‘তুমি বন্ধু কালা পাখি
আমি যেন কি ?
বসন্ত কালে তোমায়
বলতে পারিনি।’
বর্তমান সময়ে মানুষের ঠোটের কোনে আটকে থাকা গানটি স্রষ্টা নারায়ণগঞ্জের হাসেম মাহমুদ। ফতুল্লার তল্লার সবুজবাগ এলাকায় আবুল হাসেম ও জমিলা আক্তার দম্পতির দশ সন্তানের মধ্যে হাসেম মাহম্মুদ পঞ্চম। মায়ের সাথে এখানেই থাকেন তিনি। তবে, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় বেশ সময় কাটিয়েছেন। লেখেছেন আরও বহু গান। তারই একটি ‘সাদা কালা-সাদা কালা’। কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা গানটির লেখক বর্তমানে ভালো নেই।
হাসেম মাহমুদ সিজোফ্রেনিয়া নামের একটি জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন পরিবার। তাই কখনো কখনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাবনার জগতে হারিয়ে গেছেন। উত্তরও দিতেন এলোমেলো।
প্রশ্ন গুলোর এলোমেলো উত্তর গুলোই তুলে ধরা হলো:
সাদা সাদা-কালা কালা গানটি কবে লিখেছেন: উত্তরে হাসেম মাহমুদ বললেন, ‘এটা অনেক বছর আগে।’
গানটি ছবিতে কি ভাবে গিয়েছে? প্রশ্ন করতেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে হাসেম মাহমুদ বলেন- ‘ছবিতে গেছে এটা? আমিতো জানি না!’ পাশ থেকে তাঁর ভাই জানান, ছবির নাম হাওয়া। এরপর সেও ‘হাওয়া’ শব্দটি দিয়েই গান ধরেন, দু’লাইন গেয়েই সুর হারিয়ে ফেলেন আচমকা।
আবারও প্রশ্ন করা হয়- আপনার গান মানুষের হৃদয় ছুয়ে গেছে, এখন মোবাইল খুললেই আপনার হৃদয় ছোয়া সেই সঙ্গিত। কেমন লাগছে? প্রশ্নের উত্তরে এক বাক্যে বললেন, ‘ভালো লাগছে’।
শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কি? এরপর সাবলীল ভাবে বললেন, ‘দর্শক জন্মায় গান শুনার জন্যই। ভালো গান শুনবে।’
এই সময়ে এসে পুরোনো দিনের কোন স্মৃতি মনে পড়ে? প্রশ্ন করতেই এক মুহুর্তের জন্য ভাবনায় ডুবে গেলেন। চোখে মুখেও ভেসে উঠে সেই ভাবনার ছাপ। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে উত্তর দিলেন, ‘বাড়ি ফিরতাম যখন। তখন কাঁধে ক্যানবাসের ব্যাগ ছিল। ব্যাগের ভেতরে ছবি আঁকার পেন্সিল থাকতো, রং তুলি থাকবো। তখন বিভিন্ন রকম আর্ট করতাম।’
এরপর কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন। উত্তরটাও দিলেন এলোমেলো ভাবে। প্রশ্নের উত্তর হয়তো হাসেম মাহমুদ ভুলে গেছেন। কিন্তু ভুলে যায়নি গান আর সুর। কথার ফাঁকে শব্দে শব্দে সুর ধরেন।
হাসেম মাহমুদের বড় ভাই রাশেদুল হাসান জীবন জানান, ‘গান বাজনা তো আড্ডাবাজী। হাসেম আড্ডাবাজী করেই সময় কাটাতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সামনে একটু লাল চা আর একটি সিগারেটে তার ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যেতো। বর্তমানে তার গানটি যে মানুষ মুখে মুখে গাইছে। এটা আমাদের জন্য খুঁশির ব্যাপার। তবে, বেশির ভাগ শিল্পীরই মূল্যায়িত হয় না। একই ভাবে আমার ভাইও মূল্যায়িত হয়নি। আমার ভাই শারীরিক ভাবে একটু অসুস্থ্য। আমি চাই উনি যেন সুস্থ্য হয়ে উঠে এবং জীবনের নিরাপত্তা। কেউ যদি আমার ভাইকে সহযোগীতা করার জন্য এগিয়ে আসতে চায়, তাহলে তাঁরা আসতে পারে।’
হাসেম মাহমুদকে ছোট বেলা থেকে চেনে; এমনই একজন সেলিম। তিনি জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে পড়তেন হাসেম মাহমুদ। ছোট বেলা থেকেই গুন গুন করে গান গাইতেন। কন্ঠের সূরও খুব ভালো। মানুষকে মন্ত্র মুগ্ধ করে আটকে রাখে তার গান ও কন্ঠ। বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিতেন। এক পর্যায়ে ঢাকা মুখি হয়ে গেলো, এরপর আমার সাথে তার যোগাযোগ কমে গেছে। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানুষিক ভাবে অসুস্থ্য। আমরা আশাকরি, উনি যেন খুব দ্রুত সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















