০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বাস থেকে ফেলে চাকায় পিষে যাত্রী হত্যার অভিযোগ, আটক-২

গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে তাকওয়া পরিবহনের এক বাস হেল্পারের সঙ্গে যাত্রীর বিতন্ডার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে বাস থেকে নিচে ফেলে দিলে চাকায় পিষ্ট করে এক যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত বাস যাত্রী সায়েম (২০), ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার আওলাপাড়া এলাকার মো. আবু সাইদের ছেলে। এ ঘটনানায় পুলিশ ঘাতক বাস এবং বাসের চালক ও হেল্পারকে আটক করেছে।

আটকরা হলো বাস চালক নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার কুটিপাড়া এলাকার আব্দুর মাহমুদের ছেলে মো.সফিকুল ইসলাম (২৬) ও হেল্পার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার মাগান এলাকার ফারিজ ওরফে হারিজ মিয়ার ছেলে।

গাজীপুর সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান খান এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, নিহত সায়েম গাজীপুর মহানগরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকায় আলিমের বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় শিববাড়ি একটি গ্রীল ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। সায়েম কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে তাকওয়া পরিবহণের বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে ভাড়া নিয়ে হেল্পারের সঙ্গে সায়েমের বিতন্ডা হয়। এর জেরে হেল্পার তাকে শিববাড়ি বাসস্ট্যান্ডে নামতে না দিয়ে আরো সামনে নিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গেইটের অদূরে এশিয়ান ফার্নিচারের দোকানের সামনে ঢাকা-শিববাড়ি সড়কে উপর ফেলে দেয়। পরে ওই বাসেরই চাকায় পিষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই সায়েম মারা যান। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ এবং ঘাতক বাসের চালক ও হেল্পারকে আটক করেছে পুলিশ।

গাজীপুর সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিক্টিমের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের বাবা মো. আবু সাইদ জানান, আমার ছেলেকে বাসের চালক ও হেল্পার বাস থেকে ফেলে হত্যা করেছে। আমি জড়িত চালক-হেল্পারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ছেলের হারানোর শোকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সদর থানা ক্যাম্পাসে বসে তাকে আহাজারী করতে দেখা গেছে।

ঘটনার পর থেকে ওই পথে তাকওয়া চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় যাত্রী আবিদ হোসেন জানান, প্রতিনিয়তই তাকওয়া পরিবহণের বাসের চালক-হেল্পারদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দূর্ববহার ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা যখন-তখন ভাড়া বাড়িয়ে দেয় এবং যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া ও বিতন্ডা করে। অধিকাংশ বাসের চালকেরও কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। চালক হেল্পাররাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। তারপরও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

বিআরটিএ গাজীপুরের উপ-পরিচালক মো. আবু নাঈম জানান, আমরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছি। কয়েকজনকে জেল জরিমানাও করা হয়েছে। বিষয়গুলোর পুনারাবৃত্তি ঘটলে এ ব্যাপারে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

বাস থেকে ফেলে চাকায় পিষে যাত্রী হত্যার অভিযোগ, আটক-২

প্রকাশিত : ০৫:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২

গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে তাকওয়া পরিবহনের এক বাস হেল্পারের সঙ্গে যাত্রীর বিতন্ডার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে বাস থেকে নিচে ফেলে দিলে চাকায় পিষ্ট করে এক যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত বাস যাত্রী সায়েম (২০), ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার আওলাপাড়া এলাকার মো. আবু সাইদের ছেলে। এ ঘটনানায় পুলিশ ঘাতক বাস এবং বাসের চালক ও হেল্পারকে আটক করেছে।

আটকরা হলো বাস চালক নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার কুটিপাড়া এলাকার আব্দুর মাহমুদের ছেলে মো.সফিকুল ইসলাম (২৬) ও হেল্পার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার মাগান এলাকার ফারিজ ওরফে হারিজ মিয়ার ছেলে।

গাজীপুর সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান খান এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান, নিহত সায়েম গাজীপুর মহানগরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকায় আলিমের বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় শিববাড়ি একটি গ্রীল ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। সায়েম কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে তাকওয়া পরিবহণের বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে ভাড়া নিয়ে হেল্পারের সঙ্গে সায়েমের বিতন্ডা হয়। এর জেরে হেল্পার তাকে শিববাড়ি বাসস্ট্যান্ডে নামতে না দিয়ে আরো সামনে নিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গেইটের অদূরে এশিয়ান ফার্নিচারের দোকানের সামনে ঢাকা-শিববাড়ি সড়কে উপর ফেলে দেয়। পরে ওই বাসেরই চাকায় পিষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই সায়েম মারা যান। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ এবং ঘাতক বাসের চালক ও হেল্পারকে আটক করেছে পুলিশ।

গাজীপুর সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিক্টিমের বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের বাবা মো. আবু সাইদ জানান, আমার ছেলেকে বাসের চালক ও হেল্পার বাস থেকে ফেলে হত্যা করেছে। আমি জড়িত চালক-হেল্পারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ছেলের হারানোর শোকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সদর থানা ক্যাম্পাসে বসে তাকে আহাজারী করতে দেখা গেছে।

ঘটনার পর থেকে ওই পথে তাকওয়া চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় যাত্রী আবিদ হোসেন জানান, প্রতিনিয়তই তাকওয়া পরিবহণের বাসের চালক-হেল্পারদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের সঙ্গে দূর্ববহার ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা যখন-তখন ভাড়া বাড়িয়ে দেয় এবং যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া ও বিতন্ডা করে। অধিকাংশ বাসের চালকেরও কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। চালক হেল্পাররাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। তারপরও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

বিআরটিএ গাজীপুরের উপ-পরিচালক মো. আবু নাঈম জানান, আমরা এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছি। কয়েকজনকে জেল জরিমানাও করা হয়েছে। বিষয়গুলোর পুনারাবৃত্তি ঘটলে এ ব্যাপারে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর