০৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সড়কের পাশে মরা গাছ, ঝুঁকি নিয়ে পথচারীর চলাচল

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ ঝড়ে কাত হয়ে বা রোগাক্রান্ত হয়ে মরে দাড়িয়ে আছে। ঝড়-বৃষ্টিতে মাঝে-মধ্যেই এসব গাছের ডাল-পালা ভেঙে পড়ে যায়। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই ওই সড়কগুলো দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক বছর ধরে সড়কের দুই পাশের গাছ রোগাক্রান্ত হয়ে মরে গেছে। আক্রান্ত গাছের পাতা প্রথমে ঝরে পড়ে এবং পরে ডালপালা শুকিয়ে তাও ভেঙ্গে পড়ছে। গৌরীপুর-বেখৈরহাটি, গৌরীপুর-কলতাপাড়া ও গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে প্রায় অনেকগুলি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। এরমধ্যে গৌরীপুর-বেখৈরহাটি সড়কের ঘাগলা মোড়ে পাঁচটি মরা গাছ যেকোন সময় ঝরে পড়তে পারে। গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের তাঁতকুড়া বাজারে একটি মরা গাছ সড়কের ওপর হেলে পড়েছে। গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের মইলাকান্দা, গাভিশিমুল, লঙ্কারপুল, ইটখলা বাজার এলাকায় সড়কের দুপাশে কমপক্ষে বিশটি মরা গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মরে যাওয়া এসব গাছের কোনোটিতে ঘুণ ধরেছে, আবার কোনোটিতে কাঠঠোকরা পাখি বাসা বেঁধেছে। সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো সরকারি হওয়ায় মামলা ও হয়রানির ভয়ে কেউ নিজ উদ্যোগে গাছ অপসারণ করতে চায়না। আর এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে সড়কের পাশের এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় মরা গাছের ডাল-পালা সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে। আবার ঝড়-বৃষ্টিতে মরা গাছ সড়কের পাশে কৃষকের জমিতে পড়ে যায়। আইনের ভয়ে কৃষক এসব গাছ কাটেও না সরাতেও পারে না। ফলে কৃষককে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং চাষাবাদ ব্যহত হয়। তাই কতৃপক্ষের কাছে দাবি দ্রæত এসব গাছ অপসারণ করা হোক।

গাড়ি চালক কামাল মিয়া বলেন সড়কের পাশে মরা গাছগুলো দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যেকোন সময় মরা গাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বর্ষা-বাদলের দিন এই সড়কগুলো দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় করে। এই গাছগুলো কেটে ফেললে ভালো হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোঃ ওয়াহেদুল হক বলেন, সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলো অপসারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ও মরা গাছ কাটার বিধান আছে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সরকারি গাছ কাটা যাবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

সড়কের পাশে মরা গাছ, ঝুঁকি নিয়ে পথচারীর চলাচল

প্রকাশিত : ০৭:২০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ ঝড়ে কাত হয়ে বা রোগাক্রান্ত হয়ে মরে দাড়িয়ে আছে। ঝড়-বৃষ্টিতে মাঝে-মধ্যেই এসব গাছের ডাল-পালা ভেঙে পড়ে যায়। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই ওই সড়কগুলো দিয়ে যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক বছর ধরে সড়কের দুই পাশের গাছ রোগাক্রান্ত হয়ে মরে গেছে। আক্রান্ত গাছের পাতা প্রথমে ঝরে পড়ে এবং পরে ডালপালা শুকিয়ে তাও ভেঙ্গে পড়ছে। গৌরীপুর-বেখৈরহাটি, গৌরীপুর-কলতাপাড়া ও গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে প্রায় অনেকগুলি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। এরমধ্যে গৌরীপুর-বেখৈরহাটি সড়কের ঘাগলা মোড়ে পাঁচটি মরা গাছ যেকোন সময় ঝরে পড়তে পারে। গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের তাঁতকুড়া বাজারে একটি মরা গাছ সড়কের ওপর হেলে পড়েছে। গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের মইলাকান্দা, গাভিশিমুল, লঙ্কারপুল, ইটখলা বাজার এলাকায় সড়কের দুপাশে কমপক্ষে বিশটি মরা গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মরে যাওয়া এসব গাছের কোনোটিতে ঘুণ ধরেছে, আবার কোনোটিতে কাঠঠোকরা পাখি বাসা বেঁধেছে। সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো সরকারি হওয়ায় মামলা ও হয়রানির ভয়ে কেউ নিজ উদ্যোগে গাছ অপসারণ করতে চায়না। আর এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে সড়কের পাশের এসব ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় মরা গাছের ডাল-পালা সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে। আবার ঝড়-বৃষ্টিতে মরা গাছ সড়কের পাশে কৃষকের জমিতে পড়ে যায়। আইনের ভয়ে কৃষক এসব গাছ কাটেও না সরাতেও পারে না। ফলে কৃষককে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং চাষাবাদ ব্যহত হয়। তাই কতৃপক্ষের কাছে দাবি দ্রæত এসব গাছ অপসারণ করা হোক।

গাড়ি চালক কামাল মিয়া বলেন সড়কের পাশে মরা গাছগুলো দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। যেকোন সময় মরা গাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বর্ষা-বাদলের দিন এই সড়কগুলো দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় করে। এই গাছগুলো কেটে ফেললে ভালো হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোঃ ওয়াহেদুল হক বলেন, সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলো অপসারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ও মরা গাছ কাটার বিধান আছে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সরকারি গাছ কাটা যাবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর