০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

রাউজানে জোরপূর্বক জায়গা দখল, দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের 

চট্টগ্রামে রাউজান সদর ৭নং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে রমজান আলীর হাটের দক্ষিণে আর্য মৈত্রেয় স্কুলপ্রয়াত ভূবন মোহনের দীর্ঘ বছরের পুরানো বসতভিটার উঠান দখলের অভিযোগ করেছে পলাশ কান্তি বড়ুয়া (৪৫)। বিবাদী বিমল বড়ুয়া (৬৮),ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে জোরপূর্বক বসতভিটার উঠান দখল করে চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দেয়। বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া বাধা দিলে তাকে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারধর ও চুরি দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁর বৃদ্ধা মাকেও মেরে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এনিয়ে বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া রাউজান থানায় ১টি অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ফলশ্রুতিতে রাউজান থানায় কয়েকবার বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান বাদী। উল্টো বিবাদী বিমল বড়ুয়ার ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু বাদী পলাশ বড়ুয়াকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। 

এর আগে বিবাদী বিমল বড়ুয়া, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু এলাকাবাসীকে মিথ্যাচার করে সন্ত্রাসী দিয়ে প্রয়াত ভূবন মোহনের মুর্শি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে টিন দিয়ে ঘেরা দিয়ে দেয়। তাদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেয় তারা। এতে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নেয় এবং সংসদ সদস্য এ বি এমন ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ‘র দ্বারস্থ হলে এমপি তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন চলাচলের রাস্তায় কেউ যেন কখনো বাধা সৃষ্টি না করে এবং এখুনি যেন খুলে দেয়া হয়।  চেয়ারম্যান পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশে অন্যের জয়গায় চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা খুলে দেন। যে রাস্তা দিয়ে পূর্ব পুরুষ চলাচল করতো সে রাস্তা খুলে দিতে পারেননি বলে জানা যায়। 

এই ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভূবন মোহন বড়ুয়ার মুর্শি সম্পত্তি জোরপূর্বক বসত ভিটার উঠান দখল করে নেয় বিমল বড়ুয়া গং, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু। গত ২০ আগস্ট সকালে বেশকিছু লোকজন এসে এই জায়গাতে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে দিতে দেখা যায়। 

তিনি বলেন, পলাশ ও তাঁর বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে। ভূবন মোহনের চলাচলের পথ ও উঠানে মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেস্টিক্রিয়া পূর্ব বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো, এখন দেখি এই বসতভিটা দখল করে নিয়েছে বিমল বড়ুয়া গং। তারা যদি আইন অনুযায়ী রায় পেয়ে থাকে তাহলে জোর করে দখল করার কি আছে!?

ঘটনার বিষয়ে পলাশ কান্তি বড়ুয়া বলেন, “আমাদের পুরানো বসতভিটার উঠান ও পূর্ব পুরুষের চলাচলের রাস্তাসহ গত ২০ আগস্ট ১২-১৫ জন সন্ত্রাসী দিয়ে সকালে জোরপূর্বক দখল করে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে দেয় বিমল বড়ুয়া গং, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠুসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা । আমি বাধা দিলে তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আমাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে রাউজান থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমাদের এই জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে আদালতে। আমাদের খতিয়ান নাম্বারের একটি নাম্বার ভুল হওয়ায় আদালত সম্প্রতি খারিজ করে মামলাটি। ভুলটা হতেই পারে, তার মানে এই নয় যে জায়গা তারা পেয়েছে!! তারা এটাকে পুঁজি করে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে বিমল বড়ুয়া রায় পেয়েছে। আদালত কোন রায় দেয়নি। গত ২৩ আগস্ট চট্রগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলা খারিজ হলেও আদালতের একটি সময়সীমা থাকে আপিল করার। কিন্তু বিমল বড়ুয়া গং আইন না মেনে, আমাদের কোন সুযোগ না দিয়ে, কোন কথা না শুনে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক বসতভিটা দখল করে নেয়। তারা আমাকেও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি, হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবার এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। 

এর আগে পলাশ কান্তি বড়ুয়া নিরাপত্তার স্বার্থে রাউজান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জি ডি নং ৯২০ অভিযোগে বলা হয়, বিমল (গং) দেশের প্রচলিত আইন গ্রাম্য সালিশ বিচার কিছু মানে না – পশ্চিম রাউজান মৌজার আর এস খতিয়ান – নং ১০৭২, আর এস দাগের -১১৪৩০ অনুরুপ বিএস খতিয়ান নং- ২০৮৩, বি এস দাগ নং- ১৩৬৩৪ দাগের ১গন্ডা,১ কড়া,২ কন্ট, ভিটা বাড়ীর বিরোধ চলছে বিমল গং এর সাথে। আমার রেজিস্ট্রার খরিদ সূত্রে প্রাপ্ত আমার নিজ দখলীয় জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিগত ৯ বছর ধরে বিরোধ চলছে এবং উক্ত জায়গার বিষয়ে ২০১৪ সালে সংশোধনী মামলা করে পলাশ কান্তি বড়ুয়া। আদালত মামলাটি খারিজ করার পর পরবর্তীতে আপিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। 

এ ঘটনার বিষয়ে শুভম বড়ুয়া মিঠু জানান, এই জায়গাটি আমাদের মুর্শি সম্পত্তি। তাঁরা জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা করেছিল। কিন্তু আদালত আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার কারণে আমরা রায় পাই! তার কাছে প্রশ্ন ছিল? যদি আপনারা রায় পেয়ে থাকেন তাহলে লোকজন নিয়ে গিয়ে দখল করলেন কেন? তিনি বলেন, আমরা কোন দখল করি নাই। জায়গাটি আমাদের দখলে ছিল। জায়গাতে আমাদের গাছপালা ছিল ঘরও ছিল। আমরা সংস্কার করেছি। তাঁরা আমাদের নামে মিথ্যাচার করছে। আর এ বিষয়ে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলাম এবং চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তাহলে চেয়ারম্যান কি আপনাদের দখল করার জন্য বললো? তখন মিঠু কোন উত্তর দেননি। শুধু বললো, জায়গাটি আমাদের দখলে ছিল। 
পুরানো টিনগুলো নতুন করে লাগিয়েছি।
মিঠু বলেন, আমরা কাউকে মারধর করি নাই। তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। প্রশ্ন, তাহলে থানায় অভিযোগ করেছে কেন, আপনার পিতার নামে? তখন‌ শুভম বড়ুয়া মিঠু বলেন, আপনিতো সাংবাদিকতায় আছেন! এই রকম অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে সব ঘটনা কি সত্য হয়। 

তিনি আরও বলেন, জায়গাটি আগেও আমাদের দখলে ছিল এখনো আছে। আমাদের জায়গা আমরা কেন জোরপূর্বক দখল করবো। বাদী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছে, আপনারা গত ২০ আগস্ট সকালে ১২-১৫ জন লোকজন নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক দখল করেছেন। তখন তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমরা দখল করি নাই, শুধু সংস্কার করেছি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা উল্টো চিত্র, রাউজান সদর ৭নং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে রমজান আলী হাট এলাকার ভেতরে কাঁচা রাস্তার পাশে নতুন টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া। তাঁর পিছনে ভূবন মোহনের বাড়ি। আ র পাশে রয়েছে বিবাদী বিমল বড়ুয়া’র বাড়ি। 

এদিকে বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া ২৮ আগস্ট আদালত আপিল করলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জায়গাটিতে। আর আদেশে উল্লেখ আছে। নোটিশ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে ১-৪ নং রেসপডেন্ট-কে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইল। ইত্যবসরে আগমী ধার্য তারিখ পর্যন্ত নালিশী ভূমিতে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া গেল। 

রাউজানের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাটা দেখতে গিয়েছি, এবং গিয়ে দেখলাম ঐই কানে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দেওয়া হয়েছে। এই জায়গায় চলাচলের পথ বের করে দিয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার। এরপর আদালতে মামলা চলমান আছে তাঁর জন্য আমরা কোন প্রদক্ষেপ নিয় নাই। এই জায়গাতে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যেই যে ভাবে আছে সেই ভাবে থাকার জন্য। আদালত যদি আমাদের কে নির্দেশনা দেয় তখন আমরা অবৈধ স্থাপনা যা আছে সেগুলো উচ্ছেদ করে দিবো।  

এবিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ যখন দিয়েছে এটি ব্যবস্থা হয়েছে পলাশ ভালো বলতে পারবে। পরবর্তীতে আর কোন ঘটনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটেনি। এবিষয়ে একজন এ এস আই কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে বলতে পারবে। এটি আমি বলতে পারবো না ?
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রাউজানে জোরপূর্বক জায়গা দখল, দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের 

প্রকাশিত : ০৭:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

চট্টগ্রামে রাউজান সদর ৭নং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে রমজান আলীর হাটের দক্ষিণে আর্য মৈত্রেয় স্কুলপ্রয়াত ভূবন মোহনের দীর্ঘ বছরের পুরানো বসতভিটার উঠান দখলের অভিযোগ করেছে পলাশ কান্তি বড়ুয়া (৪৫)। বিবাদী বিমল বড়ুয়া (৬৮),ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে জোরপূর্বক বসতভিটার উঠান দখল করে চারদিকে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দেয়। বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া বাধা দিলে তাকে উলঙ্গ করে বেধড়ক মারধর ও চুরি দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁর বৃদ্ধা মাকেও মেরে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এনিয়ে বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া রাউজান থানায় ১টি অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ফলশ্রুতিতে রাউজান থানায় কয়েকবার বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি বলে জানান বাদী। উল্টো বিবাদী বিমল বড়ুয়ার ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু বাদী পলাশ বড়ুয়াকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। 

এর আগে বিবাদী বিমল বড়ুয়া, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু এলাকাবাসীকে মিথ্যাচার করে সন্ত্রাসী দিয়ে প্রয়াত ভূবন মোহনের মুর্শি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে টিন দিয়ে ঘেরা দিয়ে দেয়। তাদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেয় তারা। এতে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নেয় এবং সংসদ সদস্য এ বি এমন ফজলে করিম চৌধুরী এমপি ‘র দ্বারস্থ হলে এমপি তাৎক্ষণিক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন চলাচলের রাস্তায় কেউ যেন কখনো বাধা সৃষ্টি না করে এবং এখুনি যেন খুলে দেয়া হয়।  চেয়ারম্যান পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশে অন্যের জয়গায় চলাচলের জন্য সামান্য জায়গা খুলে দেন। যে রাস্তা দিয়ে পূর্ব পুরুষ চলাচল করতো সে রাস্তা খুলে দিতে পারেননি বলে জানা যায়। 

এই ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভূবন মোহন বড়ুয়ার মুর্শি সম্পত্তি জোরপূর্বক বসত ভিটার উঠান দখল করে নেয় বিমল বড়ুয়া গং, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠু। গত ২০ আগস্ট সকালে বেশকিছু লোকজন এসে এই জায়গাতে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে দিতে দেখা যায়। 

তিনি বলেন, পলাশ ও তাঁর বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে। ভূবন মোহনের চলাচলের পথ ও উঠানে মৃত ব্যক্তির অন্ত্যেস্টিক্রিয়া পূর্ব বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো, এখন দেখি এই বসতভিটা দখল করে নিয়েছে বিমল বড়ুয়া গং। তারা যদি আইন অনুযায়ী রায় পেয়ে থাকে তাহলে জোর করে দখল করার কি আছে!?

ঘটনার বিষয়ে পলাশ কান্তি বড়ুয়া বলেন, “আমাদের পুরানো বসতভিটার উঠান ও পূর্ব পুরুষের চলাচলের রাস্তাসহ গত ২০ আগস্ট ১২-১৫ জন সন্ত্রাসী দিয়ে সকালে জোরপূর্বক দখল করে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দিয়ে দেয় বিমল বড়ুয়া গং, ছেলে শুভম বড়ুয়া মিঠুসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা । আমি বাধা দিলে তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার বৃদ্ধা মাকেও মারধর করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আমাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে রাউজান থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমাদের এই জায়গাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে আদালতে। আমাদের খতিয়ান নাম্বারের একটি নাম্বার ভুল হওয়ায় আদালত সম্প্রতি খারিজ করে মামলাটি। ভুলটা হতেই পারে, তার মানে এই নয় যে জায়গা তারা পেয়েছে!! তারা এটাকে পুঁজি করে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে বিমল বড়ুয়া রায় পেয়েছে। আদালত কোন রায় দেয়নি। গত ২৩ আগস্ট চট্রগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলা খারিজ হলেও আদালতের একটি সময়সীমা থাকে আপিল করার। কিন্তু বিমল বড়ুয়া গং আইন না মেনে, আমাদের কোন সুযোগ না দিয়ে, কোন কথা না শুনে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক বসতভিটা দখল করে নেয়। তারা আমাকেও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি, হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এবং আমার পরিবার এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। 

এর আগে পলাশ কান্তি বড়ুয়া নিরাপত্তার স্বার্থে রাউজান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জি ডি নং ৯২০ অভিযোগে বলা হয়, বিমল (গং) দেশের প্রচলিত আইন গ্রাম্য সালিশ বিচার কিছু মানে না – পশ্চিম রাউজান মৌজার আর এস খতিয়ান – নং ১০৭২, আর এস দাগের -১১৪৩০ অনুরুপ বিএস খতিয়ান নং- ২০৮৩, বি এস দাগ নং- ১৩৬৩৪ দাগের ১গন্ডা,১ কড়া,২ কন্ট, ভিটা বাড়ীর বিরোধ চলছে বিমল গং এর সাথে। আমার রেজিস্ট্রার খরিদ সূত্রে প্রাপ্ত আমার নিজ দখলীয় জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিগত ৯ বছর ধরে বিরোধ চলছে এবং উক্ত জায়গার বিষয়ে ২০১৪ সালে সংশোধনী মামলা করে পলাশ কান্তি বড়ুয়া। আদালত মামলাটি খারিজ করার পর পরবর্তীতে আপিল করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। 

এ ঘটনার বিষয়ে শুভম বড়ুয়া মিঠু জানান, এই জায়গাটি আমাদের মুর্শি সম্পত্তি। তাঁরা জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা করেছিল। কিন্তু আদালত আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার কারণে আমরা রায় পাই! তার কাছে প্রশ্ন ছিল? যদি আপনারা রায় পেয়ে থাকেন তাহলে লোকজন নিয়ে গিয়ে দখল করলেন কেন? তিনি বলেন, আমরা কোন দখল করি নাই। জায়গাটি আমাদের দখলে ছিল। জায়গাতে আমাদের গাছপালা ছিল ঘরও ছিল। আমরা সংস্কার করেছি। তাঁরা আমাদের নামে মিথ্যাচার করছে। আর এ বিষয়ে নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলাম এবং চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তাহলে চেয়ারম্যান কি আপনাদের দখল করার জন্য বললো? তখন মিঠু কোন উত্তর দেননি। শুধু বললো, জায়গাটি আমাদের দখলে ছিল। 
পুরানো টিনগুলো নতুন করে লাগিয়েছি।
মিঠু বলেন, আমরা কাউকে মারধর করি নাই। তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। প্রশ্ন, তাহলে থানায় অভিযোগ করেছে কেন, আপনার পিতার নামে? তখন‌ শুভম বড়ুয়া মিঠু বলেন, আপনিতো সাংবাদিকতায় আছেন! এই রকম অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে সব ঘটনা কি সত্য হয়। 

তিনি আরও বলেন, জায়গাটি আগেও আমাদের দখলে ছিল এখনো আছে। আমাদের জায়গা আমরা কেন জোরপূর্বক দখল করবো। বাদী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছে, আপনারা গত ২০ আগস্ট সকালে ১২-১৫ জন লোকজন নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক দখল করেছেন। তখন তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমরা দখল করি নাই, শুধু সংস্কার করেছি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা উল্টো চিত্র, রাউজান সদর ৭নং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে রমজান আলী হাট এলাকার ভেতরে কাঁচা রাস্তার পাশে নতুন টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া। তাঁর পিছনে ভূবন মোহনের বাড়ি। আ র পাশে রয়েছে বিবাদী বিমল বড়ুয়া’র বাড়ি। 

এদিকে বাদী পলাশ কান্তি বড়ুয়া ২৮ আগস্ট আদালত আপিল করলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জায়গাটিতে। আর আদেশে উল্লেখ আছে। নোটিশ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে ১-৪ নং রেসপডেন্ট-কে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইল। ইত্যবসরে আগমী ধার্য তারিখ পর্যন্ত নালিশী ভূমিতে উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া গেল। 

রাউজানের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাটা দেখতে গিয়েছি, এবং গিয়ে দেখলাম ঐই কানে টিন দিয়ে ঘেরাবেড়া দেওয়া হয়েছে। এই জায়গায় চলাচলের পথ বের করে দিয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার। এরপর আদালতে মামলা চলমান আছে তাঁর জন্য আমরা কোন প্রদক্ষেপ নিয় নাই। এই জায়গাতে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যেই যে ভাবে আছে সেই ভাবে থাকার জন্য। আদালত যদি আমাদের কে নির্দেশনা দেয় তখন আমরা অবৈধ স্থাপনা যা আছে সেগুলো উচ্ছেদ করে দিবো।  

এবিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ যখন দিয়েছে এটি ব্যবস্থা হয়েছে পলাশ ভালো বলতে পারবে। পরবর্তীতে আর কোন ঘটনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন ঘটনা ঘটেনি। এবিষয়ে একজন এ এস আই কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে বলতে পারবে। এটি আমি বলতে পারবো না ?
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ