০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে নির্মাণের শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেলো সাড়ে তিন কোটি টাকার সেতু

টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর মাঝখানে দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়ডোমা এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ব্রীজটি দেবে যাওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও দুর্ভোগ বাড়লো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। দ্রæত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রসস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্সস এন্ড ব্রীজ লিমিটেড এন্ড দি নির্মিতি নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতুটির উপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়। ফলে নির্মাণকৃত সেতুটি কোন কাজেই আসছে না ব্যবহারীকারীদের। এতে এক দিকে সরকারের সাড়ে তিন কোটি টাকা অপচয় হলো অন্য দিকে পশ্চিম টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলোও কয়েক গুন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লৌহজং নদীর মাঝখান থেকে গাছ ও বাঁশের পাইল সরে গিয়েছে। সেতুটি মাঝ খানে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভীড় করেছে। কয়েক জন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া স্থান পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দার হাফিজুর রহমান বলেন, ইতি পূর্বে এখানে যে বেইলি সেতু ছিলো সেটিও দুবার ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কয়েক বছর। এ সেতু নির্মাণের কারণেও দুর্ভোগ অব্যাহত আছে। অপর দিকে সেতু না থাকার কারণে এলাকায় কেউ বাসা ভাড়া নিতে চায় না। অপর দিকে জমির দামও অনেক কমে গিয়েছে।
অপর জন খোরশেদ হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবো গেছো। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পথচারী আজাদ মিয়া বলেন, পার্ক বাজার থেকে বাজার করে নিজেই বহন করে আনতে হয়। কোন রিক্সা আসে না। দুই বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অপর জন কাশেম মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় পাশ্ববর্তী অস্থায়ী সেতুতে মাঝে মধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হয়। ছোট খাটো দুর্ঘটনাও ঘটে।
জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সোলায়মান হাসান বলেন, এই সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্যজন পেয়েছিলেন। স্থানীয় এমপি তার কাজ থেকে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেয়। পরে তার কর্মী আমিরুলসহ তার অনুসারীদের কাজটি দিয়েছে। যারা কখনও সেতু নির্মাণ করা দেখেই নাই তারা সেতু নির্মাণ করতে এসেছে। এটা দুঃখ জনক। নদীতে তেমন পানি ও ¯্রােত না থাকলেও সেতুটি দেবে গেছে। সঠিক পদ্ধতিতে মান সম্মত সেতু নির্মাণ করার দাবি জানালেও তারা সব সময় এমপি দোহাই ও ক্ষমতা দেখিয়েছে। সরকারের অর্থের অপচয় করার জন্য বাস্তবায়ন কারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন কথাই শুনে না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কয়েক বছরের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেলো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার। তবে জামিল ভাইসহ কয়েক জনে বাস্তবায়ন করছে। আমার নেতৃত্বে কোন কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শিব্বির আহমেদ আজমী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মুল রহস্য উদঘাটন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

টাঙ্গাইলে নির্মাণের শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেলো সাড়ে তিন কোটি টাকার সেতু

প্রকাশিত : ০৪:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুন ২০২২

টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর মাঝখানে দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়ডোমা এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ব্রীজটি দেবে যাওয়ায় এই সড়ক ব্যবহারকারীদের আরও দুর্ভোগ বাড়লো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। দ্রæত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি এলাকাবাসীর। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রসস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্সস এন্ড ব্রীজ লিমিটেড এন্ড দি নির্মিতি নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতুটির উপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়। ফলে নির্মাণকৃত সেতুটি কোন কাজেই আসছে না ব্যবহারীকারীদের। এতে এক দিকে সরকারের সাড়ে তিন কোটি টাকা অপচয় হলো অন্য দিকে পশ্চিম টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেলোও কয়েক গুন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লৌহজং নদীর মাঝখান থেকে গাছ ও বাঁশের পাইল সরে গিয়েছে। সেতুটি মাঝ খানে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভীড় করেছে। কয়েক জন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া স্থান পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দার হাফিজুর রহমান বলেন, ইতি পূর্বে এখানে যে বেইলি সেতু ছিলো সেটিও দুবার ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কয়েক বছর। এ সেতু নির্মাণের কারণেও দুর্ভোগ অব্যাহত আছে। অপর দিকে সেতু না থাকার কারণে এলাকায় কেউ বাসা ভাড়া নিতে চায় না। অপর দিকে জমির দামও অনেক কমে গিয়েছে।
অপর জন খোরশেদ হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবো গেছো। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পথচারী আজাদ মিয়া বলেন, পার্ক বাজার থেকে বাজার করে নিজেই বহন করে আনতে হয়। কোন রিক্সা আসে না। দুই বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অপর জন কাশেম মিয়া বলেন, সেতু না থাকায় পাশ্ববর্তী অস্থায়ী সেতুতে মাঝে মধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হয়। ছোট খাটো দুর্ঘটনাও ঘটে।
জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক সোলায়মান হাসান বলেন, এই সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্যজন পেয়েছিলেন। স্থানীয় এমপি তার কাজ থেকে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেয়। পরে তার কর্মী আমিরুলসহ তার অনুসারীদের কাজটি দিয়েছে। যারা কখনও সেতু নির্মাণ করা দেখেই নাই তারা সেতু নির্মাণ করতে এসেছে। এটা দুঃখ জনক। নদীতে তেমন পানি ও ¯্রােত না থাকলেও সেতুটি দেবে গেছে। সঠিক পদ্ধতিতে মান সম্মত সেতু নির্মাণ করার দাবি জানালেও তারা সব সময় এমপি দোহাই ও ক্ষমতা দেখিয়েছে। সরকারের অর্থের অপচয় করার জন্য বাস্তবায়ন কারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন কথাই শুনে না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কয়েক বছরের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেলো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার। তবে জামিল ভাইসহ কয়েক জনে বাস্তবায়ন করছে। আমার নেতৃত্বে কোন কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার শিব্বির আহমেদ আজমী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মুল রহস্য উদঘাটন করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ