ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন ইউটার্নটি দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অপরিকল্পিত ইউটার্নে প্রায় প্রতিদিন’ই ঘটছে ছোট বড় অনেক দুর্ঘটনা। ঝড়ছে একের পর এক তাজা প্রাণ। আর ভাগ্যের লিখনে যারা বেঁচে যাচ্ছে, তাদের অনেকেই পঙ্গত্ববরণ করতে হচ্ছে। ইউটার্নের একটু পশ্চিমে রেলওয়ে ওভারপাসটিকে ফেনীর মতো বড় করলে এখানের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশ কমবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর চৌয়ারা থেকে কুমিল্লা শহরগামী একটি মাইক্রোবাসের সাথে বিপরীতমুখী একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাস আরোহী সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার নিহত হন। আহত হন সাত জন। এছাড়া ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই স্থানে রং সাইডে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী তিন ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের ১৬ মে কাভার্ড ভ্যান চাপায় আরো এক কলেজ শিক্ষার্থী সানি নিহত হয়। ২৫ জুলাই রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই স্থানে পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন ইউটার্ণে ট্রাক চাপায় ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ইউটার্নের দুই পাশে উত্তর ও দক্ষিণে দুইটি লিংক রোড রয়েছে। লিংক রোডের পরিবহনগুলোও ইউটার্ন ব্যবহার করে। এছাড়া দেশের প্রধান এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতি মিনিটে শত শত গাড়ি চলাচল করে। সেই গাড়িগুলোর ফাঁকে নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও চাঁদপুর রুটের পরিবহনগুলো বাম লেন থেকে ডান লেনে প্রবেশ করে। এখানে কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেই যে এক পাশের গাড়ি যাওয়া শেষ হলে অন্যগুলো ছাড়বে। কে কার আগে যাবে তা নিয়ে একটি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম বাবু বলেন, কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পরিকল্পিত ফ্লাইওভার না হওয়ায় দুর্ঘটনা আর যানজট বাড়ছে। মহাসড়কের আইল্যান্ডের কারণে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের দুই পাশের ব্যবসারও ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন সহজে একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারে না। একটিমাত্র ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তা যথাযথ নয়। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে অনেকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে চান না।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















