০৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে প্রেমিকের মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগ

প্রেমিককের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শিকলে বেঁধে নির্যাতন ও ঐ প্রেমিকের মাথার চুল কেটে অর্ধ ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমিককে নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার রাতেই রাঙ্গাবালী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়।

ওই মামলায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, প্রেমিকার ভাই দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের মামুন হাওলাদার (২২) ও চাচা রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই প্রেমিক সদর ইউনিয়নের উনিশ নম্বর রাঙ্গাবালী গ্রামের ফজলু প্যাদার ছেলে এবং রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল প্যাদা (১৮)। কলেজপড়ুয়া ফয়সালের সঙ্গে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের খবির হাওলাদারের মেয়ে কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আনিশার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের দীর্ঘদিনের এ প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারে জানাজানি হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় আনিশার বাবা খবির হাওলাদার মুঠোফোনে ফয়সালকে কল করে মেয়েকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডাকেন। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফয়সাল তার প্রেমিকার বাড়িতে ছুঁটে যান। বাড়িতে পৌঁছলেই ফয়সালকে পরিকল্পিতভাবে আটক করে শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায় মাথার তালুর চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। পরে মাথায় আলকাতরা দেওয়ারও চেষ্টা করে নির্যাতনকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় ফয়সালকে উদ্ধার করে পুলিশ। এজাহারের তথ্যানুযায়ী, টানা ৭ ঘন্টা ফয়সালকে আটকে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, ফয়সাল নির্যাতনের ঘটনায় তার মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় নামধারী আসামি প্রেমিকার বাবা খবির হাওলাদার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী আকলিমা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে তো মারছেই, সেখানে গেলে আমাকেও মারতে চায়। গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে শিকল দিয়া বাঁধা। মাথার চুল কামানো (ন্যাড়া)। পরে আমি পুলিশকে জানাই। তারা এসে আমার ছেলেকে ওখান থেকে উদ্ধার করেন।’

নির্যাতনের শিকার ফয়সাল প্যাদা বলেন, ‘আমাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে। পানি ছিটিয়ে উঠানোর পর আবার মারে। মাথা কামিয়ে দেয়। কালো আলকাতরাও দিতে চায়।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, তাৎক্ষণিক ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামি গ্রেফফতারের চেষ্টা চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

রাঙ্গাবালীতে প্রেমিকের মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৫:২২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২

প্রেমিককের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শিকলে বেঁধে নির্যাতন ও ঐ প্রেমিকের মাথার চুল কেটে অর্ধ ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রেমিককে নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার রাতেই রাঙ্গাবালী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়।

ওই মামলায় ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, প্রেমিকার ভাই দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের মামুন হাওলাদার (২২) ও চাচা রিয়াজ হাওলাদার (৩৫)।

জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই প্রেমিক সদর ইউনিয়নের উনিশ নম্বর রাঙ্গাবালী গ্রামের ফজলু প্যাদার ছেলে এবং রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল প্যাদা (১৮)। কলেজপড়ুয়া ফয়সালের সঙ্গে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের খবির হাওলাদারের মেয়ে কাছিয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী আনিশার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের দীর্ঘদিনের এ প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারে জানাজানি হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় আনিশার বাবা খবির হাওলাদার মুঠোফোনে ফয়সালকে কল করে মেয়েকে তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডাকেন। ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফয়সাল তার প্রেমিকার বাড়িতে ছুঁটে যান। বাড়িতে পৌঁছলেই ফয়সালকে পরিকল্পিতভাবে আটক করে শিকল দিয়ে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায় মাথার তালুর চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। পরে মাথায় আলকাতরা দেওয়ারও চেষ্টা করে নির্যাতনকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল সাড়ে ৫ টায় ফয়সালকে উদ্ধার করে পুলিশ। এজাহারের তথ্যানুযায়ী, টানা ৭ ঘন্টা ফয়সালকে আটকে রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, ফয়সাল নির্যাতনের ঘটনায় তার মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় নামধারী আসামি প্রেমিকার বাবা খবির হাওলাদার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী আকলিমা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে তো মারছেই, সেখানে গেলে আমাকেও মারতে চায়। গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে শিকল দিয়া বাঁধা। মাথার চুল কামানো (ন্যাড়া)। পরে আমি পুলিশকে জানাই। তারা এসে আমার ছেলেকে ওখান থেকে উদ্ধার করেন।’

নির্যাতনের শিকার ফয়সাল প্যাদা বলেন, ‘আমাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলে। পানি ছিটিয়ে উঠানোর পর আবার মারে। মাথা কামিয়ে দেয়। কালো আলকাতরাও দিতে চায়।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, তাৎক্ষণিক ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামি গ্রেফফতারের চেষ্টা চলছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর