ঢাকা রাত ৮:২৪, শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বর্নিল সাজে সেজেছে পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্ত

২৫ উদ্বোধন হতে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এ উপলক্ষে জাজিরা প্রান্তকে সাজানো হয়েছে বর্নিল সাজে। ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে বইছে উৎসবের আমেজ। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা ও শিবচরের কাঁঠালবাড়ির জনসভাস্থল এখন প্রস্তুুত। শুক্রবার (২৪ জুন) বিকালে সরেজমিন গিয়ে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

তারা জানান, আজ মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেতু পেরিয়ে তিনি আসবেন জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায়। সেখানে কয়েকটি স্থাপনার উদ্বোধন শেষে শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে গিয়ে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এরই মধ্যে ওই এলাকায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছবি ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের বিভিন্ন সময়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন করার ছবি লাগানো হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পাল্লা দিয়ে কয়েক হাজার ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সাঁটানো হয়েছে। পাশাপাশি সহস্রাধিক তোরণ নিমার্ণ করা হয়েছে। সংযোগ সড়কের পাশের গাছসংলগ্ন আগাছা ও ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কে পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এসব এলাকায় টহল দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এসব এলাকাও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ জনসভা সফল করতে শরীয়তপুরের জেলা শহর ও ৬টি উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই লাখ নেতাকর্মী যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর নেতৃত্বে শরীয়তপুর জেলা সদর এবং জাজিরা থেকে প্রায় ৫০টি বাস, ৭ হাজার মোটরসাইকেল এবং শতাধিক ট্রাক নিয়ে এক লাখ নেতাকর্মী কালারফুল গেঞ্জি ও টুপি পড়ে জনসভায় যাবে।
শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের নির্দেশনায় এবং ব্যবস্থাপনায় শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানা থেকে ১৬টি বিলাসবহুল লঞ্চ ও বর্নিল সাজে সাজানো পাল তোলা নৌকাসহ তিনশত ট্রলার প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী কালারফুল গেঞ্জি ও টুপি পড়ে সকাল ৮টার মধ্যেই জনসভাস্থলে থাকবে।
শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের নেতৃত্বে গোসাইরহাট, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ উপজেলা ৬টি বিলাসবহুল লঞ্চ ও ৫০টি বাস এবং ট্রাক নিয়ে থেকে সকাল ৬টার মধ্যেই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী জনসভা স্থালে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী কালারফুল গেঞ্জি ও টুপি পড়ে অংশগ্রহন করবেন।

এদিকে, সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার মূল সেতুর কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পদ্মা সেতু চালুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) সেতুটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজার পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে। আরও নির্মাণ করা হয়েছে ইলিশের ভাস্কর্য ও ফোয়ারা।

এব্যাপারে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, আমাদের প্রাণের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে। পদ্মসেতু আত্মমর্যাদার প্রতিক, গৌরবের প্রতিক, সততার প্রতিক। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে শুধু এ অঞ্চলের মানুষই নয় সারাদেশের মানুষ উচ্ছ্বসিত। প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত হয়ে পদ্মা সেতু ঘিরে যেসব ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তার সমুচিত জবাব দেবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ