একদিকে গরম অন্য দিকে বিদ্যুৎতের লোডশেডিং আমাদের হাতপাখা ছাড়া কি গতি আছে এটাই আমাদের একমাত্র ভরসা। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ এর কি দরকার এ কথা গুলো বলেন,কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের গ্রাহক আব্দুল হেলিম।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন বিদ্যুৎ আসে আর চলে যায়। ২০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকলে ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। প্রচন্ড গরম থাকায় ঘনঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের ফলে হাতপাখা পড়ছে একমাত্র ভরসা। এতে হাতপাখা কদর বেড়েছে দ্বিগুন এছাড়া হাতপাখা কারিগররা হচ্চে স্বাবলম্বী। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকে হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। জৈষ্ঠ্য মাস পার হলে কাজের চাপ কমতে থাকে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,ফালগুন মাস থেকে তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু করে হাতপাখা তৈরি কারিগররা। গরমের তীব্রতা বাড়ায় পাখা তৈরি তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে দ্¦িগুন। আগে যেখানে হাতপাখা বিত্রি হত প্রতিদিন ৫০০০ গরম আর বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের কারনে ১০,০০০ পিছ হাতপাখা বিত্রি হচ্চে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছে পাখা কেনার জন্য। এদের মধ্যে কেউ শ্রমিক হিসেবে,আবার কেউ নিজের টাকায় পাখা তৈরি করেন। আবার স্থানীয় কয়েকজন মহাজন শ্রমিক খাটিয়ে প্রতি মৌসুমে ৩০-৪০ হাজার পাখা তৈরি করে নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকে।
মিলকারখানার কারিগররা জানান,এত বিদ্যুৎ লোডশেডিং যা আমরা কাজ করতে পারছিনা। এতে মালিকরা আমাদের টার্গেট দেন তা পুরণ করতে পারিনা আর পুরণ না করতে পারলে প্রতিদিনের পারিশ্রমিক দিচ্ছেনা। আমরা যদি পুরোপুরি বেতন না পাই তবে আমাদের সংসার চলবে কি করে এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে সমস্যা হচ্চে।
একজন রিক্সাচালক চালক জানান, আমার চার ছেলে, দুই মেয়ে। আজ একসপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ এর কারনে রিক্সা চার্জ দিতে পারছি না। আর রিক্সা ছাড়া রোজগারের পথ না থাকায় বয ওছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে অনাহরে থাকতে হচ্চে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কটিয়াদী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ নাইমুল আহসান বলেন, গ্যাস সংকটে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। বিধায় আমাদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎপ্রাপ্ত না হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















