ঙ্কও বিপদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় করিমের ঘাটে বারোমাসিয়া নদীর উপর নির্মিত ১৩০ ফিট লম্বা বাঁশের সাকোটি জরাজীর্ণ অবস্থার মাঝেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। ভারী বস্তা বা পণ্য সামগ্রী পারাপার করতে হিমসীম খাচ্ছে স্থানীয়রা। বিশেষ করে মহিলাও শিশুসহ স্কুল-কলেজে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সতর্কভাবে পারাপার করলেও অনেক সময় দূঘটনার শিকার হন। বছরের পর বছর স্থানীয়রা ব্রীজের দাবী করে আসলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পারাপারে নির্মান করা হয়নি ব্রীজ। স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে জরাজীর্ণ সাঁকোটির পাশ দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য রাশেদুল হকের নিজস্ব উদ্যোগে গত ১০ দিন ধরে নতুন করে বাঁশের সাঁকো নির্মানের কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে।
স্থানীয় করুনা কান্ত ও রাজু মিয়া জানান, ব্রীজ নির্মান না হওয়ায় এলাকাবাসী যুগের পর যুগ চরম দুর্ভোগ সহ্য করে আসছে। প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সাকোঁটি পার হই। ভাঙ্গাচুরা জায়গুলো পার হতে গিয়ে মনে হয় এই বুঝি সাকোটি ভেঙ্গে যায়! এমন দুদর্শা দেখে ইউপি সদস্য রাশেদুল হক তার নিজ উদ্যোগে নতুন করে সাঁকো নির্মান কাজ শুরু করেছে। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যেই সাঁেকা নির্মানের কাজ শেষ হবে বলে আশা।
কৃষক সন্জু মিয়া ও হাসেম আলী জানান, ৭ বছর আগে এখানে একটা ঘাট ছিল। তখন আমরা নৌকা দিয়ে পারাপার করছি। তারপরে জনগণের কাছে বাঁশ সংগ্রহ করে একটা বাঁশের সাকোঁ দেই। এবার সাকোঁটি ভেঙ্গে গেছে। এখন পারাপারে খুবই সমস্যা।
মৎস ব্যবসায়ী আতাউর রহমান রতন ও হামিদুল ইসলাম হিমু জানান, সাকোঁটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ ফুট। এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পারাপার হয়। প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগ সাকোঁটি পারাপারের উপযোগী করি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাশেদুল হক জানান, ব্রীজ নির্মান না করায় বছরের পর বছর হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার। নিজ উদ্যোগে টানা ৭ বছর ধরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় প্রতি বছর সাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হতে হয়। জরুরি ভাবে একটি ব্রীজ নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সৃ-দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস বলেন, সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















