১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সাতক্ষীরায় কুকুরের আক্রমনে ক্ষত বিক্ষত ২ শ প্রাণী

সাতক্ষীরায় বোরো ধান কাটার পর থেকে গত এক মাসে পাগলা কুকুরের দল ১শ এর বেশি ছাগল আক্রমন করে খেয়ে ফেলেছে। কামড়িয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে আরও ১শ এর অধিক ছাগল ও ভেড়া। সাথে গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে খরগোশ,
রাজ হাঁস, মুরগি সহ নানা জাতের প্রাণী খেয়ে ফেলছে দলবাঁধা কুকুরের দল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিনের ২ টা ছাগল ৩ টা রাজহাঁস। একই গ্রামের কবিরুল ইসলামের ৩ টা ছাগল ২ টা রাজহাঁস, রইচউদ্দীন সরদারের ৪ টা ছাগল মাঠে বাঁধা অবস্থায় আক্রমন করে খেয়ে ফেলে। ঘটনা প্রায় ১ সপ্তাহ পূর্বে। এ দিকে কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী গ্রামের আঃখালেক, বোয়ালিয়া গ্রামের আঃ আলিম, বাঘাডাঙ্গা গ্রামের মাকপ্ফর রহমান, শিক্ষক রকুনজ্জামান,মুদি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, কাকডাঙ্গা গ্রামের জাহানারা বেগম সহ আশাপাশের সব গ্রামে একই অবস্থা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত ১ সপ্তাহে তাঁদের গ্রামের মাঠে বেঁধে রাখে ঘাস খাওয়ানোর সময় ৫০ টির বেশি ছাগল খেয়ে ফেলেছে।প্রত্যেকটি ছাগলের দাম ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি। এ দিকে কুকুরের আক্রমনে জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গরীব সুফলভোগীরা।

জানা যায়, মৌসুমি বোরো ধান কাটার পর ফাঁকামাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য এ সব পশু বেঁধে রেখে আসলে কুকুরের দল একত্রে আক্রমন করে তা খেয়ে ফেঁলছে। দলবদ্ধ ভাবে আক্রমন করায়, তৈলকুপি গ্রামের রিপন সরদার জানান, আক্রমনের সময় কুকুর গুলোর হিংস্রতা এতটাই ক্ষিপ্রতা থাকে যে তাঁদের প্রতিহত করা খুবই দুরাহ। হায়নার আক্রমন কেউ হার মানাবে।

এ বিষয়ে প্রতিকারে জেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডাঃ এ বি এম আঃ রউফ জানান, কুকুর তো মারা অপরাধ। ইহাতে আমাদের কিছু করার নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি দেখবেন বলে এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হোসাইন শায়াফাত জানান,

সামনে কুকুরের প্রজনন মৌসুম থাকায় কুকুরের দল ক্ষিপ্র থাকে। তবে এ পরিমান গৃহপালিত পশুপাখি খেয়ে ফেলা সহ আহত করার খবর সত্যই দুঃখ্যজনক। কিছু কিছু জেলায় প্রতিকারে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাতক্ষীরাতে নেই।

কতৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রতিকারে ভ্যাকসিন আসলে কুকুরদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে এক খামারী মালিক আঃ কুদ্দুস জানিয়েছেন, আগে কুকুর মানুষের বাড়িত পালিত হত। এখন তা না হওয়ায় খাবারের অভাবে চরিত্র বদল করছে। প্রতিকারে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের উপরেও হামলা করতে পারে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

সাতক্ষীরায় কুকুরের আক্রমনে ক্ষত বিক্ষত ২ শ প্রাণী

প্রকাশিত : ০৪:০০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুন ২০২২

সাতক্ষীরায় বোরো ধান কাটার পর থেকে গত এক মাসে পাগলা কুকুরের দল ১শ এর বেশি ছাগল আক্রমন করে খেয়ে ফেলেছে। কামড়িয়ে ক্ষত বিক্ষত করেছে আরও ১শ এর অধিক ছাগল ও ভেড়া। সাথে গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে খরগোশ,
রাজ হাঁস, মুরগি সহ নানা জাতের প্রাণী খেয়ে ফেলছে দলবাঁধা কুকুরের দল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিনের ২ টা ছাগল ৩ টা রাজহাঁস। একই গ্রামের কবিরুল ইসলামের ৩ টা ছাগল ২ টা রাজহাঁস, রইচউদ্দীন সরদারের ৪ টা ছাগল মাঠে বাঁধা অবস্থায় আক্রমন করে খেয়ে ফেলে। ঘটনা প্রায় ১ সপ্তাহ পূর্বে। এ দিকে কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী গ্রামের আঃখালেক, বোয়ালিয়া গ্রামের আঃ আলিম, বাঘাডাঙ্গা গ্রামের মাকপ্ফর রহমান, শিক্ষক রকুনজ্জামান,মুদি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, কাকডাঙ্গা গ্রামের জাহানারা বেগম সহ আশাপাশের সব গ্রামে একই অবস্থা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, গত ১ সপ্তাহে তাঁদের গ্রামের মাঠে বেঁধে রাখে ঘাস খাওয়ানোর সময় ৫০ টির বেশি ছাগল খেয়ে ফেলেছে।প্রত্যেকটি ছাগলের দাম ৮ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি। এ দিকে কুকুরের আক্রমনে জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিদিন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গরীব সুফলভোগীরা।

জানা যায়, মৌসুমি বোরো ধান কাটার পর ফাঁকামাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য এ সব পশু বেঁধে রেখে আসলে কুকুরের দল একত্রে আক্রমন করে তা খেয়ে ফেঁলছে। দলবদ্ধ ভাবে আক্রমন করায়, তৈলকুপি গ্রামের রিপন সরদার জানান, আক্রমনের সময় কুকুর গুলোর হিংস্রতা এতটাই ক্ষিপ্রতা থাকে যে তাঁদের প্রতিহত করা খুবই দুরাহ। হায়নার আক্রমন কেউ হার মানাবে।

এ বিষয়ে প্রতিকারে জেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডাঃ এ বি এম আঃ রউফ জানান, কুকুর তো মারা অপরাধ। ইহাতে আমাদের কিছু করার নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি দেখবেন বলে এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হোসাইন শায়াফাত জানান,

সামনে কুকুরের প্রজনন মৌসুম থাকায় কুকুরের দল ক্ষিপ্র থাকে। তবে এ পরিমান গৃহপালিত পশুপাখি খেয়ে ফেলা সহ আহত করার খবর সত্যই দুঃখ্যজনক। কিছু কিছু জেলায় প্রতিকারে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও সাতক্ষীরাতে নেই।

কতৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রতিকারে ভ্যাকসিন আসলে কুকুরদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এ বিষয়ে এক খামারী মালিক আঃ কুদ্দুস জানিয়েছেন, আগে কুকুর মানুষের বাড়িত পালিত হত। এখন তা না হওয়ায় খাবারের অভাবে চরিত্র বদল করছে। প্রতিকারে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের উপরেও হামলা করতে পারে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর