পদ্মা সেতু চালু হলেও বন্ধ হবে না ফেরি সার্ভিস। তবে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও জাজিরার কাঁঠালবাড়ী নৌরুটের চলাচলরত কিছু ফেরি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে নেওয়া হতে পারে।
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে প্রতিদিন ফেরিতে ৩-৪ হাজার হাজার যানবাহন পারাপার হয়। যানবাহন পারাপার বাবদ প্রতিবছর শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরি সার্ভিস দিয়ে বাৎসরিক আয় হয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে বার্ষিক আয় ১০০ কোটি টাকা, আয় হচ্ছে বলে ফেরি চলাচল বন্ধ হবে না। সরকারের বিপুল পরিমাণ আয় বন্ধ করে ফেরি চলাচল বন্ধ করা ঠিক নয় বলে অভিমত নৌ বিশেষজ্ঞদের।
তারা বলেছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে প্রতি বছর প্রায় বিশাল অর্থ আয় থেকে বঞ্চিত হবে নৌ-মন্ত্রণালয়ের ফেরি সার্ভিস। তাই বন্ধ হবে না শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ-রুটের ফেরি সার্ভিস এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। যানবাহনের চাপ বিবেচনা করে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরির সংখ্যা কমানো হতে পারে।
জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা যাত্রীরা ঢাকা থেকে বের ও প্রবেশের জন্য পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী, বাংলাবাজার ও মাঝিরঘাট নৌ-রুট ব্যবহার করা হয়।
এই নৌ-রুটের ফেরি দিয়ে যানবাহন, লঞ্চ ও স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয়। প্রতি বছর ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড চাপ থাকে এই নৌ-রুটে। ঈদের সময় প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ হাজার যাত্রী পারাপার হয় এই নৌ-রুটে।
এ বিষয়ে বিআরইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান আহমেদ শামীম আল রাজী জানান, বর্তমানে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ-রুটে ৮টি ফেরি চলাচল করে। সেতু চালু হলে ফেরি সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ হবে না। এখানে চারটি ফেরি চলাচল করবে। বাকি ৪টি ফেরি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বার্ষিক আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান। এ কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হবে না বলে তিনি জানান।
নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ৬ রুটে ফেরি সার্ভিস সচল আছে। এর মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও মঙ্গলমাঝির ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌ-রুটে ৮টি ফেরি চলাচল করে।
কিন্তু ফেরি সংকটের কারণে ঈদের সময় এসব রুটে যানবাহনের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে দুর্ভোগে পোহাতে হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে পদ্মা সেতু চালু হলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরি সার্ভিস হুট করে বন্ধ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপন ড. সামছুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি পদ্ধতি যানবাহন নদী পারাপার হয়েছে। সেতুর মাধ্যমে নদী পার হতে এখন আরো সহজ হবে। যেকোনো পদ্ধতি পতিস্থাপন করতে গেলে সেটা ধাপে ধাপে করতে হয়। তাই পদ্মা সেতু চালু হলেও সীমিত পরিসরে ফেরি সার্ভিস রাখা ভালো হবে। তারপর আস্তে আস্তে তা অন্যত্র স্থানান্তর করা যেতে পারে। কারণ দেখা যাবে অনেক যানবাহন সেতুতে না গিয়ে ফেরিতে পারাপার হবে।
জানা গেছে, স্বাধীনতার আগ থেকে আরিচা-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ছিল। তবে ১৯৮৭ সালে মাওয়া-মাঝিঘাট ও চরজানাজাত রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয় বলে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়। পরে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হলে মাওয়া থেকে শিমুলিয়ায় ঘাট হস্তান্তর করা হয়।
এরপর শিমুলিয়া-বাংলাজার, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও মঙ্গলমাঝির ঘাটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল করে। প্রতিদিন এই নৌ-পথ ব্যবহার করে বরিশাল, মাদারীপুর, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। পদ্মা সেতু চালু হলে ২১ জেলার মানুষের ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান হবে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে প্রতিদিন ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করে। এর মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা লঞ্চ ব্যবস্থা। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা ঘাটে নেমে লঞ্চে পার হয়ে শিমুলিয়া থেকে আবার একই পরিবহনে ঢাকা গিয়ে থাকেন।
এছাড়া ছোট-বড় অন্যান্য লঞ্চগুলোতে সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত পার হয়ে থাকেন। যাত্রীপ্রতি বর্তমানে ৪৫ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। এছাড়া উভয় ঘাট মিলিয়ে দেড় শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে। এই রুটে ৭-৮টি ফেরি চলাচল করে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















