০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

তালায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ : বিবাহ রেজিষ্টারের দন্ডাদেশ

তালার জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীর সংঘটিত বাল্য বিবাহ’র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে বাল্য বিবাহ প্রদানের দায়ে শিশু ছাত্রীর পিতাকে ৫ হাজার টাকা এবং বিয়ে সম্পাদন করার অপরাধে বিবাহ রেজিষ্টারকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে অর্থ অনাদায়ে যথাক্রমে ছাত্রীর পিতাকে ১ মাস এবং বিবাহ রেজিষ্টারকে ২বছরের বিনাশ্রম কারদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার’র অভিযান ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস’র ভ্রাম্যমান আদালত এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার জানান, তালার জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে তার নিজ গ্রাম নেহালপুরের ইদ্রিস আলী খাঁ’র ছেলে আনসার ব্যাটালিয়ান বাহিনীর সদস্য এয়াকুব আলীর বিয়ে গত ১২ তারিখ রাতে গোপনে সম্পন্ন হয়। জালালপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মাছুম অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধি করা এই শিশু ছাত্রীকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে বিবাহ সম্পাদন করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে কনের বাড়িতে বরপক্ষ সহ আত্মীয় স্বজনদের খাওয়ানোর জন্য ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে বাল্য বিবাহ’র বিষয়টি জানাজানি হয়। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তালা থানার এসআই ইমন ইসলাম ও রাজিব সহ মহিলা বিষয়ক অফিসের সাথে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় বিয়ের শিশু কনে সহ তার পিতাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস’র ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালত ওই ছাত্রীর পিতাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ড এবং বাল্য বিবাহ সম্পাদন করা জালালপুর ইউনিয়ন বিবাহ রেজিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মাছুমকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ২বছরের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। একই সাথে ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রীর বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ছাত্রীর পিতা ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড সহ ৬ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন বলে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডিত উভয় ব্যক্তি অর্থদন্ডাদেশ পরিশোধ করে কারাদন্ড থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। তবে, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে বরপক্ষ খাওয়া অনুষ্ঠানে হাজির না হওয়ায় তারা দন্ডাদেশ থেকে বেঁচে যান। কিন্তু বাল্য বিয়ের বর এয়াকুব আলী খাঁ আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরি করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভ্রাম্যমান আদালত থেকে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সুপারিশে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিবাহ রেজিষ্টার অবৈধ ভাবে এই বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব

 

জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

তালায় ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ : বিবাহ রেজিষ্টারের দন্ডাদেশ

প্রকাশিত : ১০:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অগাস্ট ২০২২

তালার জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীর সংঘটিত বাল্য বিবাহ’র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে বাল্য বিবাহ প্রদানের দায়ে শিশু ছাত্রীর পিতাকে ৫ হাজার টাকা এবং বিয়ে সম্পাদন করার অপরাধে বিবাহ রেজিষ্টারকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসাথে অর্থ অনাদায়ে যথাক্রমে ছাত্রীর পিতাকে ১ মাস এবং বিবাহ রেজিষ্টারকে ২বছরের বিনাশ্রম কারদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার’র অভিযান ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস’র ভ্রাম্যমান আদালত এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার জানান, তালার জেঠুয়া জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে তার নিজ গ্রাম নেহালপুরের ইদ্রিস আলী খাঁ’র ছেলে আনসার ব্যাটালিয়ান বাহিনীর সদস্য এয়াকুব আলীর বিয়ে গত ১২ তারিখ রাতে গোপনে সম্পন্ন হয়। জালালপুর ইউনিয়নের বিবাহ রেজিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মাছুম অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধি করা এই শিশু ছাত্রীকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে বিবাহ সম্পাদন করেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে কনের বাড়িতে বরপক্ষ সহ আত্মীয় স্বজনদের খাওয়ানোর জন্য ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে বাল্য বিবাহ’র বিষয়টি জানাজানি হয়। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তালা থানার এসআই ইমন ইসলাম ও রাজিব সহ মহিলা বিষয়ক অফিসের সাথে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় বিয়ের শিশু কনে সহ তার পিতাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস’র ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালত ওই ছাত্রীর পিতাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ড এবং বাল্য বিবাহ সম্পাদন করা জালালপুর ইউনিয়ন বিবাহ রেজিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মাছুমকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে ২বছরের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। একই সাথে ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রীর বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ছাত্রীর পিতা ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড সহ ৬ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন বলে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতে দন্ডিত উভয় ব্যক্তি অর্থদন্ডাদেশ পরিশোধ করে কারাদন্ড থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। তবে, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে বরপক্ষ খাওয়া অনুষ্ঠানে হাজির না হওয়ায় তারা দন্ডাদেশ থেকে বেঁচে যান। কিন্তু বাল্য বিয়ের বর এয়াকুব আলী খাঁ আনসার ব্যাটালিয়নে চাকরি করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভ্রাম্যমান আদালত থেকে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সুপারিশে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিবাহ রেজিষ্টার অবৈধ ভাবে এই বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব