চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে (১৯ জুন) সকাল ১০ টা থেকে চলমান উচ্ছেদ অভিযানে পূর্ব ফিরোজশাহের ১ নং ঝিল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে এ পর্যন্ত ১৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেছে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব ব্যাটালিয়ন আনসার, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার এবং সেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এর সার্বিক তদারকিতে মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, আগ্রাবাদ সার্কেল, মোঃ মাসুদ রানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, চান্দগাঁও সার্কেল, মোঃ উমর ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কাট্টলী সার্কেল এর নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
উচ্ছেদ অভিযান সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেখানে পুনরায় কেউ যাতে দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য কাটা তার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে গাছ লাগানো হবে। রোববার (১৯ জুন) দুপুরের দিকে পূর্ব ফিরোজশাহের ১ নং ঝিল এলাকায় ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যাবে, পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে কাটা তারের বেড়া দিয়ে সীমা নির্ধারণ করা হবে। যদি কেউ এ সীমানা ভেঙে বসতি গড়ে তুলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও বলেছি তাদের আওতাধীন পাহাড়ি জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সেখানে কাটা তারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে। তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৭ জুন রাতে মহানগরীর আকবরশাহ থানার অধীন উত্তর পাহাড়তলীর ফিরোজ শাহ এলাকায় পাহাড় ধসে চার জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। এর পূর্বে গত ১৭ জুন সকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্যে মাইকিং করার পাশাপাশি লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের তদারকিতে সেচ্ছাসেবকরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালুতে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ১৬ জুন থেকে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















