০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কপি চাষে ভাগ্য বদল

কপি চাষের মধ্যে দিয়ে ভাগ্য বদলিয়েছে নান্টু। বয়স ৩৫ বছর। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর ডাংপাড়া গ্রামে তার বাড়ী। ছোট বেলায় দারিদ্রতার কারনে অন্যের বাড়ীতে চাকর থাকতো সে। চাকর থাকা অবস্থায় মালিককে কপি চাষ করতে দেখে তার মনে কপি চাষের ইচ্ছে জাগে। সে চাকর থাকা বাদ দিয়ে অন্যের আল্প জমি লিজ নিয়ে ২০০০ সাল থেকে শুরু করে কপি চাষ। কপি চাষ থেকে শুরু হয় তার ভাগ্যের পরিবর্তন। নান্টুর কপির বীজ তলায় দাড়িয়ে এ প্রতিবেদক কে তার জীবনের কথা গুলো বললেন কৃষক নান্টু।

নান্টু এখন সফল কৃষক। প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছে তার কৃষি খামার। নিজের কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। বাকী জমি বছর প্রতি ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন তার কৃষি খামার। কৃষি খামারে ১৮ বিঘা জমি প্রস্তুত করছে কপি চাষের জন্য। ফুল কপি ও পাতা কপি দুই ধরনের কপি চাষ করে সে। কপি চাষের জন্য বীজতলা তৈরী করে বীজ বপন করা হয়ে গেছে তার। এখন চলছে তার বীজতলায় কপির চারার পরিচর্চা ও কপির চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ।

কৃষক নান্টু জানায়, এক বিঘা জমির জন্য কপির বীজ লাগে ৫০ গ্রাম। ৫০ গ্রমি বীজের দাম ১৬ শ” টাকা। বীজ, লেবার, বাশ, সেচ সব মিলিয়ে ১ বিঘা জমির জন্য কপির চারা তৈরী করতে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। বীজ বপনের ১ মাস পর বীজতলা থেকে কপির চারা তুলে জমিতে লাগাতে হয়। প্রতি বিঘায় কপির চারা ৫ হাজার ৫শ” লাগায়। চারা গালা থেকে কপি তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে কপিতে খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আয় হয় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

নান্টু আরো জানায়, এবার সে আগাম জাতের আইসবল ফুলকপি এবং টপিকল কুইত ও সামার জাতের পাতাকপির বীজ বপন করেছে। আগামী আগষ্ট মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে বীজতলা থেকে কপির চারা তুলে জমিতে লাগাবে। চারা লাগানোর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে জমি থেকে কপি তুলতে শুরু করবে। তার কপি দেশের ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লা জেলায় বেশী বিক্রি হয়।

তার কৃষি খামারে কপি চাষের পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা, পেপেঁ, মরিচ ও ধানের আবাদ রয়েছে। তিনি অভিযোগের শুরে বলেন, এত দিন ধরে চাষ আবাদ করছি কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার সহয়োগিতা পাই না। যারা কৃষক না তারাই কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পাই।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, রবেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে সবজি চাষ কম হয়। গ্রীষ্ম কালিন সবজি চাষে এ অঞ্চলের পুষ্টির চাহিদা মিটবে। এমনকি আগাম জাতের সবজি চাষে কৃষকেরা উচ্চ মূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারে। গ্রীষ্ম কালিন সবজি চাষ করে সবজির দাম বেশী পাওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে খ্যাত এ উপজেলায় সবজি চাষ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

কপি চাষে ভাগ্য বদল

প্রকাশিত : ০৭:৩৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২

কপি চাষের মধ্যে দিয়ে ভাগ্য বদলিয়েছে নান্টু। বয়স ৩৫ বছর। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর ডাংপাড়া গ্রামে তার বাড়ী। ছোট বেলায় দারিদ্রতার কারনে অন্যের বাড়ীতে চাকর থাকতো সে। চাকর থাকা অবস্থায় মালিককে কপি চাষ করতে দেখে তার মনে কপি চাষের ইচ্ছে জাগে। সে চাকর থাকা বাদ দিয়ে অন্যের আল্প জমি লিজ নিয়ে ২০০০ সাল থেকে শুরু করে কপি চাষ। কপি চাষ থেকে শুরু হয় তার ভাগ্যের পরিবর্তন। নান্টুর কপির বীজ তলায় দাড়িয়ে এ প্রতিবেদক কে তার জীবনের কথা গুলো বললেন কৃষক নান্টু।

নান্টু এখন সফল কৃষক। প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছে তার কৃষি খামার। নিজের কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। বাকী জমি বছর প্রতি ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন তার কৃষি খামার। কৃষি খামারে ১৮ বিঘা জমি প্রস্তুত করছে কপি চাষের জন্য। ফুল কপি ও পাতা কপি দুই ধরনের কপি চাষ করে সে। কপি চাষের জন্য বীজতলা তৈরী করে বীজ বপন করা হয়ে গেছে তার। এখন চলছে তার বীজতলায় কপির চারার পরিচর্চা ও কপির চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ।

কৃষক নান্টু জানায়, এক বিঘা জমির জন্য কপির বীজ লাগে ৫০ গ্রাম। ৫০ গ্রমি বীজের দাম ১৬ শ” টাকা। বীজ, লেবার, বাশ, সেচ সব মিলিয়ে ১ বিঘা জমির জন্য কপির চারা তৈরী করতে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। বীজ বপনের ১ মাস পর বীজতলা থেকে কপির চারা তুলে জমিতে লাগাতে হয়। প্রতি বিঘায় কপির চারা ৫ হাজার ৫শ” লাগায়। চারা গালা থেকে কপি তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে কপিতে খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আয় হয় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি লাভ হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

নান্টু আরো জানায়, এবার সে আগাম জাতের আইসবল ফুলকপি এবং টপিকল কুইত ও সামার জাতের পাতাকপির বীজ বপন করেছে। আগামী আগষ্ট মাসের ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে বীজতলা থেকে কপির চারা তুলে জমিতে লাগাবে। চারা লাগানোর প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে জমি থেকে কপি তুলতে শুরু করবে। তার কপি দেশের ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লা জেলায় বেশী বিক্রি হয়।

তার কৃষি খামারে কপি চাষের পাশাপাশি পেয়ারা, মাল্টা, পেপেঁ, মরিচ ও ধানের আবাদ রয়েছে। তিনি অভিযোগের শুরে বলেন, এত দিন ধরে চাষ আবাদ করছি কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কোন প্রকার সহয়োগিতা পাই না। যারা কৃষক না তারাই কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা পাই।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, রবেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে সবজি চাষ কম হয়। গ্রীষ্ম কালিন সবজি চাষে এ অঞ্চলের পুষ্টির চাহিদা মিটবে। এমনকি আগাম জাতের সবজি চাষে কৃষকেরা উচ্চ মূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারে। গ্রীষ্ম কালিন সবজি চাষ করে সবজির দাম বেশী পাওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে খ্যাত এ উপজেলায় সবজি চাষ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর