০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

গোপালপুরকে ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ উপজেলা ভূমি ও গৃহহীন ঘোষণা করেন তিনি। একই সাথে টাঙ্গাইলের তৃতীয় পর্যায় দ্বিতীয় ধাপে ৩৪৯ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরের কবুলিয়ত দলিল হস্তান্তরের উদ্বোধন করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলায় মোট ১৯৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন (‘ক’ শ্রেণির পরিবার হিসাবে) চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৮ টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯০ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এদের মধ্যে ১ম ও ২য় পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া ১০ টি পরিবার জীবিকার সন্ধ্যানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাওয়ায় উক্ত ১০ টি ঘরের বরাদ্দ তিল করে পূর্বের তালিকাভূক্ত ১৯৪ টি পরিবার হতে নতুন করে ১০টি পরিবারকে বাতিলকৃত খালি ঘরে পুনর্বসন করা হয়। সে তে অত্র উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন অবিশিষ্ট থাকে ২৬ টি পরিবার। সর্বশেষ ৩য় পর্যায়ে ২৬ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। সেহেতু অত্র উপজেলায় কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির পরিবার অবশিষ্ট নাই।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জেলায় তিন হাজার ২০৬ টি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে দুই হাজার নয়শ ৯৩ টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। জেলায় অবৈধ দখলে থাকা একশ ৫০ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এই জমির মূল্য প্রায় চারশ কোটি টাকা। উদ্ধার করা জমিতে আশ্রয় প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছে সারা বাংলাদেশে একজন মানুষও ভূমি ও গৃহহীন থাকবে না। তারই অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে যে সকল গৃহহীনদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সব আশ্রয়নে বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এ দিকে বন্যায় ভাঙনের শিকার হয়ে যে সকল মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়েছে তাদেরও তালিকা প্রস্তুত করে জমিসহ গৃহ নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ইরানের

গোপালপুরকে ভূমি ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৩:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০২২

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাকে ভূমি ও গৃহহীন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ উপজেলা ভূমি ও গৃহহীন ঘোষণা করেন তিনি। একই সাথে টাঙ্গাইলের তৃতীয় পর্যায় দ্বিতীয় ধাপে ৩৪৯ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘরের কবুলিয়ত দলিল হস্তান্তরের উদ্বোধন করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলায় মোট ১৯৪টি পরিবারকে ভূমিহীন ও গৃহহীন (‘ক’ শ্রেণির পরিবার হিসাবে) চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৮ টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯০ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। এদের মধ্যে ১ম ও ২য় পর্যায়ে বরাদ্দ পাওয়া ১০ টি পরিবার জীবিকার সন্ধ্যানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাওয়ায় উক্ত ১০ টি ঘরের বরাদ্দ তিল করে পূর্বের তালিকাভূক্ত ১৯৪ টি পরিবার হতে নতুন করে ১০টি পরিবারকে বাতিলকৃত খালি ঘরে পুনর্বসন করা হয়। সে তে অত্র উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন অবিশিষ্ট থাকে ২৬ টি পরিবার। সর্বশেষ ৩য় পর্যায়ে ২৬ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। সেহেতু অত্র উপজেলায় কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণির পরিবার অবশিষ্ট নাই।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জেলায় তিন হাজার ২০৬ টি ভূমিহীন, গৃহহীন পরিবার চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে দুই হাজার নয়শ ৯৩ টি পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। জেলায় অবৈধ দখলে থাকা একশ ৫০ বিঘা খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এই জমির মূল্য প্রায় চারশ কোটি টাকা। উদ্ধার করা জমিতে আশ্রয় প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছে সারা বাংলাদেশে একজন মানুষও ভূমি ও গৃহহীন থাকবে না। তারই অংশ হিসেবে সারা বাংলাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে যে সকল গৃহহীনদের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই সব আশ্রয়নে বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এ দিকে বন্যায় ভাঙনের শিকার হয়ে যে সকল মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়েছে তাদেরও তালিকা প্রস্তুত করে জমিসহ গৃহ নির্মাণ করা হবে।