০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে ৪০ গ্রাম প্লাবিত, তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলায় ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছে। ঢলের তোড়ে ভেসে যাওয়া রাস্তা-ঘাট ও ঘর-বাড়ি এবং ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় চরম ভোগন্তিতে রয়েছে বন্যা কবলিতরা। সেইসাথে অর্ধশত স্কুল ও মাদরাসায় পনি উঠায় ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পানি বন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার এবং নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ করেছে।
দুর্গতরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারি বর্ষন ও ভারতের মেঘালয়ে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার সীমান্তের নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দীসহ ৩ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়। ফলে ঢলের তোড়ে জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলা সদরের মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে এবং পুরাতন ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। অন্য দ্ইু উপজেলাতে ঢলের পানি প্রবেশ করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঝিনাইগাতি উপজেলা।
শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলা সদরের নদীর পানি নেমে গিয়ে উপজেলার অন্য ৫ ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তবে শনিবার থেকে আরো দুই গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। সেইসাথে ওইসব গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সরকারী কাজের লোকজন বিশেষ করে জনশুমারির কর্মীরাও বন্যার কারণে তাদের কাজ করতে সমস্যার স্মৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঢলের তোড়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ও তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি বাড়ি-ঘর, বিভিন্ন মাছের ঘের, পল্ট্রি খামার, সবজি ক্ষেত, বিজ তলারও ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
স্থানীয় পানিবন্দিরা জানায়. দীর্ঘদিন থেকে মহারশি নদীর দুই পার্শ্বে স্থায়ী বেড়ী বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় উপজেলা সদরের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয়সহ সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি, ব্যবসায়ীদের দোকানপাঠ ও কৃষকের ফসলের ক্ষেত। ঢলের পানি চলে গেলেও শত শত একর জমিতে বালুর স্তর পরে সেসব জমিও পতিত হয়ে থাকে। ফলে ভক্তভোগিরা ঢলের পানি ঠেকাতে স্থায়ী বেড়ী বাঁধ নির্মানের দাবী জানায় ভুক্তভোগিরা।
জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার জানায়, বিভিন্ন উপজেলায় পানি বন্দি মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং ৬০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরুপনের কাজ চলছে। সেইসাথে ঝিনাইগাতির মহারশি নদীর দুই তীরে বেড়ী বাঁধ নির্মানের জন্য উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে ৪০ গ্রাম প্লাবিত, তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, বাড়ি ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত : ০৫:২২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলায় ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছে। ঢলের তোড়ে ভেসে যাওয়া রাস্তা-ঘাট ও ঘর-বাড়ি এবং ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় চরম ভোগন্তিতে রয়েছে বন্যা কবলিতরা। সেইসাথে অর্ধশত স্কুল ও মাদরাসায় পনি উঠায় ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পানি বন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার এবং নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ করেছে।
দুর্গতরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারি বর্ষন ও ভারতের মেঘালয়ে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার সীমান্তের নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দীসহ ৩ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হয়। ফলে ঢলের তোড়ে জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলা সদরের মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে এবং পুরাতন ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। অন্য দ্ইু উপজেলাতে ঢলের পানি প্রবেশ করলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঝিনাইগাতি উপজেলা।
শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলা সদরের নদীর পানি নেমে গিয়ে উপজেলার অন্য ৫ ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। তবে শনিবার থেকে আরো দুই গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। সেইসাথে ওইসব গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। এছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সরকারী কাজের লোকজন বিশেষ করে জনশুমারির কর্মীরাও বন্যার কারণে তাদের কাজ করতে সমস্যার স্মৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঢলের তোড়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ও তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি বাড়ি-ঘর, বিভিন্ন মাছের ঘের, পল্ট্রি খামার, সবজি ক্ষেত, বিজ তলারও ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
স্থানীয় পানিবন্দিরা জানায়. দীর্ঘদিন থেকে মহারশি নদীর দুই পার্শ্বে স্থায়ী বেড়ী বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় উপজেলা সদরের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয়সহ সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি, ব্যবসায়ীদের দোকানপাঠ ও কৃষকের ফসলের ক্ষেত। ঢলের পানি চলে গেলেও শত শত একর জমিতে বালুর স্তর পরে সেসব জমিও পতিত হয়ে থাকে। ফলে ভক্তভোগিরা ঢলের পানি ঠেকাতে স্থায়ী বেড়ী বাঁধ নির্মানের দাবী জানায় ভুক্তভোগিরা।
জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার জানায়, বিভিন্ন উপজেলায় পানি বন্দি মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং ৬০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরুপনের কাজ চলছে। সেইসাথে ঝিনাইগাতির মহারশি নদীর দুই তীরে বেড়ী বাঁধ নির্মানের জন্য উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ