বর্ষা মৌসুম নদী, খাল-বিলে পানিতে ভরপুর। এ মৌসুমে মাছ ও বেশ ভাল পাওয়া যায়। এখন খরা জাল দিয়ে মাছ শিকার করেন অনেকেই। আর এই খরাজাল দিয়ে যমুনা খাল সহ তিতাস ও বুড়ি নদী ও বিভিন্ন খালে মাছ ধরে সংসার চালাচ্ছে নবীনগরের শতাধিক জেলে পরিবার। নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম, মাঝিয়ারা, বাঙ্গরা, জিনদপুর, গোসাইপুর, কনিকাড়া, কাজিমাবাদ, কড়ইবাড়ি, টানচারা, রাধানগর, ভৈরবনগর, লাপাং, সাদেকপুর, মনতলা, হাজিপুর, উত্তরদাররা, মোল্লা, বিশারা, দামলা, গুলপুকুরিয়া, ফতেপুর, সীতারামপুর, ইব্রাহিমপুর, কালীপুরা, শ্রীরামপুর, জগন্নাথপুর, সাতমোড়া এবং রছুল্লবাদ এলাকায় তিতাস ও বুড়ি নদী ও যমুনা খালে, দেখা মেলে খরাজাল দিয়ে শত শত মাছ শিকারির। বাঁশ দিয়ে তৈরী এ সব খরাজালের মাধ্যমে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করেন তারা। এলাকার আনোয়ার , মুনতাজ, মোতাহার আলী, লতিফ, জয়নাল, শুকচান, জাহেদ , সোনা মিয়া, মহিবুল ইসলাম, শফি, রকিকুল, ওমরসহ বেশ কয়েক জনকে দেখা যায় এ জাল দিয়ে মাছ ধরতে। এ মাছ বিক্রি করেই সংসার চালান তারা। জামাল মিয়া জানান, একটা খরাজাল তৈরি করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মত খরচ হয়। ঠিক মতো ব্যবহার করলে একটা খরা ৩-৫ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। শুধু মাঝে মাঝে জাল পরিবর্তন করলেই হয়। তিনি জানান, ‘মাছ এখন ভাল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন এক হাজার থেকে পনেরশ’ টাকার মাছ বিক্রি করা যায়,অন্য সময় কম হয় তখন ৩০০-৪০০ টাকার মাছ পাওয়াও দুষ্কর। সকাল ৬টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কেজি মাছ পেয়েছেন বলে জানান মহিবুল ইসলাম। এর মধ্যে মলা, পুঁটি, টেংরা,ফলি ও টাকি মাছ রয়েছে। স্থানীয় বাজারে তিনি ৩০০-৪০০ টাকা কেজি হিসাবে বিক্রি করেন। ‘দিনের চেয়ে রাতে মাছ বেশি ধরা পড়ে। সোনা মিয়া জানান- খরাজালে এখন লাভ ভালই হয়। তবে বাঁশ ও জালের দাম বেশি হয়ে গেছে। তৈরি করার খরচ একটু বেশি। তিনি বলেন, ‘বাজারে দেশী ছোট মাছের চাহিদা বেশ ভাল। ইব্রাহিমপুর ইউ.পি চেয়ারম্যান আবু মুছা বলেন-“সাড়া বছরই জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে মাছ বেশী পাওয়া যায়, তখন তাদের লাভ ও একটু বেশী হয়”।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















