ঢাকা দুপুর ১:৪২, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হরিপুরে তৃতীয় ধাপেও ৩২টি ভূমিহীন পরিবার পেলোনা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ী

ঠাকুরগাঁওযের হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউরিয়নের খোলড়া গ্রামের ৩২টি ভ’মিহীন পরিবার এবার ও তৃতীয় ধাপে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ী পেলোনা। সরকারী খাশ জমি বামুন দিঘীর পারে ১৯৭৫ সাল থেকে দির্ঘ্য ৪৭বছর ধরে বসবাস করার পরও মামলা জনিত কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের অনুকুলে ভ’মিহীন ও গৃহগীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো তারা। এনিয়ে ৩২টি পরিবারের প্রায় ডের শতাধিক মানুষ হতাশায় ভুগছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা য়ায হরিপুর উপজেরা সদর থেকে প্রায় ডেরকিলো মিটার দুরত্বে সরকারী খাশ পুকুর যা বামুনদিঘী নামে পরিচিত যার জমির পরিমান ২.৬৩ শতক। এখানে মাটির দেওয়াল ,টিনের ছাপরা বানিয়ে জরাজিন্ন ভাবে ছিন্ন কুটিরে মানবেতর ভাবে এই ৩২টি পরিবার তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে বসবাস করছে। ৩২টি পরিবারের মধ্যে ১৮টি হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি যাদের বংশানু ক্রমে পেশায় বাঁশ মালী, আর ৭টি পরিবার হচ্ছে আদীবাসি,এবং ৭টি মোসলিম পরিবাও রয়েছে সেখানে। কৃষি কাজ বা চাসাবাদের জন্য তাদের নিজস্ব কোন জায়া জমিনেই। দিনমুজুর আর শ্রমিকের কাজ করে চলে তাদের পরিবার। পুকুর পারে বসবাস কারি খতিব (৭০), রাহেলা(৮০), বিভোতি রানী, সরলাদাস(৭০),বুধু হেমরম(৫৫), লক্ষী মারডি(৮০) সকলে বলেন আমরা জেনে আসছি এটি একটি সরকারী খাশ পুকুর। এখানে আমরা ৪৭বছর ধরে বসবাস করে আসছি। আমরা পেশায় বাঁশ মালী। হাট বাজার ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে বাঁশ নিয়ে এসে বাড়িতে কৃষি কাজের ব্যবহ্নীত জিনিস পত্র তৈরী করে বাজারে বিক্রয় করে যে টাকা পাই তাদিয়েই জিবিকা নিবাহ করি। বর্তমানে প্লাষ্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে আমাদের পন্যের কদর কমেগেছে। বাঁশ ও পাওয়া যায়না দামও বেশি। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে জিবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পরেছে। আমরা সরকারী সুয়োগ সুবিধাও তেমন পাইনা। আমাদের খোজ খবর কেউ রাখেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ী ও জমি পাওয়ার জন্য আমরা ইউএনও নিকট গিয়েছিলাম কিন্ত আমরা এবারও তৃতীয ধাপে বাড়ী পেলামনা। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সরকারী খাশ জমি ও পুকুর পারে যারা বসবাস করছিল তারা সকলেই বাড়ী ও জমি পেল কিন্ত আমরা পাবোনা কেন? ঐ পুকুর পারে বসবাস কারি আব্দুল হালিম নামে এক ব্যাক্তি এখন এই পুকুর ও পুকুর পারের জমির মালিকানা দাবী করে আমাদের কে সেখান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য আমাদের সাথে বিরোধ সৃষ্ঠি করছে। আমরা এখন কথায় যাবো।এবিষয়ে সহকারী কমিশনার(ভ’মী) রাকিবুজ্জামান বলেন পুকুরের মালিকানা নিয়ে আব্দুল হালিম নামে এক ব্যাক্তির সাথে সরকারের মামলা চলছে। মামলা শেষ না হওয়া পয়ন্ত তাদেও অপেক্ষা করতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ