প্রতিদিন সারাদেশে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে কেউ মারা যাচ্ছেন আবার কেউ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিচ্ছেন নানা পদক্ষেপ। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের জঙ্গল সরফভাটা মাতবর বাড়ী এলাকার রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী বান্ডাল জুড়ি সড়ক দেখা গেছে অন্য চিত্র। সড়কের উপর লম্বা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। তবে খুঁটিগুলো সরানোর দায়িত্ব কেউ নিচ্ছেনা। একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে পথচারীরা ঝুঁকিতে আছে। সড়কের উপর বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট টিকাদার। সড়ক উন্নয়নের কাজ চলাকালীন সময়েও সড়কের উপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি ৩ টি সরানো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট টিকাদার ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সড়কটি প্রশস্ত করা হলেও সড়কের মাঝখানে থাকা তার বিহীন বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় সড়ক দুর্ঘটনার কথা। সড়কটি দিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে বোয়ালখালী উপজেলায়ও যাওয়া হয়। সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নতুনভাবে প্রশস্ত করে উন্নিত করা হয় ৩ বছর আগে। তবে সেই সড়কে নিত্যদিনের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো।
শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে সরেজমিনে সেই সড়কটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সরফভাটার ইউনিয়নের জঙ্গল সরফভাটা মাতবর বাড়ী দিয়ে যাওয়া সড়কটির সিঙ্গাপুর মার্কেট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করার ৩ টি খুঁটি রাস্তার মাঝখানে পড়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে পাশ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার মানুষ চলাফেরা করে এই সড়কটিতে। পাশ্ববর্তী উপজেলা হওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার লোকজন বিভিন্ন ব্যবসায়ীক কাজে এই সড়কটি ব্যবহার করে বোয়ালখালী যাওয়া জন্য। সড়কটি দিয়ে সিঙ্গাপুর মার্কেটে ঘুরতে যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পর্যটক। তারাও সড়কটি দিয়ে যাওয়ার পথে বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানায় পর্যটকরা। ঘুরতে যাওয়া এক পর্যটক সাব্বির হোসেন বলেন, প্রায়শই অবসর সময়ে সিঙ্গাপুর মার্কেটে ঘুরতে যায়। কিন্তু সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ৩ টি বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর জন্য দুর্ঘটনার ভয় কাজ করে। খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া অতি জরুরী, তবে কতৃপক্ষের কোন নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না। সড়কের মাঝখানে খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনাও হয়েছে একাধিকবার। এ কারণে খুঁটি দুটি সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানাচ্ছে স্থানীয়রা। স্থানীয় মাতবর বাড়ীর বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, এই সড়কটি নতুন করে প্রশস্ত করা হয়েছে প্রায় ৩ বছরের বেশি সময় হচ্ছে। তবে সড়কটির উন্নয়ন কাজ করার সময়ও টিকাদার খুঁটিগুলো সরিয়ে নেয়নি। এ সড়কে নতুন আসলে খুঁটিগুলোর কারণে অনেকে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে। আমরাও একাধিকবার এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সড়কটির উন্নয়ন কাজ করার সময় খুঁটিগুলো সরিয়ে নিতে আলাদা বাজেট দেওয়া হয় টিকাদারকে। তবে টিকাদার সড়কের কাজ সম্পন্ন করে চলে গেলেও খু্ঁটির বাবদ সেই বিলও তারা তোলেনি, যার কারণে হয়তোবা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে পারেনি। এবং জানা গেছে সংশ্লিষ্ট টিকাদার এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তবে এ ব্যপারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দিদারুল আলম বলেন, এই খুঁটিগুলো দেখার পর অপসারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে স্থানীয় চেয়ারম্যানও কয়েকবার বলেছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানোর পর তারা এখনো কেনো সরায়নি এ বিষয়ে আমি অবগত নয়। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাঙ্গুনিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জুয়েল দাস বলেন, সড়কটির উন্নয়নের জন্য যারা কাজ করেছে সেই টিকাদাররাই এই খুঁটিগুলো সরানোর কথা ছিলো। এখন সেগুলো কেনো সরানো হয়নি তার সঠিক উত্তর তারাই দিতে পারবে। কারণ সড়ক উন্নয়নের কাজ করার সময় খুঁটি সরানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট টিকাদারদের থাকে এবং অপসারণের জন্য তারা আলাদা বিল পায়। পরবর্তীতে টিকাদার যদি আমাদের কাছে হস্তান্তর করতে চায়, তাহলে আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে দায়িত্ব বুঝে নিবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















