ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে মাধবপুর সাতবর্গ পর্যন্ত ৩৪ কি.মি এলাকায় নিম্নমানের তৈলাক্ত বিটুমিন যাহা মহাসড়কের জন্য অনুপযোগি এসব দিয়ে মহাসড়ক সংস্কার করার কারণে প্রতিদিন ঐ ঘটছে দূর্ঘটনা। এর ফলে সরাইল থানাধীন রাজা বাড়িয়াকান্দি,বৈশামুড়া, বিজয়নগর থানাধীন বুধন্তী, শ্বশই, ইসলামপুর, বীরপাশা, আমতলী নামক স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। আর সেই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বাড়ছে লাশ ও আহতের সংখ্যা।
জানা যায়, গত ঈদের আগে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে সওজ বিভাগের কিছু শ্রমিক নিম্ন মানের তৈলাক্ত বিটুমিন ( কোটিং) ও পাথরের ডাষ্ট জাতীয় বালি দিয়ে সড়কে মেরামতের কাজ করে। এর পর থেকেই উক্ত সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়ক ভিজে সামান্য বৃষ্টিতেই তা পিচ্ছিল হয়ে যায়, এমনকি প্রচন্ড রোদে তৈলাক্ত কালো বিটুমিন গলে গিয়ে মহাসড়ক আরও পিছল হয়ে যায়,যাহার ফলে মহাসড়কে চলমান বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের সঠিকভাবে ব্রেক না হয়ে চালকতার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কখনো অপর গাড়ি সাথে আবার কখনো মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায়। বর্তমানে অহরহ ঘটছে দূর্ঘটনা। এছাড়া দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে গাড়ীর গতি কমানোর জন্য সাইনবোর্ড লাগানো থাকার কথা, সেই সকল জায়গায় এসব চিহ্ন নেই। ফলে বাহির থেকে আসা অপিরিচিত গাড়িগুলো সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার বেশি হচ্ছে এবং হতাহত প্রাণহানি ও বেশি হচ্ছে।
রাস্তা সংস্করণের পর থেকেই এ সড়কে দুর্ঘটনা বেশী ঘটছে। এতে জনসাধরণের মনে প্রশ্ন জাগছে রাস্তা নির্মাণে কোন ত্রুটি আছে ? কারণ সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা হয়ে যাচ্ছে অতিমাত্রায় পিচ্ছিল। আবার রোদ বেশি হলেও পিচ গলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে। বিধায় অবায় ঐ সময় রাস্তায় যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশি।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, গত ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সাল জুন মাস পযর্ন্ত ৮৬ টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৭২টি ও আহত সংখ্যা হয়েছে ৬৪ টি।
বাস চালক কাজল মিয়া বলেন, নিম্নমানের বিটুমিন ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ব্যবহার করার ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ গলে সড়ক দুই পাশে উচুঁ-নীচু হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এখানকার রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়।
গাড়ি মালিক জুয়েল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা সবসময় যে চালকের কারণে হয় তা কিন্তু নয়। অনেক সময় সড়কের অবস্থাই এতটা খারাপ থাকে যে ঘটনা চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় আর দুর্ঘটনা ঘটে। ভাঙা সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা এসব কারণে এমনটা হতে পারে। চলন্ত রাস্তায় হঠাৎ খারাপ রাস্তা চলে এলে বা কোনো গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের বাসিন্দা ও সরাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়াকান্দি এলাকার হৃদয় জানান, রাজাবাড়িয়াকান্দি এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ গলে সড়ক দুই পাশে উচুঁ-নীচু হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এখানকার রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের এ অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হচ্ছে। দ্রুত মহাসড়কের এ অংশ মেরামত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুখেন্দু বসু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া গাড়ি জব্দ করা এবং গাড়ি ড্রাইভারদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করে রাখা ও ওভারটেকিং বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সড়কের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সড়ক বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ ব্যপারে আশাবাদী।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















