১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী শৈলেনের ভাইপো বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ শলুয়াবাসীর মানববন্ধন

ডুমুরিয়া উপজেলার একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী শৈলেন। বর্তমানে ভাইপো বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ শলুয়াবাসী খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে স্মৃতি লতা রায় বক্তব্যে বলেন, ভাইপো বাহিনী আমার বাড়ি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখল করে আছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, ভাইপো ও মৃত্যু সেতু বিশ্বাস এর পূত্র সন্ত্রাসী উজ্জ্বল বিশ্বাস যার আস্ত্র, মাদক, মাডার সহ একাধিক মামলা-সহ শত শত অভিযোগ ও জিডি আড়ংঘটা থানা ও ডুমুরিয়া থানায় রয়েছে।
সন্ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করতে শলুয়াবাসীর উপর হামলা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে ভাইপো বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় আড়ংঘাটা থানার অধীন বিল শলুয়া মৌজা পোন্ডার নং- ২৫, এল.এ কেস নং ১৬/৫১-৫২ জমির শ্রেণি ডাঙ্গা দাগ নং- ৪০৫ রংপুর সড়ক লাগোয়া ০.১৩ একর জমি।
যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিগত ২০০৮ সাল থেকে ডিসিআর মূলে ভোগদখলদার আমি স্মৃতি লতা রায় কর-খাজনা পরিশোধ করে আসছি। সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা আমার বসতভিটা ও মৎস্য ঘের দখল করেন।
উজ্জ্বল বিশ্বাস, তরুণ সরকার, পারভিন বেগম, আসলাম গাজী, চিত্র মন্ডল সহ ৪/৫ জন একত্রিত হয়ে ডিসিআরকৃত সম্পত্তির বাড়ি ও মৎস্য ঘেড় জোর পূর্বক দখল করেন। এ অবস্থায় স্মৃতি লতা রায় তাদের সাথে দেখা করে তাদের কাছে জানতে চান আমার মৎস্য ঘেরে আপনারা কেন।
তখন তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে জীবননাশের হুমকি দিয়ে এই সম্পত্তি তাদের দাবী করেন।
এরপর থেকে জীবনের ভয়ে স্মৃতি লতা রায়ের ঘের প্রায় দুই বছর যাবৎ সন্ত্রাসীদের দখলে। মানববন্ধনে বক্তব্যে বলেন, স্মৃতি লতা রায়ের বাড়ি ও মৎস্য ঘেড় দখল এবং হারির টাকা ভাগাভাগি করে নেয় সন্ত্রাসীরা। শলুয়াবাসীরা গত দুই বছরে সন্ত্রাসদের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। এতে ভয়-ভীতিতে রয়েছেন শলুয়াবাসী।
এবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তাই এলাকাবাসী মানববন্ধনে যোগ দিয়েছেন। এই বাহিনীর সকল সদস্যদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্মৃতি লতা রায়ের জমিতে থাকা ধান ভাঙ্গানোর মেশিন সরিয়ে নেয়ার কথা বলে জমির এক অংশ ঘেরাবেরা দেয় এবং জোর করে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে নেয়। এ বিষয় নিয়ে স্মৃতি লতা কথা বলতে গেলে চিত্ত মন্ডল ও উজ্জ্বল বিশ্বাস অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে স্মৃতি লতাকে গুলি করে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
তাদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য চিৎকার দিলে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে এলাকাবাসী ও পথচারীরা ছুটে আসেন। তখন তাদের সামনে সন্ত্রাসীরা বলেন, কাউকে কিছু বললে বা কোন প্রকার থানা পুলিশ করলে স্মৃতি লতাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এমতাবস্থায় স্মৃতি লতা ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাশনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
মানববন্ধনে আরোও উপস্থিত ছিলেন সুজন শেখ, রবিউল গাজী, সবুর শেখ, আমজাদ গাজী, দীপ্তি কীর্তনীয়া, শেফালী মল্লিক, প্রতিমা বিশ্বাস, নুরজাহান বেগম, শাহিনুর, অনিমা মল্লিক, শান্তি মল্লিক। এসময় বক্তারা আরও বলেন, সন্ত্রাসী শৈলেনের ভাইপো উজ্জ্বল বিশ্বাস ও তার বাহিনী ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারে বলে আশংকা করছেন শলুয়াবাসী। আড়ংঘাটা থানার অধীন শলুয়া এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের কাছে দাবি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শীর্ষ সন্ত্রাসী শৈলেনের ভাইপো বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ শলুয়াবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৬:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ডুমুরিয়া উপজেলার একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী শৈলেন। বর্তমানে ভাইপো বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ শলুয়াবাসী খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে স্মৃতি লতা রায় বক্তব্যে বলেন, ভাইপো বাহিনী আমার বাড়ি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখল করে আছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, ভাইপো ও মৃত্যু সেতু বিশ্বাস এর পূত্র সন্ত্রাসী উজ্জ্বল বিশ্বাস যার আস্ত্র, মাদক, মাডার সহ একাধিক মামলা-সহ শত শত অভিযোগ ও জিডি আড়ংঘটা থানা ও ডুমুরিয়া থানায় রয়েছে।
সন্ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করতে শলুয়াবাসীর উপর হামলা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে ভাইপো বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় আড়ংঘাটা থানার অধীন বিল শলুয়া মৌজা পোন্ডার নং- ২৫, এল.এ কেস নং ১৬/৫১-৫২ জমির শ্রেণি ডাঙ্গা দাগ নং- ৪০৫ রংপুর সড়ক লাগোয়া ০.১৩ একর জমি।
যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিগত ২০০৮ সাল থেকে ডিসিআর মূলে ভোগদখলদার আমি স্মৃতি লতা রায় কর-খাজনা পরিশোধ করে আসছি। সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা আমার বসতভিটা ও মৎস্য ঘের দখল করেন।
উজ্জ্বল বিশ্বাস, তরুণ সরকার, পারভিন বেগম, আসলাম গাজী, চিত্র মন্ডল সহ ৪/৫ জন একত্রিত হয়ে ডিসিআরকৃত সম্পত্তির বাড়ি ও মৎস্য ঘেড় জোর পূর্বক দখল করেন। এ অবস্থায় স্মৃতি লতা রায় তাদের সাথে দেখা করে তাদের কাছে জানতে চান আমার মৎস্য ঘেরে আপনারা কেন।
তখন তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে জীবননাশের হুমকি দিয়ে এই সম্পত্তি তাদের দাবী করেন।
এরপর থেকে জীবনের ভয়ে স্মৃতি লতা রায়ের ঘের প্রায় দুই বছর যাবৎ সন্ত্রাসীদের দখলে। মানববন্ধনে বক্তব্যে বলেন, স্মৃতি লতা রায়ের বাড়ি ও মৎস্য ঘেড় দখল এবং হারির টাকা ভাগাভাগি করে নেয় সন্ত্রাসীরা। শলুয়াবাসীরা গত দুই বছরে সন্ত্রাসদের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। এতে ভয়-ভীতিতে রয়েছেন শলুয়াবাসী।
এবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তাই এলাকাবাসী মানববন্ধনে যোগ দিয়েছেন। এই বাহিনীর সকল সদস্যদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। স্মৃতি লতা রায়ের জমিতে থাকা ধান ভাঙ্গানোর মেশিন সরিয়ে নেয়ার কথা বলে জমির এক অংশ ঘেরাবেরা দেয় এবং জোর করে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়ার টাকা নিয়ে নেয়। এ বিষয় নিয়ে স্মৃতি লতা কথা বলতে গেলে চিত্ত মন্ডল ও উজ্জ্বল বিশ্বাস অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে স্মৃতি লতাকে গুলি করে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
তাদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য চিৎকার দিলে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে এলাকাবাসী ও পথচারীরা ছুটে আসেন। তখন তাদের সামনে সন্ত্রাসীরা বলেন, কাউকে কিছু বললে বা কোন প্রকার থানা পুলিশ করলে স্মৃতি লতাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এমতাবস্থায় স্মৃতি লতা ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাশনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
মানববন্ধনে আরোও উপস্থিত ছিলেন সুজন শেখ, রবিউল গাজী, সবুর শেখ, আমজাদ গাজী, দীপ্তি কীর্তনীয়া, শেফালী মল্লিক, প্রতিমা বিশ্বাস, নুরজাহান বেগম, শাহিনুর, অনিমা মল্লিক, শান্তি মল্লিক। এসময় বক্তারা আরও বলেন, সন্ত্রাসী শৈলেনের ভাইপো উজ্জ্বল বিশ্বাস ও তার বাহিনী ক্ষয়-ক্ষতি করতে পারে বলে আশংকা করছেন শলুয়াবাসী। আড়ংঘাটা থানার অধীন শলুয়া এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের কাছে দাবি সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ