প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারির দাবিতে বুধবার দেশব্যাপী মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাকারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরূল হক নূর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুরূল হক নূর বলেন, আমরা কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। গত ৮ এপ্রিল শাহবাগে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ রাতভর নির্যাতন চালায়। তার প্রতিবাদে ৯ এপ্রিল সারা বাংলার ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফুসে উঠে।
তিনি বলেন, ওইদিনই ১৮ জনের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং সেখানে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় যে, ৭ মে এর মধ্যে কোটা সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা তা মেনে নেয় এবং ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করি।
নূর বলেন, ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসের পরও কিছু মন্ত্রী বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেন। ফলে আমরা আবার রাজপথে আন্দোলনে নামি। রাজপথে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা বাতিল ঘোষণা করেন। আর আমরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করে কোটা বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দাবি করি।
তিনি বলেন, আর এ প্রজ্ঞাপনের লক্ষ্যে ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের সঙ্গে আমরা ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনে বৈঠকে বসি। বৈঠকে আমাদেরকে প্রধাবমন্ত্রী দেশে ফিরলে ৭ মে’র মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে আশ্বাস দেয়া হয়।
নূর বলেন, দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ৭ মে পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আর প্রজ্ঞাপন জারির না করায় ছাত্রসমাজের মাঝে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে দেয়া আশ্বাসের কথা রাখা হয়নি। তাই আমরা কোটা প্রজ্ঞাপনের দাবিতে আগামীকাল (বুধবার) সকাল ১১টায় দেশব্যাপী সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ঘোষণা করলাম। আর কেন্দ্রীয় কমিটির মানববন্ধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। কিন্তু আজকে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে না। ছাত্রসমাজের সাথে নাটক করা হচ্ছে।

























