কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত দুই সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী আছেন শতশত মানুষজন। জলাবদ্ধতার কারনে সেখানে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে বারবার দেন দরবার করেও কাজের কাজ না হওয়ায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের বরাবরে। মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় নারীপুরুষ। কৃত্রিম সংকটতেই এর মূল কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তি নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব-ফুলমতি ও বালাতারী এলাকার মলিকারকুঠি গ্রামিন রাস্তায় সরু সরু পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। এতে করে ওই এলাকার শতশত মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিবার গুলো রান্না বান্নাও করতে পারছেন না। হাসঁ মুরগী ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। সংবাদকর্মিরা সেখানে উপস্থিত হলে শতশত গ্রামের নারীপুরুষ এস তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান। তাৎক্ষনিক ভাবে তারা জড়ো হয়ে মানববন্ধন করে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করার দাবি জানান।
গত কয়েকদিন থেকে ভারি বর্ষণে সেখানকার পূর্ব-ফুলমতি ও বালাতারী এলাকার মলিকারকুঠি গ্রামের গ্রামিন রাস্তাসহ বিভিন্নএলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও হাটুঁ পানি। যাতায়াত করতে হচ্ছে হাঁটু পানি দিয়ে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য মিশে একাকার হয়ে গেছে। বাতাসে ভাসছে দুর্গন্ধ। বাসিন্দাদের দুরবস্থার শেষ নেই।
মন্জু নামের এক নারী জানালেন, তারা প্রায় দু’সপ্তাহ থেকে বাড়ীতে একহাঁটু পানির নীচে রয়েছেন। কেউ তাদের খোজ রাখেনি। চিড়ামুড়ি খেয়ে শিশু সন্তান নিয়ে মাচা টাঙিয়ে বাস করছেন।
স্থানীয় দবির, রব্বানী, ওবায়দুল ও রিপন জানালেন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই আমাদের এই পানিবন্দির জন্য দায়ী। তারা পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে দিলেন। আমরা ছেলে মেয়ে পানিতে ভাসছি। তারা তামাশা দেখছেন। আমরা দ্রত এর সমাধান চাই।
স্থানীয় নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম সাবু জানালেন, আমি বারবার চেষ্টা করেও স্থানীয প্রভাবশালীদের কবল থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া কালভার্টের মুখ খুলে দিতে পারি নাই। অবশেষে স্থানীয়রা প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন।
নাওডাঙ্গ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানালেন, আমরা দ্রত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্ত কেউ কেউ জনগণকে নিয়ে খেলা করছেন! তারাতো কষ্টে নেই! কষ্টে আমার জনগণ।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















