০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করার অপরাধে দুই যুবককে গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী’র অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার অপরাধে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বি বাদী হয়ে বুধবার রাতে সরাইল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাঁরা যাদেরকে সন্দেহ করেছিলেন তাদের মধ্যে ২ জন উপজেলা শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব শেখ আবুল কালামের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শেখ আফরান আহমেদ আরিফ (১৯) এবং কুট্টাপাড়া এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম আপেল (২৯) মোবাইলসহ গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ মার্চ তারিখে মরিয়ম বেগমের সাথে সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সুপরিকল্পিতভাবে ধারণ করে একটি কুচক্রীমহল। পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও দীর্ঘদিন সংরক্ষন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে প্রদর্শণ করে এলাকায় মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি কর মহলটি। গোপনে ধারণকৃত পারিবারিক ঐ ভিডিওটি গত ২০ জুন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আইডি থেকে ভাইরাল করা হয়। বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারের দৃষ্টিগোচর হলে পরিবারের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করা হয়। জিডি নং ১১৯৪।

সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক। আমার একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে অপমান, অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে আমার পারিবারিক মানহানি ও সম্মান নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ঘটনার অন্তরালে থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ, ভিডিও প্রদর্শন, সংরক্ষন, প্রচার ও প্রকাশের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনানুগভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামীদের ব্যপারে তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে সরাইল সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মোঃ আনিছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে পারিবারিক সম্মতিতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন । ঐ ভদ্র মহিলাকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়। সরাইল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডিমূলে তাঁরা যাদেরকে সন্দেহ করেছিলেন তাদের মধ্যে ২ জনকে আমরা আটক করে তাদের মোবাইল সিজ করি।

জব্দকৃত মোবাইল থেকে ভিডিওটি ভাইরালের পূর্বের তারিখে তাদের মোবাইলে ভিডিওটি পাওয়া যায়। অতঃপর তাদের ২ জনকে গ্রেফতার করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করার অপরাধে দুই যুবককে গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৫:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুন ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী’র অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার অপরাধে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছেন সরাইল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বড় ছেলে সাইফুল ইসলাম ঠাকুর রাব্বি বাদী হয়ে বুধবার রাতে সরাইল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাঁরা যাদেরকে সন্দেহ করেছিলেন তাদের মধ্যে ২ জন উপজেলা শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব শেখ আবুল কালামের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শেখ আফরান আহমেদ আরিফ (১৯) এবং কুট্টাপাড়া এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে তরিকুল ইসলাম আপেল (২৯) মোবাইলসহ গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২ মার্চ তারিখে মরিয়ম বেগমের সাথে সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সুপরিকল্পিতভাবে ধারণ করে একটি কুচক্রীমহল। পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও দীর্ঘদিন সংরক্ষন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকজনকে প্রদর্শণ করে এলাকায় মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি কর মহলটি। গোপনে ধারণকৃত পারিবারিক ঐ ভিডিওটি গত ২০ জুন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আইডি থেকে ভাইরাল করা হয়। বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারের দৃষ্টিগোচর হলে পরিবারের পক্ষ থেকে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করা হয়। জিডি নং ১১৯৪।

সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক। আমার একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়টি নিয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমাকে অপমান, অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে আমার পারিবারিক মানহানি ও সম্মান নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ঘটনার অন্তরালে থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ, ভিডিও প্রদর্শন, সংরক্ষন, প্রচার ও প্রকাশের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনানুগভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থি দাবি করছি।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ আসলাম হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামীদের ব্যপারে তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে সরাইল সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মোঃ আনিছুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে পারিবারিক সম্মতিতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন । ঐ ভদ্র মহিলাকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়। সরাইল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডিমূলে তাঁরা যাদেরকে সন্দেহ করেছিলেন তাদের মধ্যে ২ জনকে আমরা আটক করে তাদের মোবাইল সিজ করি।

জব্দকৃত মোবাইল থেকে ভিডিওটি ভাইরালের পূর্বের তারিখে তাদের মোবাইলে ভিডিওটি পাওয়া যায়। অতঃপর তাদের ২ জনকে গ্রেফতার করে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ