০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

 নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পাবে ২০ হাজার টাকা

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারী শিশুসহ ছয় জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের গোলচত্ত¡র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত আট জন আহত হয়েছে। এ দিকে দুঘর্টনার কারন জানতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতরা হচ্ছে, নিহত মাইক্রোবাসের চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে দুলাল হোসেন (৫২), পাবনার বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) জহিরুল ইসলাম (৫০), বগুড়া সদরের জলসিড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রিফাত (৩৫), নাটোর সদরের বড়াই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে তামিম (৭), রুবি বেগম (৬৫)। অপর শিশুর নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরবঙ্গমুখি লেনে চলে যায়। অপর দিকে টাঙ্গাইল দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বাসটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমরে মুচরে যায়। ঘটনাস্থলে তিন জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আরও তিন জনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দীনসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসারত আহতদের খোঁজ খবর নেন।
একতা একপ্রেস বাসের হেলপার জাকির হোসেন জানান, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা তার বাসবাসটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের গোল চত্ত¡র এলাকায় পৌঁছায়। তাদের সামনে থাকা মাইক্রোবাসটিকে পাশ কাটাতে ব্যর্থ হয় বাসের চালক আজিজ সিকদার। অতিরিক্ত গতি থাকায় ব্রেক কষতেই ভেসে উঠে বাসটি। বাসটি ভেসে উঠার সাথে সাথে জাকির ভেবেছিলেন মৃত্যু তার নিশ্চিৎ। তার দিকেই বাসটি পড়ে গিয়েছিল। এমন সময় জানালার গøাস ভেঙে ধীরে ধীরে বাস থেকে বেড়িয়ে আসে জাকির। অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। পরে জাকিরকে স্থানীয়রা টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হেলপার, সুপারভাইজারকে হাসপাতালে ভর্তির খোঁজ মিললেও মেলেনি বাসটির চালক আজিজের খোঁজ। আজিজের মেয়ের জামাতা জাহাঙ্গীর ও তার মেয়ে বিকেল চারটা পর্যন্তও হাসপাতালে খোঁজ পায়নি তার।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা বাসের যাত্রী নাটোরের নলডাঙ্গার মনির হোসেন বলেন, আমার ভাগ্নে উৎসবকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। উৎসবের ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ ছিলো। বাসটি নিমিশেই এপাশ থেকে অপর পাশে উল্টে গিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে যায়। কখনও ভাবিনি এখান থেকে বেচেঁ ফিরতে পারবো। আল্লাহর রহমতে আমরা মামা-ভাগ্নে দুজনেই বেঁচে আছি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস উল্টে গিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে। তবে নিহতদের অধিকাংশের বাড়িই উত্তরবঙ্গে।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রæটি বা ব্রেক ফেল করার কারনে বাসটি লেন পরিবর্তন করেন। ফলে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ পুলিশের কাছে আসলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাদের পরিবারের কেউ না আসলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলেই তিন জন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো তিন জনের মৃত্যু হয়। আহতদেরও আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়াও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিকৃত আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন কারো ওষুধ লাগলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাইরে থেকে কিনে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেমকে প্রধান করে বিআরটিএ, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

আশুগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৪ মাদক কারবারি আটক

 নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পাবে ২০ হাজার টাকা

প্রকাশিত : ০৭:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নারী শিশুসহ ছয় জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের গোলচত্ত¡র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত আট জন আহত হয়েছে। এ দিকে দুঘর্টনার কারন জানতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতরা হচ্ছে, নিহত মাইক্রোবাসের চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে দুলাল হোসেন (৫২), পাবনার বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) জহিরুল ইসলাম (৫০), বগুড়া সদরের জলসিড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রিফাত (৩৫), নাটোর সদরের বড়াই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে তামিম (৭), রুবি বেগম (৬৫)। অপর শিশুর নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরবঙ্গমুখি লেনে চলে যায়। অপর দিকে টাঙ্গাইল দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বাসটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমরে মুচরে যায়। ঘটনাস্থলে তিন জনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার আরও তিন জনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দীনসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসারত আহতদের খোঁজ খবর নেন।
একতা একপ্রেস বাসের হেলপার জাকির হোসেন জানান, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা তার বাসবাসটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশের গোল চত্ত¡র এলাকায় পৌঁছায়। তাদের সামনে থাকা মাইক্রোবাসটিকে পাশ কাটাতে ব্যর্থ হয় বাসের চালক আজিজ সিকদার। অতিরিক্ত গতি থাকায় ব্রেক কষতেই ভেসে উঠে বাসটি। বাসটি ভেসে উঠার সাথে সাথে জাকির ভেবেছিলেন মৃত্যু তার নিশ্চিৎ। তার দিকেই বাসটি পড়ে গিয়েছিল। এমন সময় জানালার গøাস ভেঙে ধীরে ধীরে বাস থেকে বেড়িয়ে আসে জাকির। অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। পরে জাকিরকে স্থানীয়রা টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হেলপার, সুপারভাইজারকে হাসপাতালে ভর্তির খোঁজ মিললেও মেলেনি বাসটির চালক আজিজের খোঁজ। আজিজের মেয়ের জামাতা জাহাঙ্গীর ও তার মেয়ে বিকেল চারটা পর্যন্তও হাসপাতালে খোঁজ পায়নি তার।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা বাসের যাত্রী নাটোরের নলডাঙ্গার মনির হোসেন বলেন, আমার ভাগ্নে উৎসবকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। উৎসবের ঢাকায় চাকরির ইন্টারভিউ ছিলো। বাসটি নিমিশেই এপাশ থেকে অপর পাশে উল্টে গিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে যায়। কখনও ভাবিনি এখান থেকে বেচেঁ ফিরতে পারবো। আল্লাহর রহমতে আমরা মামা-ভাগ্নে দুজনেই বেঁচে আছি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস উল্টে গিয়ে মাইক্রোবাসের ওপর পড়ে যায়। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে। তবে নিহতদের অধিকাংশের বাড়িই উত্তরবঙ্গে।
পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রæটি বা ব্রেক ফেল করার কারনে বাসটি লেন পরিবর্তন করেন। ফলে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ পুলিশের কাছে আসলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাদের পরিবারের কেউ না আসলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলেই তিন জন ও হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো তিন জনের মৃত্যু হয়। আহতদেরও আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়াও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিকৃত আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন কারো ওষুধ লাগলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাইরে থেকে কিনে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেমকে প্রধান করে বিআরটিএ, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ