০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সৈয়দপুরে রূপচাঁদার নামে বিক্রি হচ্ছে পিরানহা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমুদ্রের বড় রূপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ মানুষখেকো পিরানহা। প্রতি কেজি মাছের দাম ১৫০-২০০ টাকা। মাছটি সম্পর্কে ক্রেতারা জ্ঞাত না থাকায় রূপচাঁদা হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর। এমনটি জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্রেতা।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা অসাধু কিছু সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজার এমনকি শহরেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব ক্ষতিকর মাছ।

সৈয়দপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, তিনি কর্মস্থলে নবাগত। তাই বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপসহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, পিরানহা মাছ বিক্রি বন্ধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এরপরও কিছু বিক্রেতা লুকিয়ে মাছগুলো বিক্রি করছে।

জানা যায়, বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাক্ষুসে স্বভবের। অন্য মাছ জলজ প্রাণিদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির তথা জীববৈচিত্রের জন্য এগুলো হুমকি স্বরুপ। এ কারণে সরকার এসব মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, বংশবৃদ্ধি করণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। গত ২০০৮ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে মাছটি উৎপাদন ও বাজারজাত সম্পূণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে কেউ যদি এ মাছের চাষ ও বাজারজাত করে তাহলে ২ বছরের জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন তিনি। কিন্তু এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে পিরানহা।

সরেজমিন উপজেলার ঢেলাপীর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এসব মাছ। প্রতিটি পিরানহার ওজন
৩-৫ কেজি। মাছের দাঁতগুলো প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দাঁতের সমান। মাছের পুরো শরীর মাংসে ভরপুর। নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও রাক্ষুসে পিরানহা মাছ কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা বলেন, মাছ তো মাছই। এগুলো সমুদ্রের বড় রূপচাঁদা মাছ। অন্য মাছের তুলনায় দাম কম হওয়ায় বাজারে এগুলোর ভাল চাহিদা। তাই বিক্রি করছি।

নুরুল হুদা নামের মাছ ব্যবসায়ী বলেন, সবাই রূপ চাঁদা হিসেবে বিক্রি করেন তাই আমিও করছি। জাবেদ আক্তার নামের আরেক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, নিষিদ্ধ জেনেও লাভ বেশি হওয়ায় মাছটি বিক্রি করছে তারা। তবে এ জন্য দুইজনকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।

৫ কেজি ওজনের একটি পিরানহা নিয়ে খুশি মনে যাচ্ছিলেন নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তাকে যখন বলা হলো এটা রূপচাঁদা নয়, রাক্ষুসে পিরানহা। তখন তিনি সে কথায় কান না দিয়ে বাড়ির পথে দ্রæত হাঁটা দেন। শাহানাজ পারভীন নামের এক গৃহবধূ জানান, এত দামে অন্যান্য মাছ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না, সস্তায় পাওয়া যায় বিধায় আমার মত অনেকেই কিনেন এ মাছ। কই কোনদিন তো কারো কাছে শুনিনি এ মাছ ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ।

মাছটির ক্ষতির দিক বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলেমুল বাশার বলেন, মাছটি বিষাক্ত। এটি খাওয়া তো দুরের কথা কোন কারণে কামড় দিলেও মানব শরীরে চরম ক্ষতিকারক। এ মাছ খেলে নিরাময় অযোগ্য। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

সৈয়দপুরে রূপচাঁদার নামে বিক্রি হচ্ছে পিরানহা

প্রকাশিত : ০২:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমুদ্রের বড় রূপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ মানুষখেকো পিরানহা। প্রতি কেজি মাছের দাম ১৫০-২০০ টাকা। মাছটি সম্পর্কে ক্রেতারা জ্ঞাত না থাকায় রূপচাঁদা হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর। এমনটি জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্রেতা।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা অসাধু কিছু সদস্যের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজার এমনকি শহরেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব ক্ষতিকর মাছ।

সৈয়দপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, তিনি কর্মস্থলে নবাগত। তাই বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপসহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, পিরানহা মাছ বিক্রি বন্ধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এরপরও কিছু বিক্রেতা লুকিয়ে মাছগুলো বিক্রি করছে।

জানা যায়, বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে পিরানহা ও আফ্রিকান মাগুর সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাক্ষুসে স্বভবের। অন্য মাছ জলজ প্রাণিদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির তথা জীববৈচিত্রের জন্য এগুলো হুমকি স্বরুপ। এ কারণে সরকার এসব মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, বংশবৃদ্ধি করণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। গত ২০০৮ সালের ফেব্রæয়ারি থেকে মাছটি উৎপাদন ও বাজারজাত সম্পূণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে কেউ যদি এ মাছের চাষ ও বাজারজাত করে তাহলে ২ বছরের জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন তিনি। কিন্তু এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে পিরানহা।

সরেজমিন উপজেলার ঢেলাপীর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এসব মাছ। প্রতিটি পিরানহার ওজন
৩-৫ কেজি। মাছের দাঁতগুলো প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দাঁতের সমান। মাছের পুরো শরীর মাংসে ভরপুর। নিষিদ্ধ হওয়া সত্তে¡ও রাক্ষুসে পিরানহা মাছ কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা বলেন, মাছ তো মাছই। এগুলো সমুদ্রের বড় রূপচাঁদা মাছ। অন্য মাছের তুলনায় দাম কম হওয়ায় বাজারে এগুলোর ভাল চাহিদা। তাই বিক্রি করছি।

নুরুল হুদা নামের মাছ ব্যবসায়ী বলেন, সবাই রূপ চাঁদা হিসেবে বিক্রি করেন তাই আমিও করছি। জাবেদ আক্তার নামের আরেক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, নিষিদ্ধ জেনেও লাভ বেশি হওয়ায় মাছটি বিক্রি করছে তারা। তবে এ জন্য দুইজনকে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়।

৫ কেজি ওজনের একটি পিরানহা নিয়ে খুশি মনে যাচ্ছিলেন নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তাকে যখন বলা হলো এটা রূপচাঁদা নয়, রাক্ষুসে পিরানহা। তখন তিনি সে কথায় কান না দিয়ে বাড়ির পথে দ্রæত হাঁটা দেন। শাহানাজ পারভীন নামের এক গৃহবধূ জানান, এত দামে অন্যান্য মাছ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না, সস্তায় পাওয়া যায় বিধায় আমার মত অনেকেই কিনেন এ মাছ। কই কোনদিন তো কারো কাছে শুনিনি এ মাছ ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ।

মাছটির ক্ষতির দিক বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলেমুল বাশার বলেন, মাছটি বিষাক্ত। এটি খাওয়া তো দুরের কথা কোন কারণে কামড় দিলেও মানব শরীরে চরম ক্ষতিকারক। এ মাছ খেলে নিরাময় অযোগ্য। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর