০৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপাদন

খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর সততা নার্সারীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার তালের চারা উৎপাদন চলছে। প্রকৃতির বন্ধু ও ভারসাম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ তাল গাছ। পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত থেকে রক্ষাকারী। ভ‚মির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। তাল একটি অতি পরিচিত প্রাচীণ ফল। একক কান্ড বিশিষ্ট এদেশে অতি পরিচিত গাছ। কান্ড সোজা এবং চমৎকার আকৃতির পাতাগুলো গোলাকার। তালের জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকা বলে ধারণা করা হলেও অনেকে বলেন এটি আমাদের উপ-মহাদেশীয় বৃক্ষ। তালের পত্রে অনেক উচু শিরা আছে। শিরাগুলো পত্রদন্ডের গোড়া হতে অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। পত্রের কিনারা কাঁটার মত। পত্রদন্ডের উভয় কিনারায় করাতের মত কালোবর্ণের দাঁত আছে। এর পুরুষ ও স্ত্রী আলাদা জাত আছে। বাংলাদেশের সব এলাকায় কমবেশী তাল উৎপাদন হলেও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও খুলনা এলাকায় সবচেয়ে বেশী উৎপাদন হয়। তালের কোনো অনুমেদিত জাত নেই। তবে এদেশে বিভিন্ন আকার ও রংয়ের তাল দেখা যায়। আবার কোন কোন তালগাছের বারমাসই কমবেশী তাল ধরে। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই তালগাছ লাগানো যায়। তবে উঁচুজমিতে এবং ভারী মাটি চাষের জন্য বেশী উপযোগী। এদেশে বাগান আকারে কোনো তালগাছের আবাদ নেই। আগষ্ট মাস থেকে তাল পাকতে শুরু করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাকা তাল পাওয়া যায়। ভালো তাল বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরী করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্বাচিত মাতৃবৃক্ষ হতে তালের বীজ সংগ্রহ করা হয়। দুইভাবে তালগাছ লাগানো যায়। সরাসরি বীজ বপন করে অথবা বীজতলায় চারা উৎপাদন করে চারা রোপনের মাধ্যমে আবাদ করা যায়। ভাদ্র হতে কার্তিক মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। সারি থেকে সারি ৭ মিটার এবং চারা থেকে চারা ৭ মিটার বীজের মাধ্যমে তালের বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। সততা নার্সারীতে তালের চারা তৈরীর জন্য গত বছর দেড় লাখ তাল বীজ বপন করা হয়। মাটির ২ ফুট উঁচু বেড তৈরী করে তালের বীজ বপন করা হয়। অঙ্কুুরিত বীজ মাটির নিচের দিকে বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে মাটি খুঁড়ে বীজপত্র তুলে চটের পলিব্যাগে রোপন করে চারা পরিচর্যা করা হচ্ছে। সততা নার্সারীর মালিক অশোক কুমার পাল জানান, নার্সারীতে এ বছরই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপদন করছেন। গত বছর দেড় লাখ তালবীজ থেকে ৮০ হাজার তালের অঙ্কুরিত বীজ রোপনসহ আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছে ৯ লক্ষ টাকা। এখনো চারা তৈরীর পরিচর্যার কাজ চলছে। চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারীতে তালের চারা ক্রয়ের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাছাড়া উৎপাদিত তালের চারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান। নার্সারীতে তাল বীজতলা তৈরীর পর সবসময় ভিজিয়ে রাখা হচ্ছে। ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করবে। বীজ অংকুরোদগমের সময় বীজপত্রের যে আবরণী বের হয়ে আসে তা দেখতে শিকড়ের মত কিন্তু আসলে তা শিকড় নয়। এই বীজপত্রের আবরণীর মাঝে ফাঁপা থাকে, অগ্রভাগে ভ্রæণ অবস্থান করে এবং টিউবের আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়। হলুদ রংয়ের জার্মটিউবের অগ্রভাগে ভ্রæণ আবৃত থাকে এবং তা সাধারণত মাটির নীচের দিকে বৃদ্ধি পায়। জার্মটিউব লম্বা হবার পরেই ভ্রæণের কান্ডের আবরণী এবং ভ্রæণ মূলের আবরণীর বৃদ্ধি শুরু হয়। জার্মটিউবের মতো ১৫-৪০ সে. মি. লম্বা হয়ে থাকে। জার্মটিউব লম্বা হবার ১০-১৫ সপ্তাহের মধ্যে একটি পাতলা আবরণীতে পরিণত হয়। এ অবস্থায় চারায় কেবল ১টি শিকড় থাকে। চারার গোড়া ও শিকড়ের গা হতে ছোট ছোট অনু শিকড়ও গজাতে শুরু করে। মৌসুমী বৃষ্টিপাত আরম্ভ হওয়ার পরপরই পলিব্যাগে উত্তোলিত ৩০-৩৫ সে. মি. লম্বা পাতা বিশিষ্ট চারা মাঠে রোপণ করা হবে। তবে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা থাকলে অথবা পানি সেচের ব্যবস্থা থাকলে চারা এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। চারা রোপণের পর অন্তত প্রথম তিন বছর রোগ-বালাই ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণের হাত হতে চারা রক্ষা করা আবশ্যাক। উপজেলায় প্রথম পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত নিরধ তালের চারা উংপাদন শুরু।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপাদন

প্রকাশিত : ০৬:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুন ২০২২

খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপাদন শুরু হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর সততা নার্সারীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার তালের চারা উৎপাদন চলছে। প্রকৃতির বন্ধু ও ভারসাম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ তাল গাছ। পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত থেকে রক্ষাকারী। ভ‚মির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। তাল একটি অতি পরিচিত প্রাচীণ ফল। একক কান্ড বিশিষ্ট এদেশে অতি পরিচিত গাছ। কান্ড সোজা এবং চমৎকার আকৃতির পাতাগুলো গোলাকার। তালের জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকা বলে ধারণা করা হলেও অনেকে বলেন এটি আমাদের উপ-মহাদেশীয় বৃক্ষ। তালের পত্রে অনেক উচু শিরা আছে। শিরাগুলো পত্রদন্ডের গোড়া হতে অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। পত্রের কিনারা কাঁটার মত। পত্রদন্ডের উভয় কিনারায় করাতের মত কালোবর্ণের দাঁত আছে। এর পুরুষ ও স্ত্রী আলাদা জাত আছে। বাংলাদেশের সব এলাকায় কমবেশী তাল উৎপাদন হলেও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও খুলনা এলাকায় সবচেয়ে বেশী উৎপাদন হয়। তালের কোনো অনুমেদিত জাত নেই। তবে এদেশে বিভিন্ন আকার ও রংয়ের তাল দেখা যায়। আবার কোন কোন তালগাছের বারমাসই কমবেশী তাল ধরে। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই তালগাছ লাগানো যায়। তবে উঁচুজমিতে এবং ভারী মাটি চাষের জন্য বেশী উপযোগী। এদেশে বাগান আকারে কোনো তালগাছের আবাদ নেই। আগষ্ট মাস থেকে তাল পাকতে শুরু করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাকা তাল পাওয়া যায়। ভালো তাল বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরী করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্বাচিত মাতৃবৃক্ষ হতে তালের বীজ সংগ্রহ করা হয়। দুইভাবে তালগাছ লাগানো যায়। সরাসরি বীজ বপন করে অথবা বীজতলায় চারা উৎপাদন করে চারা রোপনের মাধ্যমে আবাদ করা যায়। ভাদ্র হতে কার্তিক মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। সারি থেকে সারি ৭ মিটার এবং চারা থেকে চারা ৭ মিটার বীজের মাধ্যমে তালের বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। সততা নার্সারীতে তালের চারা তৈরীর জন্য গত বছর দেড় লাখ তাল বীজ বপন করা হয়। মাটির ২ ফুট উঁচু বেড তৈরী করে তালের বীজ বপন করা হয়। অঙ্কুুরিত বীজ মাটির নিচের দিকে বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে মাটি খুঁড়ে বীজপত্র তুলে চটের পলিব্যাগে রোপন করে চারা পরিচর্যা করা হচ্ছে। সততা নার্সারীর মালিক অশোক কুমার পাল জানান, নার্সারীতে এ বছরই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপদন করছেন। গত বছর দেড় লাখ তালবীজ থেকে ৮০ হাজার তালের অঙ্কুরিত বীজ রোপনসহ আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছে ৯ লক্ষ টাকা। এখনো চারা তৈরীর পরিচর্যার কাজ চলছে। চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারীতে তালের চারা ক্রয়ের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাছাড়া উৎপাদিত তালের চারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান। নার্সারীতে তাল বীজতলা তৈরীর পর সবসময় ভিজিয়ে রাখা হচ্ছে। ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করবে। বীজ অংকুরোদগমের সময় বীজপত্রের যে আবরণী বের হয়ে আসে তা দেখতে শিকড়ের মত কিন্তু আসলে তা শিকড় নয়। এই বীজপত্রের আবরণীর মাঝে ফাঁপা থাকে, অগ্রভাগে ভ্রæণ অবস্থান করে এবং টিউবের আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়। হলুদ রংয়ের জার্মটিউবের অগ্রভাগে ভ্রæণ আবৃত থাকে এবং তা সাধারণত মাটির নীচের দিকে বৃদ্ধি পায়। জার্মটিউব লম্বা হবার পরেই ভ্রæণের কান্ডের আবরণী এবং ভ্রæণ মূলের আবরণীর বৃদ্ধি শুরু হয়। জার্মটিউবের মতো ১৫-৪০ সে. মি. লম্বা হয়ে থাকে। জার্মটিউব লম্বা হবার ১০-১৫ সপ্তাহের মধ্যে একটি পাতলা আবরণীতে পরিণত হয়। এ অবস্থায় চারায় কেবল ১টি শিকড় থাকে। চারার গোড়া ও শিকড়ের গা হতে ছোট ছোট অনু শিকড়ও গজাতে শুরু করে। মৌসুমী বৃষ্টিপাত আরম্ভ হওয়ার পরপরই পলিব্যাগে উত্তোলিত ৩০-৩৫ সে. মি. লম্বা পাতা বিশিষ্ট চারা মাঠে রোপণ করা হবে। তবে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা থাকলে অথবা পানি সেচের ব্যবস্থা থাকলে চারা এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত লাগানো যায়। চারা রোপণের পর অন্তত প্রথম তিন বছর রোগ-বালাই ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণের হাত হতে চারা রক্ষা করা আবশ্যাক। উপজেলায় প্রথম পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত নিরধ তালের চারা উংপাদন শুরু।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর