ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঢেঁড়স চাষ করে বেকারত্ব ঘুঁচিয়েছেন শিক্ষিত যুবক সুমন মিয়া। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তিনি এখন তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সীতারামপুর এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে তিনি। স্বল্প সময় ও অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় আরও অনেকেই ঢেঁড়স চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সে নিজেই জমি থেকে ঢেঁড়স উত্তোলন করছেন। আলাপ কালে সুমন জানান, ২০১৮ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার বাবা অসুস্থ্য হওয়ায় ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। এরপর আর ভাল কোন চাকরি না পাওয়ায় বাড়ীর পাশে অন্যের জমি পত্তন (লিজ) নিয়ে শুরু করেন সবজি চাষ। তিনি এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন ঢেঁড়সের চাষ। স্বল্প সময়ে এই ঢেঁড়স চাষ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এখানকার মাটি বেশ উর্বর থাকায় তার উৎপাদন খরচও অনেক কম হয়েছে। তার এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করতে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। একদিন পরপর জমি থেকে ঢেঁড়স উত্তোলন করতে হয়। এতে তেমন কোন শ্রমিকের (লেবার) প্রয়োজন হয় না। জমি থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘আমি উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে বারি উদ্ভাবিত ‘বারি ঢেঁড়স-১’ জাতের ঢেঁড়সের চাষ করেছি। বাজারে ঢেঁড়সের দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবানও হয়েছি। আর এ বছর ঢেঁড়সের পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকার ফলে খরচও কম হয়েছে। ‘কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষিত সুমন আমাদের আইডল। তার মত শিক্ষিতদের কৃষি সেক্টরে আরো এগিয়ে আসা উচিত। এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার জগলুল হায়দার বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ঢেঁড়সে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। আর ঢেঁড়সের বিভিন্ন জাতের মধ্যে ‘বারি ঢেঁড়স-১’ এর ফলন ভাল। এটা চাষ করা লাভ জনক। তবে তার মত শিক্ষিত অনেক যুবকরাই এগিয়ে আসছে। আমরা কৃষি অফিস তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।




















