এক সপ্তাহ পর কোরবানির ঈদ। ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ সময়ে টাঙ্গাইলের পশু খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার ১২ টি উপজেলায় আসন্ন ঈদে ৮১ হাজার পাঁচটি পশুর চাহিদা থাকলেও প্রস্তুত আছে ৮৭ হাজার ৯১টি।
প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক, খামারি ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা জানান, টাঙ্গাইলে দেশীয় জাতের পশুর পাশাপাশি নেপালি, হরিয়ানা, সিন্ধি, জাতের গরু এবং ছাগল, মহিষ ও ভেড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, ভুষি, খৈল, আখের গুড়, কাঁচাঘাস আর পুষ্টিকর দানাদার খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। কোনো প্রকার রাসায়নিক ঔষধ বা হরমোন জাতীয় ইনজেকশন প্রয়োগ না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করেছেন। পশুর শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে পশুর মাথার ওপর রাখা হয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা। নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাা সেবা।
তারা আরও জানায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তারা বাড়তি আয় করে থাকে। কেউ নিজ পালের গরু আবার কেউ ঈদের ৬ থেকে ৭ মাস আগে বাজার থেকে গরু কিনে লালন পালন করে ঈদের জন্য প্রস্তুত করেন। ক্রেতারা কোরবানীর এক মাস আগে থেকে খামারিদের সাথে যোগাযোগ করছেন। বেশির ভাগই গরু ৮০ থেকে এক লাখ টাকা মূল্যের। এ পশুগুলোর অধিকাংশই মধ্যবিত্তদের চাহিদা মেটাবে। প্রথম দিকে কোরবানির পশু বেচাকেনা তেমনভাবে শুরু না হলেও শেষ সপ্তাহের দিকে পশু বিক্রি পুরোপুরি শুরু হয়। তবে গো খাদ্যের চড়া দামে পশু লালন পালন করে ন্যায্য মূল্য পাবেন কিনা তা নিয়ে অনেকটা শঙ্কায় আছেন পশুর মালিকরা।
সদর উপজেলা পিচুরিয়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, আমার বাড়ির পাঁচ গরুর মধ্যে ঈদকে কেন্দ্র করে তিনটি মোটাতাজা করেছি। ঈদকে কেন্দ্র করে আমার মতো অনেক কৃষক ও খামারীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশীয় খাদ্য খাওয়ানের মাধ্যমে এ গুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। ঈদের বাজারে কাঙ্খিত দাম পেলে গরু পালনে আমি আরও উৎসাহিত হবো।
অপর কৃষক লোকমান মিয়া বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে ভারতসহ বাইরের দেশ থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এতে করে আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবো বলে আমি মনে করছি।
ভ‚ঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের চকদার গরুর খামারের প্রোপাইটর মো. দুলাল হোসেন চকদার জানান, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমরা অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এবছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমি ১০০ গরু মোটাতাজা করেছি। তবে গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কাঙ্খিত দাম নিয়ে শঙ্কায় আছি। ৩-৮ লাখ টাকা দামের গরু আছে আমার খামারে। বাইরের দেশ থেকে গরু আনা বন্ধের পাশাপাশি যুবকদের স্বল্প সুদে ঋণ দিলে অনেক বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি নিজের উৎপাদিত মাংসেই দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মিটবে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৮১ হাজার পাঁচটি। প্রস্তুত রয়েছে ৮৭ হাজার ৯১টি। চাহিদার চেয়ে ৬ হাজার ৮৬টি পশু বেশি রয়েছে। মোট পশুর মধ্যে ষাঁড় ৪৪ হাজার ৮২৭টি, বলদ ৬ হাজার ৭টি, গাভী ৮ হাজার ২৪৭টি, মহিষ ২৩৩ টি, ছাগল ২৪ হাজার ১৮২টি, ভেড়া ৩ হাজার ৫৬৪টি ও অন্য ৩২টি।
গত ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৭৩ হাজার ৯৭৭টি আর প্রস্তুত ছিল ৮০ হাজার ২০০টি। ২০২০ সালের চাহিদা ছিলো ৭৩ হাজার ৫৪৭টি আর প্রস্তুত ছিল ৯০ হাজার ৫২২টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, খামারি আর প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের লালন পালন করা পশুর প্রাথমিক তালিকায় এ সংখ্যা নির্ধারণ হলেও মাঠ পর্যায়ের হিসাবে আরও বাড়বে। এ দেশের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ আছে। যে কোন সমস্যায় তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রতিটি কোরবানির পশু হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















