আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির চুলা। এক সময় গ্রামের মানুষের রান্নার মূল উপাদান ছিল মাটির চুলা। শীতকাল এলেই মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত বাড়ির নারীরা ঘরের মাঝে বা পাশে মাটির চুলা তৈরি করতেন। আর এগুলো তৈরি করতে ব্যবহার হতো ফসলি জমির এঁটেল মাটি।
চুলা বানাতে প্রথমে মাটিতে বিশেষভাবে গর্ত করে চুলা বানানো হয়। গর্তের উপর থাকে মাটির তিনটি অনুচ্চ স্তম্ভ দেওয়া হয়। এই স্তম্ভগুলোর ওপরই হাঁড়ি বা পাতিল বসিয়ে রান্না করা হয়। একমুখো ও দুমুখো ধরনের চুলার ব্যবহার ছিল সর্বাধিক। প্রতিটি চুলায় সাধারণত একটি করে জ্বালানি প্রবেশের মুখ থাকে। যেসব চুলায় একটি হাঁড়ি বসানো যায়, সেটিই একমুখো চুলা। যে চুলায় দুটি হাঁড়ি বসানো যায়, সেগুলো দুমুখো চুলা। দুমুখো মাটির চুলা দিয়ে সাধারণত বাড়িতে ধান সিদ্ধ বা অনুষ্ঠানের খাবার রান্নার জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া তোলা চুলা বলে এক ধরনের চুলা আছে। মূলত এটি একমুখো চুলা। তবে এটি তৈরি করা হয় পরিত্যক্ত গামলার মাটি দিয়ে। সাধারণত হালকা খাবার রান্না, খাবার গরম করা, দুধ গরম করা, চা তৈরি ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহার করা হতো। বিশেষ প্রয়োজনে এটিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনায়াসে নিয়ে যাওয়া যায়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে এর ব্যবহার চোখে পড়ে। সাধারণত এসব চুলায় কাঠ, বাঁশ, খড়কুটো, পাটশোলা, শুকনো পাতা, ঘষি প্রভৃতি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মাটির চুলার ছাই সবজি চাষে কাজে বা মাছ কাটতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গ্রামবাংলায় এখনো অনেক পরিবার হাঁড়ি-পাতিল ধুতে ছাই ব্যবহার করে। শীতেরদিনে মাটির চুলা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের জন্য চুলারপাড়ে বসতো মা বোনসহ গ্রাম বাঙলার মানুষেরা। একটি মাটির চুলা তৈরি করতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে।
বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া গ্রামের নুরুন্নাহার বলেন, পুরনো মাটির আইশাল (চুলা) গুলা ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। আইশাল ঘরের (রান্নাঘর) আইশাল যত পুরান অয়, তার মইদে মাটি পুড়তে পুড়তে তত বেশি নাল হয়। পুরান আইশাল তাপ বেশি ছড়ায়। কিন্তু চুলা সংস্কারের জন্য মাঝে মাঝে কাদামাটির পোচ দেওয়া নাগে।
একই গ্রামের ফজিলা (৬৮) বলেন, আগের চুলা গুলোর নাম ছিল দো-চুলা, কয়লা চুলা, পাশ কাঁটা চুলা, আলোক চুলা।
চরকগাচিয়া গ্রামের মাজেদা বেগম (৭৫) বলেন, থোও তোমার নোয়ার আইশাল (গ্যাসের চুলা) এর চায়া (এর চেয়ে) মাটির আইশালি বালো। কিজানি টিবি দেয় আর বুচ্চুত কইরা আগুন জইলা ওটে। দেকলি বয়ই (ভয়) করে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















