ঢাকা দুপুর ২:১৫, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার ফলাফল যে এমন হবে আগেই জানতাম : ফখরুল

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার মানেই হচ্ছে তাদের আরো বৈধ্যতা দেওয়া, এটা প্রমাণিত সত্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গে টেনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গতকালের নির্বাচন তো আপনারা দেখেছেন। দ্বিতীয়বার আমি আর বলতে চাই না।
এমন ফলাফল যে হবে আমরা বহু আগে থেকেই জানি। যে কারণে বলে দিয়েছি আমরা কোনো নির্বাচনেই যাচ্ছি না। খুব পরিস্কার করে বলেছি।
গত এক যুগ ধরে একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এই দুইটাকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এটা মুদ্রার এপিট আর ওপিট। সেজন্য গণতন্ত্রকে না পেলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমরা কিভাবে পেতে পারি? সেজন্য আমরা গত কয়েকবছর ধরে বলছি আমাদের মূল্য লক্ষ্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা।

যারা গণতন্ত্রকে হরণ করেছে, গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে বাকশাল করে তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র পেতে পারে না-এটা বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ্যে মানুষের ভিন্নমত সহ্য করবার কোনো কিছু নেই। তাদের মধ্যে একটা বডি কেমেস্ট্রি কাজ করে, বডি কেমেস্ট্রি হচ্ছে একদলীয়, জোর করে সব কিছু আদায় করে নেওয়া যেটা একইভাবে সবসময় আছে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য, আমাদের জাতির অস্তিত্বের জন্য, আমাদের এই সংবাদপত্র, আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো, আমাদের বিচার বিভাগ, আমাদের প্রশাসন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা- সব কিছুকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তাহলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেজন্য আমাদের সমস্ত মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে-সব শ্রেণি, সব পেশার মানুষকে জাগিয়ে গণতন্ত্র ফেরানোর যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেই আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করছেন নির্বাসিত হয়ে, আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা- এত কিছুর পরেও আমরা কিন্তু কখনো থেমে নেই। আমরা কাজ করছি এবং চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার এবং দেশকে মুক্ত করার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। নিসন্দেহে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাব এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবই।

বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের পার্থক্য তুলে ধরে দলটির মহাসচিব বলেন, বিএনপির সাথে তফাতটা কোথায়? আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হরণ করেছে, সংবাপত্রের স্বাধীনতার হরণ করেছে, মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছে। আর বিএনপি সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন তিনি। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করার কথাও পূনর্ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আসুন দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারী, এদেশের জনগণকে মিলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। তাহলেই মিডিয়ার স্বাধীনতা অর্জিত হবে। তাছাড়া এদেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা আসবে না।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওতত মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস যদি আপনারা দেখেন দেখবেন এটা হচ্ছে সংবাদপত্র বিরোধী ইতিহাস, মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিপক্ষের ইতিহাস। তারা সবসময় নির্দেশ করেন এবং তারা গর্ব অনুভব করেন। ফ্যাসিজমের প্রতি অনুরক্ত একটি দল এটা করবে এটা খুব স্বাভাবিক।

বিএফইউজের বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা (সরকার) আরো কিছু নিবর্তনমূলক আইন করতে যাচ্ছে। উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা। শুধু তাই নয়, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পরশুদিন যে বক্তব্য রেখেছেন কী ভয়ংকর একটা বিষয়, সেখানে সাংবাদিকরা কোনো অপরাধ করলে সেটার জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। প্রেস কাউন্সিলের আইন সংশোধন করে এই ধারা যুক্ত করা হচ্ছে।

ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আজকে যে ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় বসে আছে তারা বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সব নিবর্তনমূলক আইন একেকটি বিষমাখা তীর। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, কায়কোবাদ মিলন, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন ও শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ