চলতি বর্ষা মৌসুমের আষাড় মাস জুড়ে নেই বৃষ্টির দেখ।দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরতাপে বিপর্যস্ত চলনবিলের জনজীবন। সূর্যের তিব্র তাপদাহে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়স্ক ও শিশুসহ সাধারন মানুষ।হাসপাতালে বাড়ছে রোগির সংখ্যা।
চলনবিলের নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ এবং পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গত কয়েকদিনের তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। সূর্যের প্রখরতায় শুরু হয় ভোর, সকাল ৭ টাতেই মনে হয় সূর্য মাথার ওপর এসে চৈত্রে দুপুরের উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দুপুরের ঝাঁ ঝাঁ রোদে পুড়ছে ধরিত্রি।নিত্যদিনের এই পরিস্থিতি এখন চলনবিলের সর্বত্র বিরাজমান ।আষাড়ের শেষ হলেও দেখা নাই কাংখিত বৃষ্টির।যার ফলে তিব্র গরমে বিপর্যস্থ হয়ে পরেছে চলনবিলের জনজীবন।বৃষ্টি না হওয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা।তাপমাত্রার তিব্রতায় ঘেমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে শ্রমজীবী,বয়স্ক, শিশুসহ সকল শ্রেনির সাধারন মানুষ। সুর্যের তাপ থেকে বাঁচতে একটু স্বস্তি পেতে ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন গাছের ছায়ায়। সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।একটানা দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় চৈত্রে দাবদাহের ন্যায় আষাড়েও পুড়ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল। স্বস্তি নেই কৃষকের। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষেরা।ফসল বাঁচাতে দিচ্ছেন অতিরিক্ত সেচ। বাড়ছে জ্বালানি খরচ।
আবহাওয়ার এমন বৈরি পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া,পাতলা পায়খানা ওস্বাসকষ্টসহ নানা রোগে মহামারি আকারে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগির সংখ্যা। বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে , বারান্দায় চিকিতসা নিচ্ছেন। চিকিতসক, নার্সরা সেবা দিতে গলদ্ঘর্ম হয়ে উঠছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের বৃচাপিলা গ্রামের কৃষক ফজর আলি বলেন,গত কয়েকদিন থেকে সুর্যের তাপ আস্বাভাবিক বেড়ে গেছ। তিনি ১ বিঘা করলা এবং পটলের আবাদ করেছেন।প্রচন্ড রোদের তাপে জাংলার গাছ মরে যাচ্ছে, গাছের গোড়া শুকে যাচ্ছে, সেচ দিয়েও গাছ টেকানো যাচ্ছেনা।মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের আবু ইউসুফ জানান, চলতি পুরা বর্ষা মৌসুমেও গত দুই মাস যাবত বৃষ্টিপাত নাই বললেই চলে। এ অবস্থায় বোনা আমন ও বোনা আউস ধানের গাছ পানির অভাবে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে।দির্ঘ অনাবৃষ্টি আর খরতাপে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে রোপা আমনের বিজতলার চারাগাছ। পরিস্থিতির অবসান না হলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে রোপা আমনের চাষ। জমিতে পানি নাথাকায় বোনা আমন ও আউস ধ্নের গাছের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সেচ দিয়েও কাজ হচ্ছেনা। এছাড়া রোপা আমনের জমি তৈরি এবং বীজতলা তৈরি করা যাচ্ছেনা পানির অভাবে।গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামার নাচকৈরের আব্দুল আজিজ জানান গত ৫/৭ বছরেও বর্ষা মওসুমে এমন তাপদাহ দেখেননাই তিনি।ঘরের ভিতর বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়েও কোন স্বস্তি মিলছেনা।তাড়াশ উপজেলার ধামাইচ গ্রামের শহিদুল জানান, আষাড়েও প্রখর ফোদের অত্যাধিক গরমের কারনে গত ৪ দিন ধরে তার ১০ মাসের শিশু সন্তানের পাতলা পায়খানা ও বমি হচ্ছে। হাসপাতালে সন্তানের চিকিতস নিচ্ছেন। কিন্তু প্রচন্ড গরমের কারনে হাসপাতালের কক্ষে না থাকতে পেরে বাইরে গাছ তলায় অসুস্থ্য সন্তানকে নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
গুরুরদাসপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোজাহেদুল ইসলাম বলেন,প্রচন্ড গরমের কারনে হাসপাতালে বেড়েছে শিশু ও বয়স্ক রুগির সংখ্যা।এই গরমে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সচেনতা।ঘরোয়া চিকিতসাতে পায়খানা ও বমি রোধ করা না গেলে দ্রুত চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং বেশি বেশি তরল খাবার খওয়াতে হবে।প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান,এ অবস্রহা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।কিছুদিনের মধ্যেই বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















