০৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আখাউড়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৮ পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারী বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়ি ঘর ও ফসলী জমি ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্নেল বাজার সংলগ্ন আইড়ল এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মনিয়ন্দ ইউনিয়ের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক।

তিনি জানান, পানির প্রবল পানির স্রোতে কারণে কর্ণেল বাজার থেকে ইটনা যাওয়ার পীচ ঢালাই সড়কের উপরদিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে গতরাত সাড়ে চারটার দিকে এটি ভেঙে যায়। এতে পার্শ্ববর্তী মোগড়া ইউনিয়নের নিলাখাদ গ্রামসহ মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল, ইটনা, লক্ষিপুর, খারকোট, বড় লৌহঘর, শোনলৌহঘর, তুলাই শিমুল, বড় গাঙ্গাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামগুলোতে থাকা অনেক পুকুরের মাছ পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ায় মৎস্য চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

হঠাৎ করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় সীমান্তবর্তী এসব গ্রামের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। গ্রামগুলোর নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। দ্রুত এই ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করতে না পারলে গোটা এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের একমাত্র বিএডিসি প্রজেক্টটি পানির তোরে নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্য দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর ও আবদুল্লাহপুর গ্রামের ৯০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে সকালে জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা, সহকারী কমিশনার ভূমি প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন, স্থানীয় মনিয়ন্দ ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী চৌধুরী দ্বিপক, ওয়ার্ড মেম্বার একেএম নিয়াজি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী খালেকুজ্জামান আলমগীর ভূইয়া পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম জানান এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু জেনেছি খালি ত্রিপুরা রাজ্য না এটা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে এবং সিলেট সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে গত দুইদিন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে যার ফলস্বরূপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া কর্নেল বাজার এলাকায় একটি বাঁধ এবং একটি রাস্তা ভেঙেছে,২৮ টি পরিবার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে। ২৮ টি পরিবারকে আমরা খুব দ্রুত শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করছি পানির স্রোত কমে গেলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ টা করে দিবে এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আমি কথা বলেছি তারা খুব দ্রুত এটা মেরামত করে দেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বালো উত্তোলনের বিষয়ে বলেন আমি একটা অভিযোগ শুনেছি বিষয়টি তদন্ত করে দেখি উপজেলা নির্বাহি অফিসার কে বলেছি যদি বালি তোলার কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিব।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

আখাউড়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৮ পরিবার

প্রকাশিত : ০৬:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভারী বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়ি ঘর ও ফসলী জমি ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী মনিয়ন্দ ইউনিয়নের কর্নেল বাজার সংলগ্ন আইড়ল এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মনিয়ন্দ ইউনিয়ের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী দীপক।

তিনি জানান, পানির প্রবল পানির স্রোতে কারণে কর্ণেল বাজার থেকে ইটনা যাওয়ার পীচ ঢালাই সড়কের উপরদিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে গতরাত সাড়ে চারটার দিকে এটি ভেঙে যায়। এতে পার্শ্ববর্তী মোগড়া ইউনিয়নের নিলাখাদ গ্রামসহ মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল, ইটনা, লক্ষিপুর, খারকোট, বড় লৌহঘর, শোনলৌহঘর, তুলাই শিমুল, বড় গাঙ্গাইল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামগুলোতে থাকা অনেক পুকুরের মাছ পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ায় মৎস্য চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

হঠাৎ করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় সীমান্তবর্তী এসব গ্রামের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। গ্রামগুলোর নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। দ্রুত এই ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করতে না পারলে গোটা এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের একমাত্র বিএডিসি প্রজেক্টটি পানির তোরে নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্য দিকে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর ও আবদুল্লাহপুর গ্রামের ৯০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি পরিবারকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে সকালে জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা, সহকারী কমিশনার ভূমি প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন, স্থানীয় মনিয়ন্দ ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী চৌধুরী দ্বিপক, ওয়ার্ড মেম্বার একেএম নিয়াজি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী খালেকুজ্জামান আলমগীর ভূইয়া পানিতে তলিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম জানান এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু জেনেছি খালি ত্রিপুরা রাজ্য না এটা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে এবং সিলেট সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে গত দুইদিন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে যার ফলস্বরূপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া কর্নেল বাজার এলাকায় একটি বাঁধ এবং একটি রাস্তা ভেঙেছে,২৮ টি পরিবার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে। ২৮ টি পরিবারকে আমরা খুব দ্রুত শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করছি পানির স্রোত কমে গেলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ টা করে দিবে এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আমি কথা বলেছি তারা খুব দ্রুত এটা মেরামত করে দেবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বালো উত্তোলনের বিষয়ে বলেন আমি একটা অভিযোগ শুনেছি বিষয়টি তদন্ত করে দেখি উপজেলা নির্বাহি অফিসার কে বলেছি যদি বালি তোলার কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিব।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ